প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পদদলনের ঘটনায় নানা প্রশ্ন

ডেস্ক রিপোর্ট : চট্টগ্রামের প্রয়াত সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর কুলখানির মেজবানে পদদলিত হয়ে মর্মান্তিক মৃত্যুকে ঘিরে নানা মুখে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। মহিউদ্দিন চৌধুরীর পরিবার ও তার রাজনৈতিক অনুসারীরা এ ঘটনা ‘পূর্বপরিকল্পিত’ নাশকতার ঘটনা কি না তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু প্রশাসন বলছে ঘটনাটি নিছক দুর্ঘটনা। এর পরও মর্মান্তিক এ ঘটনার আসল কারণ অনুসন্ধানে পৃথক দুটি কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন ও চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি)।

রীমা কমিউনিটি সেন্টারে পদদলিতের ঘটনাটি পরিকল্পিত নাশকতা বলে সন্দেহ করছেন এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর ছেলে ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। তিনি বলেন, ‘এ ঘটনার সঙ্গে নাশকতার সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। কেউ হয়তো পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে। আমাদের বিশ্বাস, তদন্তে আসল সত্য বের হয়ে আসবে।’ তিনি বলেন, ‘অতীতে আমাদের পরিবারের পক্ষ থেকে অনেক মেজবানের আয়োজন করা হয়েছে। এ ছাড়া রীমা কমিউনিটি সেন্টারে আগেও বহু মেজবান হয়েছে। তখন কিছু হয়নি। হঠাৎ করে এ ধরনের ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত।’ পদদলিতের এ ঘটনা স্বাভাবিক নয় বলে দাবি করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি। তিনি বলেন, ‘রীমা কমিউনিটি সেন্টারের বাইরে নগরীর আরও ১৪টি স্পটে মেজবান আয়োজন করা হয়। ওখানে বিশৃঙ্খলা হয়নি। এখানে কেন এত বড় ঘটনা ঘটল তা তদন্ত করা উচিত।’ তিনি বলেন, ‘রীমা কমিউনিটি সেন্টারে লোকজনের অস্বাভাবিক ভিড় ছিল না। এ ধরনের ভিড়ের মধ্যে এত বড় ঘটনা হওয়ার কথা নয়। ওইখানে কিছু ছেলে বিশৃঙ্খলা করেছে বলে শুনেছি। আশা করছি সুষ্ঠু তদন্তে আসল সত্য বের হয়ে আসবে।’ সিএমপি গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান ও দক্ষিণ জোনের উপকমিশনার এস এম মোস্তাইন হোসেন বলেন, ‘এরই মধ্যে ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে তা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। এখনো পর্যন্ত নাশকতার কোনো প্রমাণ আমাদের হাতে আসেনি। আমরা আরও গভীরে গিয়ে তদন্ত করব। তখন বলতে পারব, কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে।’

নিহতদের শেষকৃত্য সম্পন্ন : মহিউদ্দিন চৌধুরীর কুলখানির মেজবানে পদদলিত হয়ে নিহত ১০ জনের ময়নাতদন্ত ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছে শেষকৃত্য। সোমবার গভীর রাত থেকে গতকাল দুপুর পর্যন্ত নগরী ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় নয়জনের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। এ ঘটনায় নিহত আরেকজনের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয় মঙ্গলবার রাতে তার গ্রামের বাড়ি রংপুরে। নগরীর বলুয়াদীঘি মহাশ্মশানে তিনজনের মরদেহ দাহ করার কার্যক্রম তদারক করেন মহিউদ্দিনপুত্র মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন মহিউদ্দিন চৌধুরীর আরেক ছেলে বোরহানুল হাসান চৌধুরী সালেহীনসহ দলের নেতারা। সৎকারের তত্ত্বাবধানে থাকা বন্দরনগরীর ৩২ নম্বর আন্দরকিল্লা ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জহরলাল হাজারী জানান, সোমবার গভীর রাত থেকে গতকাল দুপুর পর্যন্ত তিনজনকে নগরীর বলুয়াদীঘি মহাশ্মশানে দাহ করা হয়। আর বাকি ছয়জনকে বাঁশখালী, মিরসরাই, আনোয়ারা, কক্সবাজারের চকোরিয়া ও রাঙামাটিতে তাদের গ্রামের বাড়িতে দাহ করা হয়। এ ছাড়া অপরজনের মরদেহ রংপুরে তার বাড়িতে পাঠানো হয়। রাতেই তা দাহ করা হয়।

কমিউনিটি সেন্টারের কার্যক্রম বন্ধ : মেজবানে পদদলনে হতাহতের ঘটনার পর রীমা কমিউনিটি সেন্টারের কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে। গতকাল কমিউনিটি সেন্টারটির কার্যক্রম বন্ধ রাখতে মালিকপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়। চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) কোতোয়ালি জোনের সহকারী কমিশনার মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘রীমা কমিউনিটি সেন্টারের কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ কমিউনিটি সেন্টারের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এ ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্ত প্রতিবেদনে যদি মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আসে তখন ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ঘটনা তদন্তে দুই কমিটি : মেজবানে পদদলিত হয়ে হতাহতের ঘটনার কারণ উদ্ঘাটনে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন ও চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি)। সোমবার রাতে কমিটি দুটি গঠন করা হয়। ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মাশহুদুল কবিরকে এ কমিটির প্রধান করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা হলেন ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মো. হুমায়ুন কবির, নগর পুলিশের চকবাজার জোনের সহকারী কমিশনার নোবেল চাকমা, গণপূর্ত উপবিভাগের প্রকৌশলী এস এম শাহরিয়ার নেওয়াজ এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান। আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে কমিটিকে। একই ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে সিএমপি। দক্ষিণ জোনের উপকমিশনার এস এম মোস্তাইন হোসেনকে প্রধান করে ওই কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির বাকি দুই সদস্য হলেন নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার জসিম উদ্দিন ও সহকারী কমিশনার কাজল কান্তি চৌধুরী। এসব বিষয় নিশ্চিত করে মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি জোনের সহকারী কমিশনার মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পদদলনের ঘটনার পরপরই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। সেখানে থাকা একটি ভিডিও ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মামলা : মহিউদ্দিন চৌধুরীর কুলখানির মেজবান খেতে গিয়ে পদদলিত হয়ে ১০ জন নিহতের ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। সোমবার রাতে নিহত ঝন্টু দাসের ভাই অরুণ দাস বাদী হয়ে নগরীর চকবাজার থানায় মামলাটি করেন। অপমৃত্যু মামলা করার বিষয়টি স্বীকার করেছেন চকবাজার থানার ওসি নুরুল হুদা।

আশঙ্কামুক্ত নন তিনজন : পদদলনে ঘটনায় আহতদের মধ্যে এখনো চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১৩ জন। তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে। তারা হলেন সুনীল কান্তি নাথ, অর্পণ বিশ্বাস ও প্রিয়জিৎ বরণ বৈদ্য। প্রসঙ্গত, সোমবার নগরীর আসকারদীঘির পাড় এলাকার রীমা কমিউনিটি সেন্টারে মহিউদ্দিন চৌধুরীর কুলখানির মেজবানে পদদলিতের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ১০ জন নিহত এবং আহত হয়েছেন আরও ৪০ জন।

সূত্র : বিডি প্রতিদিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত