প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ঝুঁকির মুখে কুয়াকাটার শুটকি শিল্প

জুয়াইরিয়া ফৌজিয়া : দেশের অন্যতম শুটকি উৎপাদন কেন্দ্র কুয়াকাটার সমুদ্র সৈকত। জেলেরা সমুদ্র থেকে ২০ থেকে ২২ প্রজাতির মাছ আহরণের পর এখানকার শুটকি পল্লীগুলোতে পরিষ্কার করে লবণ মাখিয়ে, রোদে শুকিয়ে প্রক্রিয়াজাতকরণ করা হয়। আর কোন প্রকার রাসায়নিক পদার্থ ও ফরমালিন ব্যবহার না করায় এখানে উৎপাদিত শুটকির কদর দেশ ছাড়িয়ে এখন বিদেশেও।

কিন্তু বর্তমানে কুয়াকাটায় শুটকি শিল্পের অপার সম্ভাবনা থাকলেও নানা কারণে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে এ শিল্পের সাথে জড়িতদের ভাগ্য।

শুটকি ব্যবসায়ীরা বলেন, সরকারি সহয়তা পেলে শুটকি শিল্পে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি কুয়াকাটার শুটকি রপ্তানি আরো বাড়বে।

দেশের অন্যতম শুটকি উৎপাদন কেন্দ্র পটুয়াখলির সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটা। এখানে মাচা করে অস্থায়ীভাবে লইট্টা, লাক্ষা, কোড়াল, রপচাঁদাসহ নানা জাতের মাছ রোদে শুকিয়ে শুটকি তৈরি করা হয়। কোন রাসয়ানিক পদার্থের ব্যবহার ছাড়াই এখানে শুটকি তৈরি হয়। আর তাই দেশ-বিদেশ থেকে আসা পর্যটকদের নজর কাড়ে এখানকার শুটকি। তবে সরকারি সহয়তা এবং দাম ভালো না পাওয়ায় ক্রমশই ঝুঁকির মুখে পড়ছে শুটকি শিল্প।

দোকানিরা জানান, ‘কুয়াকাটার শুটকির খ্যাতি এখন দেশব্যাপী। আর এখানে বেড়াতে আসা পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ এই শুটকি পল্লী। তবে এনজিও থেকে ঋণ গ্রহন করায় বেশি সুদ দিতে হয় আমাদের’।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. মোঃ আবুল হাসানাত বলেন, ‘শুটকি বিদেশে রপ্তানী করার উদ্দেশ্যে সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষন এবং স্থায়ীভাবে একটি শুটকির মহল তৈরির পরিকল্পনা করা হচ্ছে’।

শুটকি পেশার সাথে জড়িতরা বলেন, ‘কুয়াকাটায় উৎপাদিত নানা জাতের শুটকি চলে যায় ঢাকা, চট্রগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। সরকার শুটকি উৎপাদনে গুরুত্ব দিলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে এখানকার শুটকি রপ্তানি করে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব’।

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ৮টি শুটকিপল্লীতে ৫শ’ পরিবারের ২ হাজার মানুষ এই শিল্পের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত রয়েছে।

সূত্র: ডিবিসি নিউজ

 

 

সর্বাধিক পঠিত