প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

৪ ক্লু নিয়ে তদন্তে পুলিশ

ডেস্ক রিপোর্ট : রাজধানীর শুক্রাবাদে প্রকৌশলী রিমন হত্যাকাণ্ড নিয়ে নানা রহস্য দেখা দিয়েছে। রিমনের শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে পারিবারিক বিরোধ, রিমনের মালিকানাধীন দুটি ফ্ল্যাট নিয়ে দূর সম্পর্কের মামাতো ভাইয়ের সঙ্গে দ্বন্দ্ব, অন্য এক নারীর সঙ্গে রিমনের পরকীয়া সম্পর্ক, মানসিক অশান্তি থেকে আত্মহত্যা এই ৪ ক্লু নিয়ে কাজ করছে পুলিশ। যদিও রিমন হত্যার পর তার বাবা খলিল উল্লাহ নিউমার্কেট থানায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে হত্যা মামলায় ফ্ল্যাট নিয়ে তার মামাত ভাইয়ের সঙ্গে দ্বন্দ্ব ও তার শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে বিরোধ নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের কথা উল্লেখ করেছেন। মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেছেন, আমরা সুষ্ঠু তদন্তের জন্য নিহতের পরিবারের সদস্য ও তার শ্বশুরবাড়ির সদস্য ছাড়াও আরো একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলছি। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য খুব দ্রুত বের করতে চাই। ইতিমধ্যে রিমনের সঙ্গে যার ফ্ল্যাট নিয়ে দ্বন্দ্ব তাকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

এ ছাড়া ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ও ওই স্থানে কর্মরত শ্রমিককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

এদিকে রিমনের বাবা খলিল উল্লাহ বাদী হয়ে হত্যা মামলায় তার শ্বশুরবাড়ির জড়িত থাকার বিষয়টি মানতে নারাজ রিমনের শ্বশুর কামরুল ইসলাম। তিনি গতকাল মানবজমিনকে বলেন, অনেক দেখে শুনে পছন্দ করে আমার একমাত্র মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি রিমনের সঙ্গে। কারণ আমি যে স্কুলের শিক্ষক ছিলাম ওই স্কুলে রিমনের বাবাও শিক্ষকতা করতেন। এমনকি রিমন নিজেও ওই স্কুলের শিক্ষার্থী ছিল। তাকে আগে থেকে আমি চিনতাম। বিয়ের পর ভালোই ছিল রিমন ও কানিজের সংসার। কিন্তু বিয়ের কিছুদিন পর থেকে তার পরিবারের কিছু সদস্যের মদতে রিমন আমাদের পক্ষ থেকে বিয়ের সময় কোনো উপহার না দেয়ার বিষয়টি সামনে নিয়ে আসে। কিন্তু বিয়ের পর রিমন আমাকে নিজেই বলেছিল যে তার কোনো কিছু লাগবে না। এজন্য আর আমরা কিছু দিইনি। এ ছাড়া রিমনের বোনেরা সপ্তাহের অধিকাংশ দিনই দলবেঁধে রিমনদের বাসায় গিয়ে হাজির হতো। কিন্তু সবসময় ঠিকমত আদর আপ্যায়ন না হওয়ার কারণে তাদের বোনের সঙ্গে আমার মেয়ের সম্পর্ক খারাপ হতে থাকে। এনিয়ে পরিবারে টুকটাক ঝামেলা হতে থাকে। কামরুল ইসলাম আরো বলেন, পরিবারের বিভিন্ন সমস্যার চাপে বন্ধুদের সঙ্গে এক সময় রিমন নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে।

তখন তার ব্যবহার ধীরে ধীরে পাল্টাতে থাকে। সে অনেকটা উগ্র হয়ে পড়ে। এর পাশাপাশি রিমনের মলি নামের একটি মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। প্রায়ই তারা বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরি করত। এরকম ছোট ছোট বিষয়ের জের ধরেই কলহ লেগে থাকতো। তিনি বলেন, আমার মেয়েকে তারা রিমনের সাবেক স্ত্রী হিসাবে দেখে। কিন্তু আমার মেয়ে সাবেক স্ত্রী সম্পর্কটি মেনে নিতে পারে না। কারণ এখনও ডিভোর্স কার্যকর হয়নি। তাই আমি পুলিশকে বলব এই হত্যাকাণ্ডে আমাদের সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা তারা প্রমাণ করুক। তিনি বলেন, যে আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং রিমন নিখোঁজ হওয়ার আগে মিতু নামের একটি মেয়ের সঙ্গে তার কথা হয়েছে সেই মেয়েকে খোঁজে বের করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে হয়তো প্রকৃত সত্যটা বের হবে। রিমনের বাবা মো. খলিল উল্লাহ বলেন, অনেকদিন ধরেই রিমনের স্ত্রী কানিজদের পরিবারের সঙ্গে আমাদের বিরোধ ছিল।

একপর্যায়ে কানিজের সঙ্গে রিমনের বিবাহ বিচ্ছেদও ঘটে। কাবিননামার টাকাও পরিশোধ করা হয়েছে। এ ছাড়া আমার ছেলের সঙ্গে আমার দূর সম্পর্কের নাতি সাজেদুল করিম রনি ও তার স্ত্রী মমতাজ ময়নার ফ্ল্যাট নিয়ে ঝামেলা চলছিল। রিমনে কেনা আগারগাঁওয়ের দুটি ফ্ল্যাটের একটিতে রনি তার পরিবার নিয়ে থাকতো। রনি বিভিন্ন মামলায় জেলে ছিল অনেকদিন। রিমনের ফ্ল্যাটটি সে জাল কাগজপত্র তৈরি করে জোরপূর্বক দখল করেছে। এমনকি উল্টো রিমনের ওপর মামলা দেয় এবং ফ্ল্যাট নিয়ে কথা বললে সে তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দিয়ে আসছিল।

খলিল উল্লাহ আরো বলেন, সংসারে জটিলতা আর ফ্ল্যাট নিয়ে মামলার কারণে গত ছয় মাস ধরে কাজ বাদ দিয়ে রিমন ঢাকাতেই আছে। পারিবারিক জটিলতার কারণে রিমন ও তার স্ত্রী কানিজ আলাদা আলাদা থাকতো। রিমন উত্তরায় তার বোনের বাসায় এবং কানিজ সায়েন্স ল্যাবরেটরি রোডে তার বাবার বাড়িতে থাকতো। তাদের দুই সন্তানের মধ্যে রাহাত হাসানের বয়স ৯ বছর ও রাইসা হাসানের বয়স ৪ বছর। তারা দুজনই কিছুদিন ধরে রিমনের কাছেই ছিল। ১৬ই ডিসেম্বর উত্তরার বাসা থেকে ছেলেমেয়েকে নিয়ে বের হয় রিমন। পরে তার বন্ধু রিপনকে দিয়ে দুই সন্তানকে পাঠিয়ে দেয় সায়েন্স ল্যাবরেটরি রোডের কানিজের বাবার বাসায়। পরে রিপন ও রিমন এলিফ্যান্ট রোডের একটি রেস্তরাঁয় যান। সেখানে কিছুক্ষণ অবস্থান করে রিমন ধানমন্ডি যাওয়ার কথা বলে চলে যায়। রাত সোয়া ৯টার দিকে মামাতো বোন মিতুর সঙ্গে ফোনে কথা হয় রিমনের। সে সময় রিমন শুক্রাবাদের মেট্রো শপিং মলে থাকার কথা বলেন। কিন্তু এরপর রাতে বিভিন্ন সময়ে রিমনকে ফোন করা হলেও তা কেউ ধরেনি। পরদিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে আমরা জানতে পারি তার ফোন ব্যবহার করছে সোহেল নামের শুক্রাবাদ বাজারের এক মুরগি বিক্রেতা। পরে শুক্রাবাদ এলাকায় গিয়ে ওই মুরগি বিক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, একটি নির্মাণাধীন ভবনে তিনি মোবাইল ফোনটি পেয়েছেন। পরে মুরগি বিক্রেতার দেয়া তথ্য অনুযায়ী রিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মানবজমিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত