প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অস্ত্রের উৎস এখনো বের হয়নি

তারেক : গত বছর ১৮ জুন রাজধানীর উত্তরার বৌদ্ধমন্দিরের পাশে একটি খালে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। উত্তরার ঘটনার প্রায় এক বছরের মাথায় চলতি বছর ২ ও ৩ জুন নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকা থেকে কয়েক দফায় আবারও অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়।

অনেক দিন আগে ঘটলেও দুটি ঘটনার তদন্তই অনেকটা থমকে আছে। উেসর খোঁজ করতেও মন্থর গতিতে তদন্ত কর্মকর্তারা। উত্তরার ঘটনায় এক বছরের বেশি সময় আগে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হলেও চূড়ান্ত প্রতিবেদন এখনো দেওয়া হয়নি বলে এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন তারা। গত বছর ১৮ জুন রাতে উত্তরার ১৬ নম্বর সেক্টরের বৌদ্ধমন্দিরের পাশে একটি খালে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করে তুরাগ থানা পুলিশ। সে সময় পুলিশ জানিয়েছিল, সারা দেশে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানের কারণে সন্ত্রাসীরা ভয়ে এগুলো ফেলে রেখে গেছে। এই অস্ত্রগুলো আনার পেছনে আন্তর্জাতিক ও দেশীয় চক্রান্ত থাকতে পারে বলে তাদের ধারণা। অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় গত বছর ১৮ ও ২৫ জুন তুরাগ থানায় তিনটি জিডি হয়। এরপর তদন্তের ভার চলে যায় কাউন্টার টেররিজম ইউনিটে।

অস্ত্র উদ্ধার ঘটনার তদন্ত কর্মকর্তা কাউন্টার টেররিজমের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) ছানোয়ার হোসেন বলেন, ‘এখনো আমরা তদন্ত চালাচ্ছি। কিছু জায়গায় চিঠি দিচ্ছি। অস্ত্রগুলো কার, কোথা থেকে কীভাবে এসেছিল এর উৎস নির্ণয় করতে বিভিন্ন পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। এগুলোর প্রতিবেদন এখনো আসেনি। পরীক্ষার সঙ্গে যুক্তদের আবারও তাগাদা দেওয়া হয়েছে। সবগুলো প্রক্রিয়া শেষ করে যদি আমরা অস্ত্রের উৎস খুঁজে না পাই, তখন বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হবে। পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে তারাই সিদ্ধান্ত দেবেন। ’

উত্তরার ঘটনার প্রায় এক বছরের মাথায় ২ ও ৩ জুন রূপগঞ্জ এলাকা থেকে কয়েক দফায় আবারও অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করে পুলিশ।

রূপগঞ্জ থেকে অস্ত্রগুলো উদ্ধারের দিনই পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) কর্মকর্তারা জানান, উত্তরার অস্ত্রগুলোর সঙ্গে রূপগঞ্জের অস্ত্রের যোগসূত্র রয়েছে। একই ব্যক্তিরা অস্ত্রগুলো সেখানে ফেলে রেখে গেছেন বলে তারা ধারণা করছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বড় কোনো উদ্দেশ্যে কোনো গোষ্ঠী এসব সংগ্রহ করেছিল। এরপর যখন অস্ত্রগুলো তাদের কাছে বোঝা মনে হয়েছে, তখন ফেলে দিয়েছে। তবে এত অস্ত্র কীভাবে ঢাকায় ঢুকল, তা তদন্ত করে বের করতে হবে। রূপগঞ্জের ঘটনায় জড়িত অভিযোগে ওই এলাকার শরীফ খান, শাহীন হোসেন, রাসেল, শান্ত ও মুরাদ মিয়াকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সাব্বির নামে আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়। তবে উত্তরার অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো গ্রেফতার নেই। জানা গেছে, গত বছর ১৮ জুন বেলা ৩টার দিকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বেড়াতে বের হন পুলিশের এক কনস্টেবল। তখন তিনি উত্তরার ১৬ নম্বর সেক্টরের বেড়িবাঁধ-সংলগ্ন দিয়াবাড়ী এলাকার খালপাড়ে যান। বিকালে সেখানে তিনি একটি নম্বরবিহীন কালো জিপ দেখতে পান। জিপটির আশপাশে কয়েকজনের গতিবিধি দেখে তার সন্দেহ হলে তিনি বিষয়টি তুরাগ থানার পুলিশকে জানান।

পরে পুলিশের একটি দল সেখানে পৌঁছায়। এরপর পরিত্যক্ত অবস্থায় অস্ত্র ও গুলিভর্তি সাতটি ট্রাভেল ব্যাগের সন্ধান পায় পুলিশ। উদ্ধার অস্ত্র ও গুলির মধ্যে ছিল ৯৫টি ৭.৬২ এমএম পিস্তল, দুটি নাইন এমএম পিস্তল, ১০৬০ রাউন্ড গুলি (এর মধ্যে ৭.৬২ বোরের গুলি ২২০ রাউন্ড ও নাইন এমএম পিস্তলের গুলি ৮৪০ রাউন্ড), ৪৮৭টি ম্যাগাজিন (৭.৬২ বোরের ১৯২টি, এসএমজির ২৯৫টি ও গ্লোক পিস্তলের ১০টি), ১০টি বেয়নেট, পেট্রোবেরেটা ম্যাগাজিন ১০টি, ক্লিনিং রড ১৮৮টি, এসএমজি গুলি ২১৭ রাউন্ড ও গুলি বানানোর ছাঁচ বা আইএডি ১০৪টি। ওই দিন রাতেই পুরো এলাকা ঘিরে কিছু অস্ত্র উদ্ধারের পর অভিযান স্থগিত রাখা হয়। পরদিন খালটিতে তল্লাশি চালিয়ে আরও অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এ সময় ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা ও গাজীপুরের আটটি ইউনিট অংশ নেয়। ২ জুন রূপগঞ্জের গুতিয়াব এলাকার ব্লু-সিটি হাউজিং প্রকল্প থেকে দুটি এসএমজি এবং একই দিন রূপগঞ্জের পূর্বাচল উপশহরের ৫ নম্বর সেক্টরের পশ্চিম-উত্তর সীমানাসংলগ্ন ৩০৪ নম্বর রোডের উত্তর পাশে লেকের দক্ষিণ পাড়ে পানির নিচ থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। পরদিন রূপগঞ্জের বাসুন্দা এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদী থেকে এসএমজি উদ্ধার করা হয়।

সর্বশেষ গ্রেফতার হওয়া আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির পরিপ্রেক্ষিতে গুতিয়াব এলাকার একটি কবরস্থান থেকে পিস্তলের ৩১৫টি গুলি উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ঘটনায় ৩ জুন নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের তৎকালীন পরিদর্শক মাহমুদুল ইসলাম রূপগঞ্জ থানায় অস্ত্র আইনে মামলা করেন। প্রথমে মামলাটি তদন্ত করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মো. হাসান। পরে তা সিআইডির সিনিয়র এএসপি এহসান উদ্দিন চৌধুরীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। তিনি এ প্রতিবেদককে জানান, দিয়াবাড়ী আর রূপগঞ্জের অস্ত্রগুলো একই ধরনের। যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তারা ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। ইন্টারপোলের মাধ্যমে কাতারের দোহায় থাকা একজনকে ফেরত আনার চেষ্টা চলছে। কিন্তু অস্ত্রগুলো কারা রেখেছে এবং কোথা থেকে এসেছে সেই উেসর খোঁজ পাওয়া যায়নি। তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা জানান, পূর্বাচল উপশহরের অস্ত্রগুলো কে বা কারা ওই লেকে ফেলে যায়। এরপর এর সন্ধান প্রথমে জানতে পারেন হৃদয় নামে একজন। গত জানুয়ারিতে কাতারে যাওয়ার আগে তিনি পাঁচটি অস্ত্র তার চাচাতো ভাই মুরাদের কাছে এবং তিনটি অস্ত্র তিনজনকে দিয়ে যান। এর মধ্যে একটি অস্ত্র ইয়াবার বিনিময়ে কেনেন মাদক ব্যবসায়ী শরীফ, যার সূত্র ধরে পুরো ঘটনাটি উদ্ঘাটিত হয়। বাংলাদেশ প্রতিদিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত