প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল নিয়ে ট্রাম্পের পূর্ণ ভাষণ

লিহান লিমা: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার তার প্রশাসনের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল নীতি প্রকাশ করেন। ৬৮ পৃষ্ঠার এই নথিতে পররাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি জাতীয় নিরাপত্তা, কৌশলগত সম্পর্ক, সন্ত্রাসবাদ ইস্যুগুলো উঠে আসে। ট্রাম্প তার এই ভাষণে বলেন:
‘আমরা এখানে এমন একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে এক হয়েছি যা সবার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তা হল আমেরিকার নিরাপত্তা, সমৃদ্ধি ও অবস্থান। আমি আজ এখানে আমরা কোথায় ছিলাম, এখন কোথায় আছি এবং ভবিষ্যতে আমাদের কৌশলগত অবস্থান আমাদের কোথায় নিয়ে যাবে তা নিয়ে কথা বলব।
গত ১১ মাসে আমি প্রায় দশ হাজার মাইল পাড়ি দিয়েছি, ভ্রমণ করেছি ১৩টি দেশ। আমি প্রায় ১০০জনের ও বেশি বিশ্বনেতার সঙ্গে সাক্ষাত করেছি। আমি সৌদি আরবের গ্র্যান্ড হল, পোল্যান্ডের ওয়ার’শ স্কয়ার, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ, কোরিয়া উপদ্বীপে আমেরিকার বার্তা পৌঁছে দিয়েছি। এই সব স্থানে আমেরিকার জনগণকে প্রতিনিধিত্ব করা আমার সবচেয়ে বড় সম্মান ও বিরাট বড় সুযোগ।
ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, আমেরিকার জনগণ সবসময় আমেরিকাকে সেরা করে তুলতে কাজ করেছে। আমাদের জনগণ সবসময় আমাদের সংস্কৃতি ও মূল্যবোধকে তুলে ধরেছে। আমেরিকানরা বিশ্বব্যাপি যুদ্ধক্ষেত্রে লড়াই করেছে ও নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছে। আমরা অনেক দেশকে স্বাধীন করেছি, সাবেক শত্রুকে নিজেদের সবচেয়ে ভাল বন্ধুতে রুপান্তরিত করেছি, এবং বিশ্বের প্রত্যন্ত অঞ্চলকে দারিদ্রতার কবল থেকে মুক্ত করে সমৃদ্ধশালী করেছি।
এই সবকিছুই আমাদের জনগণের জন্য। বিশ্বের ইতিহাসে আমেরিকা সবসময় শান্তি ও সুবিচার নিশ্চিত করার জন্য কাজ করেছে। আমেরিকান জনগণ অসাধারণ, প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, সাহসী, দৃঢ় ও বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন।
যখন আমেরিকার জনগণ কথা বলে, আমাদের সবার তা শোনা উচিত। মাত্র এক বছর আগে আপনারা জোরে ও স্পষ্টভাবে কথা বলেছিলেন। ৮ নভেম্বর, ২০১৬। আপনারা আমেরিকাকে আবারো সেরা করে তুলতে ভোট দিয়েছিলেন। আপনারা নতুন নেতৃত্ব, নতুন কৌশল ও নতুন আশাকে আলিঙ্গন করেছিলেন। এই কারণেই আজ আমরা এখানে একত্রিত হয়েছি।
কিন্তু ভবিষ্যতে সুযোগকে কাজে লাগাতে আমাদের অবশ্যই পূর্ববর্তী বছরগুলোর ব্যর্থতাকে অনুধাবন করতে হবে। অনেক বছর ধরেই আমাদের নাগরিকরা একের পর এক ওয়াশিংটনের রাজনীতিবিদদের ডেকে আনা হতাশা প্রত্যক্ষ করেছে। আমাদের অনেক নেতাই ভুলে গিয়েছে তাদের কথাকে তাদের সম্মান করা উচিত। এবং তাদের কাদের স্বার্থের পক্ষে অবস্থান নেয়া উচিত। আমাদের ওয়াশিংটনের নেতারা একের পর এক ভঙ্গুর বাণিজ্য চুক্তি করেছে, যা শুধু বিদেশী দেশগুলোর লাভ ডেকে এনেছে। অন্যদিকে হাজারো আমেরিকান কারখানা, লাখো আমেরিকান চাকরি অন্যদেশের হস্তগত হয়েছে।
আমাদের নেতারা বিদেশী দেশগুলোকে গঠন করতে কাজ করেছে কিন্তু তারা নিজেদের ঘরকেই সুগঠিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। অপর্যাপ্ত সম্পদ, অস্থিতিশীল তহবিল ও অস্পষ্ট মিশনের দ্বারা তারা আমাদের নারী ও পুরুষদের একটি ঘোলাটে অবস্থানের মধ্যে রেখে গিয়েছে। তারা আমাদের সম্পদশালী মিত্রদের সামরিক ক্ষেত্রে তাদের যথাযথ অর্থ প্রদানে বাধ্য করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং মার্কিন করদাতা ও আমাদের সামরিক বাহিনীর ওপর বিশাল ও অবৈধ বোঝা চাপিয়ে দিয়ে গিয়েছে।
তারা উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক সমৃদ্ধিকে অবহেলা করেছে, ইরানের সঙ্গে একটি ভঙ্গুর, দুর্বল, অসঙ্গতিতে পরিপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ও আইএসএর মত সন্ত্রাসীদের মধ্যপ্রাচ্যের অঞ্চলগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। তারা আমেরিকার শক্তিকে তালাবদ্ধ করে রেখেছে। তারা চাপমূলক শাসনব্যবস্থা ও করবোঝা আরোপ করেছে। তারা বিদেশিদের কাছে আমেরিকার সার্বভৌমত্বকে হেয় করেছে।
এবং আমেরিকার জনগণের আপত্তির মুখেও আমাদের রাজনীতিবিদরা আমাদের সীমান্তকে মুক্ত করে দিয়েছে। লাখো অভিবাসী অবৈধভাবে প্রবেশ করেছে। লাখো মানুষ যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়াই প্রবেশ করেছে যা আমাদের নিরাপত্তা ও অর্থনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ওয়াশিংটনের নেতারা যে অভিবাসন নীতি গ্রহণ করেছে যার জন্য আমেরিকান জনগণ ভোট দেয় নি, যা তারা একবারও বলে নি ও যার অনুমোদন দেয় নি। তাদের নীতির কারণে ভুল মানুষ আমাদের দেশে প্রবেশ করেছে ও যোগ্যরা প্রত্যাখাত হয়েছে। আর আমেরিকার নাগরিকরা এই ব্যয়ভার বহন করেছে।
সব কথার বড় কথা, আমাদের নেতারা আমেরিকার নীতি থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়েছে। তারা আমেরিকার লক্ষ্য থেকে সরে গিয়েছে। তারা আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্বের প্রতি বিশ্বাস হারিয়েছে। যারা ফল হয়েছে, আমাদের নাগরিকরা ভাল অনেক কিছু হারিয়েছে। তারা সরকারের প্রতি তাদের আত্মবিশ্বাস হারিয়েছে এমনকি তারা নিজেদের ভবিষ্যতের ওপরও বিশ্বাস হারিয়েছে।
কিন্তু গত বছর সবকিছু পাল্টে গিয়েছে। আমেরিকান জনগণ পূর্বের ব্যর্থতাকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে। আপনারা নিজেদের কণ্ঠস্বরকে নতুন করে আবিষ্কার করেছেন এবং নিজেদের ভাগ্য ও দেশের ওপর দাবিকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন। ২০ জানুয়ারি, ২০১৭। এই দিন জনগণের নতুন নেতা হিসেবে আমি আমার যাত্রা শুরু করি। ধন্যবাদ। এখন এক বছর পার হয়েছে। আমি গর্বিত সারা বিশ্ব এই খবর শুনেছে ও দেখছে ,আমেরিকা আবারো ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং আমেরিকা আরো শক্তিশালী হচ্ছে।
আমার অভিষেকের সময় আমি বলেছিলাম যুক্তরাষ্ট্রে কিছু নীতিতে অবশ্যই ফিরে আসা উচতি। প্রথমত আমাদের সরকারের প্রথম দায়িত্ব আমাদের জনগণের জন্য কাজ করা, অনেকেই তা ভুলে গিয়েছিল। কিন্তু এখন আর তা কখনোই ভোলা যাবে না। প্রতি সিদ্ধান্ত ও কাজে আমরা আমেরিকাকে সেরা করে তুলব। আমরা আমাদের দেশ ও বিশ্বাসকে পুননির্মাণ করব ও বিশ্বব্যাপী নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করব। আমরা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা ও তার মুখোমুখি হতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
আমরা আবারো আমাদের সামরিক খাতে বিনিয়োগ করা শুরু করেছি, ৭০০ বিলিয়ন ডলার, যা রেকর্ড ছাড়িয়েছে। আমরা অসাধারণ শক্তির দাবিদার যা আমাদের আশানুরুপ নেতৃত্ব ও শান্তির দিকে নিয়ে যাবে। আমরা আমদের সাহসী নারী ও পুরুষদের তাদের প্রাপ্য দিব তারা যার দাবিদার।
আমরা ট্রান্স প্যাসিফিক পার্টনারশিপের মত কিছু চুক্তি বাতিল করেছি যা যুক্তরাষ্ট্রের চাকরি খাতকে ধ্বংস করেছে। এছাড়া আমরা অনেক ব্যয়বহুল ও অসমতাসম্পন্ন প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থাকে সরে এসেছি। এবং গত মাসে এশিয়া সফরে আমরা বলেছি আমরা কোন ধরণের বাণিজ্যিক শোষণ সহ্য করব না।মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সন্ত্রাসীদের হাত থেকে রক্ষা করতে আমরা অনেক নতুন নীতি গ্রহণ করেছি ও প্রতিমাসে আমরা এটি কঠোর থেকে কঠোরতর করছি। ইরানের প্রতিত্তুর ও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা হতে দেশটিকে রোধ করতে আমি ইসলামি রেভ্যুলেশনারি গার্ড র্কোপ ও এর সন্ত্রাসবাদে সমর্থনের নিন্দা জানিয়েছি। আমি কংগ্রেসে ইরান চুক্তিকে সমর্থন দিতে অস্বীকার করেছি।
মধ্যপ্রাচ্যে আমার সফরের সময়, পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো এবং অন্যান্য মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলো ইসলামী চরমপন্থার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ও সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন বন্ধ করতে একমত হয়েছে। আমরা আইএসের একের পর এক ধ্বংসাত্মক কার্যক্রমের মোকাবেলা করেছি। এই জোট আইএসকে পরাজিত করেছে এবং এখন ইরাক ও সিরিয়ার ১০০ ভাগ অঞ্চল পুনরুদ্ধার হয়েছে। দারুণ কাজ। দারুণ কাজ। সত্যিই অসাধারণ। ধন্যবাদ। অনেক ধন্যবাদ। আমাদের সেরা সামরিক বাহিনী আছে। তারা যেখানেই পালাক না কেন আমরা তাদের পশ্চাদদাবন করছি এবং আমরা তাদের কখনোই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দিব না।
আফগানিস্তানে কৃত্রিম সময়সীমা আমাদের সৈন্যদের সংখ্যা কমিয়ে দেয় না। আমরা আমাদের পরিকল্পনা আমাদের শত্রুদের কাছে বলি না। আমরা যুদ্ধ ক্ষেত্রে ফলাফল দেখার জন্য অপেক্ষা করি। এবং আমরা পাকিস্তানকে স্পষ্ট বলেছি সহযোগিতা চালিয়ে যেতে হলে আমাদের অবশ্যই সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে এক হয়ে কাজ করতে হবে। এবং আমরা প্রতি বছর পাকিস্তানে বিপুল পরিমাণ অর্থ দিয়ে থাকি তাদের সাহায্য করার জন্য।
ন্যাটো জোটকে শক্তিশালী করতে এর সদস্য দেশগুলোর অবদান বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। আমাদের বিলিয়ন ডলাদের বোঝা কমেছে কারণ আমি সদস্যদেশগুলোর অসম অর্থ প্রদান বরদাশত করি নি। যখন তাদের স্বার্থে ও নিরাপত্তায় আমাদের সৈন্যরা কাজ করে যাচ্ছে। আমরা স্পষ্ট করেছি, সম্পদশালী দেশগুলোকে যথাযথ ব্যয়ভার নিশ্চিত করতে হবে। অতিতে অনেক অসমতা হয়েছে কিন্তু এখন সমতা প্রয়োজন, আমাদের দেশের প্রয়োজনে, করদাতাদের প্রয়োজনে ও আমাদের চিন্তার প্রক্রিয়ার প্রয়োজনে।
আমরা উত্তর কোরিয়ার ওপর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ করেছি এবং সবচেয়ে কঠোরতর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছি। উত্তর কোরিয়া ইস্যুতে আমরা সব মিত্রদের সংঘবদ্ধ করেছি। যদিও এই ইস্যুতে আরো অনেক কিছু করা বাকি আছে। আমেরিকা ও তার মিত্ররা পারমাণবিকরণ বন্ধ করতে সকল প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে যাতে দেশটি বিশ্বের জন্য হুমকি না হয়ে দাঁড়াতে পারে। ধন্যবাদ। আমি দায়িত্ব নেয়ার অনেক আগেই এই বিষয়গুলো করা উচিত ছিল। তাহলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আরো সহজ হত। কিন্তু আমাদের এখন এই বিষয়ে গভীর নজর রাখতে হবে। এছাড়া আর কোন উপায় নেই।
দেশে আমরা আমেরিকার অর্থনীতিকে মুক্ত করতে আমাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছি। নির্বাচনের পর থেকে এই পর্যন্ত আমরা ২ লাখের ও বেশি চাকরি খাত সৃষ্টি করেছি। গত ১৭ বছরের চেয়ে বেকারত্ব হ্রাস পেয়েছে। শেয়ার বাজারের মূল্য অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে । আমরা একটি নতুন নিয়মের জন্য ২২টি নিয়ম বাতিল করেছি । আমরা আমেরিকার শক্তি সম্পদ উন্মোচন করেছি। পুরো বিশ্ব দেখেছে, দেখছে আমরা মার্কিন পরিবার ও ব্যবসায়ীদের জন্য কর হ্রাস করেছি। এটি আমাদের দেশের ইতিহাসে সেরা কর হ্রাস ও সংস্কার। ধন্যবাদ। ধন্যবাদ। ধন্যবাদ।
আমরা এমন সাড়া পেয়েছি যা আমাদের প্রত্যাশিত ছিল। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ৩ ভাগ উন্নয়ন হয়েছে। মাথাপিছু আয় বেড়েছে ও আমার প্রশাসনে আমেরিকা সত্যিকার অর্থেই সেরা অস্ত্রের সন্ধান পেয়েছে। আশার নতুন প্রদীপ প্রজ্জলিত হয়েছে। বিশ্বাস ফিরেছে। নতুন বিশ্বাসের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের চিন্তার স্পষ্টতা ফিরে এসেছে। আমরা কিছু মূল সত্যকে পুনঃসমর্থন করছি।
সীমান্ত ছাড়া একটি জাতি কোন জাতি হতে পারে না। যদি একটি জাতি বিদেশে নিজের স্বার্থের সুরক্ষা করতে না পারে সে দেশ অভ্যন্তরীণ সমৃদ্ধির সুরক্ষা করতে পারে না। যদি একটি জাতি যুদ্ধকে রোধ করতে সক্ষম না হয় তবে সে জাতি যুদ্ধে জয় লাভের জন্য প্রস্তুতি নিতে পারে না। যদি একটি জাতি নিজেদের ভবিষ্যতের প্রতি আত্মবিশ্বাসী না হয় তবে সে তার অতিত নিয়ে গর্ব করতে পারে না। এবং যদি একটি জাতির নির্দিষ্ট মূল্যবোধই না থাকে তবে তাদের তার সুরক্ষা করতে বলা যায় না।
এখন আমরা এইসব সত্যের মাঝে দাঁড়িয়ে। আমরা বিশ্বের কাছে আমাদের নতুন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল উপস্থাপন করছি। আমার নির্দেশনার ওপর ভিত্তি করে এই নথির উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন করা হবে। আমার পুরো মন্ত্রীসভা এটিকে সমর্থন করেছে। আমাদের নতুন নীতি আমাদের বাস্তব নীতি, জাতীয় স্বার্থ ও যুক্তরাষ্ট্রের নিরবধি নীতির ওপর ভিত্তি করে স্থাপিত। এই কৌশল হল, আমরা পছন্দ করি বা না করি আমরা প্রতিযোগিতার নতুন যুগে প্রবেশ করেছি। আমরা বিশ্বের সব শক্তিশালী সামরিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রতিযোগিদের সঙ্গে ময়দানে নামতে প্রস্তুত।
আমরা যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের জন্য হুমকিস্বরুপ শাসদের মোকাবেলা করব। আমরা সন্ত্রাসী সংগঠন, আন্তমহাদেশিয় সন্ত্রাসী গোষ্ঠি ও সহিংসতা ছড়ানো সব শক্তির সম্মুখীন হব। এছাড়া আমরা আমাদের শত্রুদেশ রাশিয়া ও চীনের ও সম্মুখীন হব, যারা আমেরিকার প্রভাব, নীতি ও সম্পদের জন্য চ্যালেঞ্জ। যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের প্রভাব হ্রাস করতে এই অঞ্চলের দেশগুলোর সার্বভৌমত্বের সুরক্ষা করবে। আমরা জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের সঙ্গে সহযোগিতামূলক সম্পর্কের দিকে এগিয়ে যাব। আমরা অন্যান্য দেশের সঙ্গে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তুলতে পদক্ষেপ গ্রহণ করব, কিন্তু সেটি আমাদের জাতীয় স্বার্থের সুরক্ষা করে।
উদাহরণ হিসেবে বলছি, গতকাল আমি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের ফোন পেয়েছি। তিনি সেন্ট পিটার্সবুগে সন্ত্রাসীদের হামলা প্রতিহত করার জন্য সিআইএর সক্ষমতার প্রশংসা ও আমাকে ধন্যবাদ দিয়েছেন। যে হামলায় হাজারো মানুষ মারা যেতে পারত, কিন্তু হামলার পরিকল্পনা নস্যাৎ করায় কোন জীবন নষ্ট হয় নি। এটি একটি সেরা কাজ, আমরা এভাবেই কাজ করব। এটিই পথ। কিন্তু যখন সহযোগিতামূলক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সুযোগের বিষয়টি আসবে তখন আমরা আমাদের জন্যই কাজ করব আমরা আমাদের দেশের পক্ষে অবস্থান নিব যা আগে কখনো করা হয় নি। ধন্যবাদ। ধন্যবাদ। ধন্যবাদ।
আমরা জানি আমেরিকার সাফল্যের উপংসহারের সময় আসে নি। এটি অবশ্যই ক্রমাগত অর্জনের ও বিজয়ের । আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বীরা কঠোর, অনমনীয়, প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ও দীর্ঘমেয়াদি। কিন্তু আমরাও তাই। সফলতা পেতে আমাদের জাতীয় শক্তির প্রতিটি অংশকে একত্রিত করতে হবে। এবং আমাদের জাতীয় সক্ষমতার প্রতিটি দিকের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হবে। ট্রাম্প প্রশাসনে আমেরিকা সম্পদ অর্জন করবে, শক্তি বৃদ্ধি করতে নেতৃত্ব দিবে ও কারো চিন্তার চেয়েও বেশি গতিশীল হবে। নির্বাচনের পর থেকে এই পর্যন্ত শেয়ার বাজারের অবস্থা ৬ ট্রিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌছেছে। ৬ ট্রিলিয়ন ডলার।
আমি আজ যে কৌশলের কথা বলছি, আমি ঘোষণা দিচ্ছি আমেরিকা এই খেলায় জেতার পথে হাঁটছে। ধন্যবাদ। আমাদের কৌশল আমাদের চারটি জাতীয় স্বার্থের ওপর স্থাপিত।
প্রথমত, আমেরিকান জনগণ ও জীবনযাত্রার সুরক্ষা। এর অর্থ আমাদের সীমান্তের সুরক্ষা ছাড়া আমরা আমাদের জাতিকে সুরক্ষিত রাখতে পারব না। তাই এই প্রথমবারের মত আমেরিকা নিজেদের সুরক্ষার স্বার্থে গভীর নীতি গ্রহণ করেছে। এটি হচ্ছে, দক্ষিণ সীমান্তে দেয়াল নির্মাণ, লকেটের মত অভিবাসন প্রক্রিয়া এবং অদ্ভুদ ভিসা ও লটারি ব্যবস্থার ইতি টানা, সীমান্ত রক্ষী বাহিনী, আইসি অফিসার ও জাতীয় নিরাপত্তাকর্মীদের দৃঢ়ভাবে সমর্থন করা। এছাড়া আমাদের নীতি ইসলামী সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থাকে যুক্তরাষ্ট্রে ছড়ানো প্রতিরোধ করবে। সাইবার ও সামাজিক মাধ্যমের সাহায্যে নতুনভাবে আমাদের দেশ ও সমাজের জন্য হুমকি প্রতিরোধ করব।
দ্বিতীয় স্তম্ভ হল আমাদের নীতি আমেরিকার সমৃদ্ধিকে সমর্থন করে। প্রথমবারের মত মার্কিন কৌশল অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও জাতীয় নিরাপত্তার ওপর ভিত্তি করে চালিত হচ্ছে। বিশ্বজুড়ে মার্কিন শক্তি ও প্রভাব বজায় রাখতে অর্থনৈতিক উন্নতি, সমৃদ্ধি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। যদি কোন জাতি নিরাপত্তার জন্য তার সমৃদ্ধিকে পেছনের কাতারে রাখে তবে সে উভয়ের কোনটিই অর্জন করতে পারবে না। এই কারণের পূর্বের যে কোন সময়ের তুলনায় জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলের ওপর জোর দেয়া হয়েছে, আমাদের জাতীয় দীর্ঘমেয়াদী সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে আমরা অনেক জটিল পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। কর হ্রাস ও অপ্রয়োজনীয় নীতি বাতিল করা হয়েছে। ন্যায্য ও পারস্পরিক নীতির ওপর জোর দেয়া হয়েছে। অবৈধ বাণিজ্য ও মেধা চুরির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এবং উদ্ভাবন ও শিল্পায়নের ক্ষেত্রে নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এই নীতির আওতায় আমেরিকার পরিকাঠামো-রাস্তা, ব্রিজ, বিমানবন্দর, এবং যোগাযোগ ব্যবস্থাপনার সংস্কার ও নির্মাণ করবে। এটি আমেরিকার ভবিষ্যত স্বয়ংসম্পূর্ণতা ও শক্তিসম্পদ অর্জন নিশ্চিত করবে।
তৃতীয়ত আমাদের কৌশলগত নীতি শান্তি বজায় ও দৃঢ়তায় বিশ্বাসী। আমরা জানি, দুর্বলতা হচ্ছে সংঘর্ষের সবচেয়ে সহজ পথ, এবং ক্ষমতাই প্রতিরোধের উপায়। এই কারণেই আমাদের নীতি প্রতিরক্ষা খাতকে যে কোন ক্ষতি হাত থেকে রক্ষা করতে দায়বদ্ধ ও আমরা এই পথেই যাচ্ছি। এই আমাদের সেনা বাহিনীর আধুনিকীকরণ, সশস্ত্র বাহিনীকে সংকুচিত করার জন্য পূর্ববর্তী সিদ্ধান্তগুলো প্রত্যাহার ও জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সব হুমকিগুলো প্রতিরোধ করবে। এটি আমলাতন্ত্র নির্মূল, সামরিক বাহিনীর অভাবনীয় উন্নতি ও নতুন নতুন চাকরি সৃষ্টি করবে। এই নীতির আ্ওতায় আধুনিক সাইবার হুমকি ও বৈদ্যুতিক হামলা প্রতিরোধ অর্ন্তভুক্ত রয়েছে। এই কৌশল অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক আগ্রাসন মোকাবেলা করবে।
চতুর্থ এবং সর্বশেষ দিক হল আমাদের কৌশলগত নীতি বিশ্বে আমেরিকার প্রভাব বৃদ্ধি করবে। সেই সঙ্গে আমাদের সম্পদ বৃদ্ধি পাবে। আমেরিকা আবারো নেতৃত্ব গ্রহণ করবে। আমরা কাউকে আমাদের জীবনযাত্রা অনুসরণ করতে চাপ প্রয়োগ করব না কিন্তু আমরাই মূল্যবোধের দিক দিয়ে সেরা হব। আমরা সহযোগিতামূলক সম্পর্কের মাধ্যমে শক্তিশালী মিত্রের প্রত্যাশি। আমরা সাধারণ স্বার্থ, লক্ষ্য ও বিষয়গুলোতে নতুন সহযোগি গড়ে তুলব। আমরা শান্তির পথে বাধা কোন মতাদর্শকে সহ্য করব না। আমরা অতীতে যে নীতি অনুসরণ করে এসেছি তাই মেনে চলব। এই নীতি দৃঢ়, সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীন দেশ, তাদের নাগরিক ও প্রতিবেশিদের ওপর সম্মানের। যে জাতির নিজস্ব ইতিহাস আছে, যারা সহযোগিতামূলক ও লক্ষ্যসম্পন্ন। বিশ্বের ও আমেরিকার জন্য এই ভবিষ্যতই আমরা প্রত্যাশা করি । এই কৌশলের আওতায়ই আমরা আমেরিকাকে আবারো জেগে উঠার, বিশ্বাস পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানাচ্ছি। এখন সময় দেশপ্রেম, সমৃদ্ধি ও গর্বের পুন:জন্মের।
আমরা আমেরিকার প্রতিষ্ঠাতাদের বুদ্ধিমত্তাকে অনুসরণ করি। আমেরিকা জনগণের দ্বারা পরিচালিত এবং এখানে জনগণই সার্বভৌম। আমরা আমাদের প্রতিষ্ঠাতাদের জ্ঞান ও প্রজ্ঞাকে আবারো ফিরিয়ে আনব। ২৫০ বছরের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আমরা এখানে এসেছি। আমাদের ভালবাসার দ্বারা রক্ষাকবচ তৈরি করতে হবে যা আমাদের দেশের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা দিবে। আমরা ঘোষণা করছি নতুন ভবিষ্যতের, নতুন স্বপ্নের। প্রতিটি আমেরিকানের জাতীয় স্বার্থে কাজ করতে হবে। আমি প্রতিটি নাগরিককে এই মিশনে তাদের ভূমিকা পালনের জন্য আমন্ত্রণ করছি। যদি আমরা তা করি এবং আমাদের সন্তান ও নাতি-নাতনীদের আমাদের দেশের কাজ করার জন্য ছেড়ে দেই তবে আমেরিকা পূর্বের চেয়ে অনেক বেশি সমৃদ্ধশালী, গর্বিত, শক্তিশালী ও সেরা হবে। হ্যাঁ। এটিই সত্যি। ইশ্বর আপনাদের সহায় হোন। অনেক অনেক ধন্যবাদ। ধন্যবাদ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত