প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘বিশ্বাস ছিল শেষ পর্যন্ত থাকতে পারলে জিতবো’

স্পোর্টস ডেস্ক: এবারের বিপিএলের অন্যতম আবিষ্কার খুলনা টাইটানসের আরিফুল হক। ৪০ আর ৩৪ রানের দুটো ভালো ইনিংস খেলে চিটাগং ভাইকিংসের বিপক্ষে দু-দুবার জয় এনে দিয়েছেন দলকে।

আজ অবশ্য ছাড়িয়ে গেছেন আগের দুই ইনিংসকে। রাজশাহী কিংসের বিপক্ষে খাদের কিনারায় চলে যাওয়া খুলনার জয়ের নায়ক আরিফুল। তার ১৯ বলে অপরাজিত ৪৩ রানের দুর্দান্ত ইনিংসে ভর করে দুই উইকেটের নাটকীয় জয় পাওয়া টাইটানসের সামনে প্লে-অফে খেলার হাতছানি।

ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতে সংবাদ সম্মেলনে অনেক কথাই বললেন তরুণ এ  আক্রমণাত্মক ব্যাটসম্যান।

প্রশ্ন: ১৮তম ওভারে বল করতে আসেন হোসেন আলী। ওই ওভারে ১৮ রান তুলে নেন আপনি। তুলনামূলক অনভিজ্ঞ বোলার বলেই কি হোসেন আলীর ওভারে আক্রমণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন?

আরিফুল: হোসেন আলীর ওভার টার্গেট করেছিলাম, কারণ এরপর বিদেশি বোলার চলে আসতো। হোসেন চেষ্টা করছিল ব্লকে বল করার, আর আমার লক্ষ্য ছিল মারার। আমার পরিকল্পনা সফল হয়েছে।

প্রশ্ন: অন্যপ্রান্তে স্বীকৃত ব্যাটসম্যান ছিল না। ওই মুহূর্তে আপনার লক্ষ্য কী ছিল?

আরিফুল: লক্ষ্য ছিল হয় ছক্কা মারবো, নয়তো দুই নেবো। মানে বলে জোরে হিট করবো।

প্রশ্ন: শেষ তিন ওভারে ৩৬ রানের প্রয়োজনের সময় কী ভাবছিলেন?

আরিফুল: আমার বিশ্বাস ছিল শেষ পর্যন্ত থাকতে পারলে ম্যাচ জিতবো। অন্যপ্রান্তে জুনায়েদ ভাইও (জুনায়েদ খান) অনেক সাহায্য করেছেন। আরেকটা ব্যাপার, ফিল্ডার দূরে থাকলে মিস হিট হলেও দুই রান হওয়ার সুযোগ থাকে। আমাদের কম্বিনেশনটা সুন্দর হয়েছে।

প্রশ্ন: ব্যাটসম্যান হিসেবে আপনি কি আগের চেয়ে পরিণত?

আরিফুল: এভাবে ম্যাচ জিতলে আত্মবিশ্বাস অনেক বেড়ে যায়। পরবর্তীতে এরকম পরিস্থিতিতে পড়লে মনে পড়ে যে আগেও এভাবে ম্যাচ জিতিয়েছিলাম। এটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার।

প্রশ্ন: জাতীয় লিগে সেঞ্চুরি আছে আপনার। সেই অভিজ্ঞতা আজ কতটা কাজে লেগেছে?

আরিফুল: জাতীয় লিগ আর এটা আলাদা খেলা। কিন্তু আসলে পার্থক্য তেমন কিছু নেই। টানা ভালো খেলতে থাকলে আত্মবিশ্বাস এমনিই বেড়ে যায়।

প্রশ্ন: এই বয়সে এসে নিজেকে নিয়ে কী ভাবছেন?

আরিফুল: গত মৌসুমে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে আমার ব্যাটিং অর্ডার ঠিক ছিল না, আট-নয় নম্বরে ব্যাট করেছি। অত নিচে নামলে বড় ইনিংস খেলা যায় না। আমি আগেও ক্যারিয়ার নিয়ে চিন্তা করতাম, সবসময় চেষ্টা করতাম ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম করার। হয়তো সবসময় তা পারিনি। এখন আবার নতুন করে নিজেকে নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করছি।

প্রশ্ন: খুলনা টাইটানসে সতীর্থদের কাছ থেকে কেমন সহায়তা পাচ্ছেন?

আরিফুল: রিয়াদ ভাই অনেক সমর্থন দিচ্ছেন। তিনি বলেছেন, ‘শেষ মৌসুমে অনেক খেলা শেষ করে এসেছিস। সেবার বেশিরভাগ সময় অপরাজিত ছিলি, এবারও চিন্তা করবি অপরাজিত থাকার।’ এটা আমাকে সাহায্য করছে।

প্রশ্ন: বিপিএলের চাপ সামলানো বেশ কঠিন। আপনি কীভাবে সামলাচ্ছেন?

আরিফুল: শুরুতে দু-একটি শট ব্যাটের মাঝখানে লাগলে এমনিই আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায়। আমার একটু সময় লাগে থিতু হতে। যদি ছয়-সাত বল ক্রিজে থাকতে পারি, রান করি, তাহলে নির্ভার লাগে। এর আগে একটু নার্ভাস থাকি।

প্রশ্ন: আপনি পাওয়ার ব্যাটিংয়ে অভ্যস্ত। এই ফরম্যাট কতটা উপভোগ করেন?

আরিফুল: টি-টোয়েন্টি আমার প্রিয় খেলা। টি-টোয়েন্টিতে উত্তেজনা বেশি থাকে বলে এই ফরম্যাটের ক্রিকেট খেলতে অনেক মজা লাগে।

প্রশ্ন: আগের আরিফুল আর বর্তমান আরিফুলের মধ্যে পার্থক্য কতখানি?

আরিফুল: আগে আমার ব্যালান্সে সমস্যা ছিল। এবার খুলনা টাইটানসের কোচ মাহেলা জয়াবর্ধনে আমার ব্যালান্স নিয়ে কাজ করেছেন। আগে বল মারার সময় আমার বডি ওয়েট পেছনে চলে যেতো। মাহেলা এই সমস্যা নিয়ে কাজ করায় অনেক উপকার হয়েছে আমার। বাংলাট্রিবিউন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ