প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ঢাকাকে ‘সুন্দর নগরী’ করার স্বপ্ন অপূর্ণই রয়ে গেল

নুরুল আমিন হাসান : ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আনিসুল হকের স্বপ্ন ছিল, রাজধানীর ঢাকাকে ‘সুন্দর নগরী’তে পরিণত করা। কিন্তু বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাতে লন্ডনের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। যার মধ্য দিয়ে রাজধানী ঢাকাকে ‘সুন্দর নগরী’তে পরিণত করার তার যে স্বপ্ন তা স্বপ্নই রয়ে গেল।

মেয়র আনিসুল হক, ২০১৫ সালে ডিএসসিসির মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই রাজধানীকে তার স্বপ্নের নগরীতে পরিণত করার জন্য ডিএনসিসি মার্কেট চালু করেছেন। অপরদিকে জনসাধারণের জন্য তেজগাঁওয়ের দখলকৃত ট্রাকস্ট্যান্ড সরিয়ে সড়ক উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন তিনি। যা ইতিপূর্বে অনেকেই চেষ্টা করেও ব্যার্থ হয়েছিলেন। উচ্ছেদকালে তিনি আহতও হয়েছিলেন। কিন্তু তবুও পিছ পা হন তিনি। এছাড়াও তিনি শ্যামলী থেকে আমিনবাজার পর্যন্ত সড়ক পার্কিংমুক্ত ঘোষণা করেছেন। অপরদিকে ফুটপাত দখলমুক্ত করাসহ বেশ কিছু প্রশংসনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন আনিসুল হক। এছাড়া রাজধানীর সৌন্দর্য্য বর্ধনে বেশকিছু উদ্যোগ নিয়েছিলেন।

সম্প্রতি বছরের শুরুতে বিভিন্ন পত্রিকার সম্পাদকদের সঙ্গে এক বৈঠকে এমনই কিছু উদ্যোগের কথা জানিয়েছিলেন তিনি। এসব উদ্দেগ্যের মধ্যে রয়েছে, রাজধানীকে সুন্দর করতে যানজট নিরসনে তেজগাঁওসহ ১০টি এলাকার রাস্তা দখলমুক্ত করা, ২২টি ইউলুপ নির্মাণ, ৩ হাজার বাস নামানো, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ৭২টি সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন স্থাপন, সবুজায়নে ইকো বাস সার্ভিস চালু, ২০ হাজার বিলবোর্ড উচ্ছেদ ও পরিকল্পিত বিলবোর্ড স্থাপন, জলাবদ্ধতা নিরসনে উদ্যোগ গ্রহণ, সড়কে এলইডি বাতি সংযোজন, প্রধান সড়কগুলোকে রিকশামুক্ত করা, গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও পাবলিক টয়লেট স্থাপন।

২০১৫ সালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আনিসুল হক আওয়ামী লীগ থেকে মেয়র পদের জন্য মনোনয়ন লাভ করেন। উক্ত নির্বাচনে তিনি রাজধানীবাসীর বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন। নির্বাচনের বিজয়ী লাভ করার পর থেকে তার অদম্য সাহস ও ইচ্ছা শক্তি নিয়েই কাজ করছিলেন রাজধানী ঢাকাকে তার স্বপ্নের নগরী হিসাবে গড়ে তোলার জন্য।

এছাড়াও গত শতাব্দির আশির দশক থেকে নব্বইয়ের দশকে টেলিভিশন উপস্থাপক হিসেবে সুপরিচিত লাভ করেন।এছাড়াও আনিসুল হক ১৯৯১ সালের নির্বাচনের পূর্বে বিটিভিতে শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার মুখোমুখি একটি অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেছিলেন।

অপরদিকে ব্যবসায়ী হিসেবেও আনিসুল হক ছিলেন সফল। ২০০৫ থেকে ২০০৬ সালে বিজিএমইএর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন এবং ২০০৮ সালে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি।

মৃত্যুকালে আনিসুল হকের স্ত্রী রুবানা হক ও তাদের তিন সন্তান রেখে গেছেন। তাদের বড় ছেলে নাভিদুল হক বোস্টনের বেন্টলি ইউনিভার্সিটি থেকে ব্যবস্থাপনায় উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করে বর্তমানে মোহাম্মদি গ্রুপের পরিচালক ও দেশ এনার্জি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে কাজ করছেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ