প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মেঘনা ব্যাংকের এমডির পদত্যাগ

আনোয়ার হোসেন: পদত্যাগ করলেন মেঘনা ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ নূরুল আমিন। গত ১৯ নভেম্বর ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় তার পদত্যাগপত্র অনুমোদন করা হয়। ৩০ নভেম্বর থেকে তাঁর পদত্যাগপত্র কার্যকর হবে।

স্বাভাবিকভাবে তার চাকরির মেয়াদ ছিল আগামী বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত। এর আগে এক মাসের ছুটি নিয়ে বিদেশ থেকে ফিরে ১ নভেম্বর কর্মস্থলে যোগ দেন। ২ নভেম্বর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণ দেখিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন নূরুল আমিন। ৬ নভেম্বর চেয়ারম্যান এইচ এম আশিকুর রহমানের অনুপস্থিতিতে বোর্ড মিটিংয়ে বিষটির সুরাহা হয়নি। পরে ১৯ নভেম্বর ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে মেঘনা ব্যাংকের চেয়ারম্যান এইচ এম আশিকুর রহমান বলেন, আমি দেশের বাইরে ছিলাম। স্বাভাবিক ভাবেই তিনি পদত্যাগ করেছেন। তবে যে ঋণ জালিয়াতির কথা বলা হচ্ছে এর সাথে একটা সম্পর্ক থাকতে পারে এই পদত্যাগের। এই বিষয়টি ছাড়া পদত্যাগের পেছনে অন্য কোনো বিষয় আছে কি না, তা আমার জানা নেই। এর চেয়ে বেশি কিছু তিনি বলতে রাজি হননি।

জানা যায়, ব্যাংকটির ধানমন্ডি শাখা থেকে কৃষিতে ব্যবহার্য কেমিক্যাল জাতীয় পণ্য আমদানি ও বাজারজাতকরণের নামে ঋণ হাতিয়ে নেয় রূপালী করপোরেশন নামে একটি প্রতিষ্ঠান। সুদসহ প্রতিষ্ঠানটির কাছে মেঘনা ব্যাংকের পাওনা ৪৭ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। দুই প্রকার কেমিক্যাল আমদানি করার অনুমতি ছিল রূপালী করপোরেশনের। কৃষিতে ব্যবহার্য হওয়ায় তার শুল্ক ছিল অনেক কম। কিন্তু ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণের আশ্বাস পান রূপালী করপোরেশনের এমডি মো. ইসতাক। প্রতিষ্ঠানটিকে ঋণ বিতরণ করে মেঘনা ব্যাংকের ধানমন্ডি শাখা। ব্যাংক থেকে টাকা পেয়ে অননুমোদিত অন্তত ৮ প্রকারের কেমিক্যাল আমদানি করে প্রতিষ্ঠানটি। মোংলা বন্দর থেকে ওই পণ্য কৃষিতে ব্যবহার্য পণ্য হিসেবে দেখিয়ে কম শুল্কে খালাসের চেষ্টা করেন মো. ইসতাক। কিন্তু মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ যাচাই-বাছাই করে ওই পণ্যগুলোর ওপর ৬০ শতাংশ শুল্ক আরোপের কথা জানায়। মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে শুল্ক ফাঁকির অভিযোগ আনা হয় রূপালী করপোরেশনের বিরুদ্ধে। পরে পণ্য খালাস করেনি রূপালী করপোরেশন। বর্তমানে ওই পণ্য মোংলা বন্দরে আটকে রয়েছে। ওই পণ্য আমদানিতে অর্থায়ন করে মেঘনা ব্যাংকের টাকাও আটকে গেছে।

ব্যাংকের একটি সূত্র জানায়, ব্যাংকের শীর্ষ ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে যোগসাজশ করে এই ঋণ নিয়েছে রূপালী করপোরেশন। ব্যাংকটির অডিট কমিটি ঋণের বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে মেঘনা ব্যাংকের এমডি মোহাম্মদ নুরুল আমিনকে দায়ী করেন। পরিচালনা পর্ষদের একটি পক্ষ এই ঋণ জালিয়াতিসহ অন্য কারণে মোহাম্মদ নুরুল আমিনকে পদত্যাগ করতে বলেন। তবে আনেকে নুরুল আমিনকে এমডি হিসেবে রাখার পক্ষে। এর মধ্যে গত অক্টোবরে এক মাসের ছুটি নিয়ে বিদেশ চলে যান। তিনি স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য ব্যাংককে যান বলে একটি পক্ষ জানায়। তবে গত ১ নভেম্বর তিনি কাজে যোগ দেন।

এ বিষয়ে মোহাম্মদ নূরুল আমিন এর সাথে একাধিক বার ফোন করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। মোহাম্মদ নূরুল আমিন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সাবেক চেয়ারম্যান। তিনি বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের (বাফেদা) চেয়ারম্যান। মেঘনা ব্যাংকের পূর্বে তিনি এনসিসি ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।