প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

হুইল চেয়ারে জীবন চাননি আনিসুল-রুবানা হক

শাকিল আহমেদ: ২৯ জুলাই লন্ডনে চিকিৎসার জন্য যাওয়ার সময় প্লেনে পায়ে ঠেটে উঠতে পারেনি প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক। টানা ২০ থেকে ২৫ মিনিট তাকে হুইলচেয়ারে যেতে হয়েছিলো। কিন্তু আনিসুল হুইল চেয়ারে উঠতে রাজি ছিলেননা। তিনি চাননি হুইল চেয়ারে তার জীবন শেষ হোক।

মঙ্গলবার বংলাদেশ পোশাক প্রস্তুত কারক ও পন্ন রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)আয়োজিত স্মরন সভায় ও মিলাদ মাফিলে (বিজিএমইএ) কমপ্লেক্স আনিসুল হকের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে এভাবেই কেঁদে কেঁদে কথাগুলো বলছিলেন তার প্রিয় সহধর্মীনি রুবানা হক।

রুবানা হক বলেন, আনিসুলের প্রস্থানটা অতন্ত ভালো ভাবে হয়েছে। অর এর জন্য মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর কাছে কৃত¹। কারন তিনিই তাকে পাবলিক সার্বিসে জায়গাটা করে দিয়েছিলেন। তিনি যদি সরকারে না থেকে শিল্পপতি হয়ে মারা যেতেন তা হলে এতো ভালোবাসয় সিক্ত হয়ে যেতে পারতেনা। আবেগ আপ্লুত রুবানা বলেন, আমি কখন আল্লাহর কাছে জনতেও চায়নি কেন নিয়ে গেছে কারন এভাবে যেতে হলে কপাল লাগে। মৃত্যু খুব সহজ আমরা চার মাস যুদ্ধ করেছি। উনি ঘুমিয়ে ছিলেন কিছু টের পাননি। আনিসুল আমাদেরকে নিসংঙ্গ করে খুব ভালো ভাবে চলে গেছেন তার কিছু হয়নি যা হবার আমার হয়েছে কারন বেঁচে থাকাটা খুব কঠিন।

তিনি আরও বলেন, আনিসুল আমাকে ও আমার সন্তানদেরকে সংকৃর্ন না হয়ে উদার হয়ে বাঁচতে শিখিয়েছেন। আনিস ফিরে আসবেনা কিন্তু আনিসের মতো সহস্র আনিস বাংলাদেশে আসবে। তাই আমরা আনিসের জন্য একটা ফান্ডেশন করেছি। কোন না কোন ফর্মে আনিস আবার ফিরে আসবে। এসময় সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি।

স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বিজিএমইএ এর সাবেক সভাপতি ও বেক্সিমকো গ্রুপের চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান বলেন, ব্যবসায়ী জীবনে সাফল্য পেলেও সবাই রাজনৈতিক জিবনে সফল হতে পারেনা। কিন্তু আনিসুল হক পেরে ছিলেন। তার উপর প্রধানমন্ত্রীর আস্থা ছিলো। তিনি যখন রুমে ঢুকতেন রুমটা আলোকিত হয়ে যেত। ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়ী জীবনে সব জায়গায় তিনি ছিলেন সফল ব্যক্তি।
(বিজিএমইএ) সভাপতি ছিদ্দিকুর রহমান বলেন, অনেক লোক অসুস্থ হয়ে বিদেশে চিকিৎসা নিলেও কেউ জানেনা কিন্তু আনিসুল হক অসুস্থ হওয়ার চার মাসে অনেকে তার খবর নিয়েছেন। আশা করেছিলাম আমাদের মাঝে ফিরে আসবেন কখন ভাবিনি এভাবে চলে যাবেন। তার বাসায় গেলে ছোট বড় সবাইকে গাড়ীতে উঠিয়ে দিতেন। সব জায়গায় তিনি ছিলেন একজন সফল সংগঠক। যতদিন বাচবো আমরা তার পরিবারে পাশে থাকবো।

এফবিসিসিআই সাবেক সভাপতি ও হামীম গ্রুপের চেয়ারম্যান একে আজাদ বলেন, ১৯৯০ সাল থেকে আনিসুল হকের সাথে সর্ম্পক্য যতদিন দেখেছি নিজের চেয়ে অন্যের সমস্যাই তিনি বেশি দেখতেন।

(বিজিএমইএ) সাবেক সভাপতি আতিকুল ইসলাম বলেন, আনিসুল হক কখনই আমি বলে কিছু ভাবতেন না, তিনি সব সময়ই ভাবতেন আমরা। লক্ষ লক্ষ মানুষ জন্ম হবে কিন্তু আনিসুল হক জন্মাবেনা।তিনি সবাই কে আপন করে নিতে পারতেন।

সভায়, আরো বক্তব্য রাখেন, (বিজিএমইএ) সহ সভাপতি এম এ মান্নান কচি,সাবেক সভাপতি শহিদুল ইসলাম, আঃ সালাম মূর্শিদী,এস এম ফজলুল হক,মনিরুল হক,আনিসুর রহমান সিনহাসহ অন্যন্যরা।

এসময় বক্তারা কান্না জরিত কন্ঠে বলেন, উদ্দম,সাহসি আনিসুল হক বাংলাদেশের পতাকা বুকে জরিয়ে মৃত্যু বরন করেছে এটা গর্বের বিষয়। দেশের দু নেত্রিই তাকে আন্তরিক ভাবে ভালোবাসতেন যেটা ইতিহাসে বিরল। তিনি ছিলেন একটি ইনিষ্টিটিউটের মতো তার কাছে অনেক কিছু শিখেছি। আমরা আমাদের অবিভাবককে হারিয়েছি। তার আদর্শ আমরা ধরে রাখতে চাই। মেয়র আনিসুলের রেখে যাওয়া কাজ গুলো শেষ করতে পারলে তার আত্মা শান্তি পাবে। আনিসুল হকের স্মরনে তার শেষ কর্মস্থল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার একটি রাস্তার নাম করনের দাবী জানান বক্তারা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত