প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ত্রিশালে নাতির সাথে নানীও দিচ্ছেন পিইসি পরীক্ষা!

আজহারুল হক, ময়মনসিংহ : ময়মনসিংহের ত্রিশালে প্রায় ৬৬ বছর বয়েসী এক বৃদ্ধ নারী নিরক্ষরতার অভিশাপ থেকে নিজেকে মুক্ত করতে নিজের নাতি জিহাদ মিয়ার (১০) এর সাথে এবার প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন।

নানী সুন্দরী বেগম ও নাতি জিহাদ উপজেলার সাউথকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের থেকে পিইসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। সুন্দরী বেগম হরিরামপুর ইউনিয়নের সাতকান্দা কৃষক আবুল হোসেনের স্ত্রী

মঙ্গলবার বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় পরীক্ষা চলাকালে চাউলাদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, ওই কেন্দ্রের ৩শ’ ৭০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬৬ বছর বয়সী সুন্দরী বেগমও মনোযোগ সহকারে অবিরাম খাতায় লিখে যাচ্ছেন।

কেননা তাকে যে ভাল ফলাফল করে নিরক্ষর মুক্ত হতে হবে।

পরীক্ষা কেন্দ্রে বসেই সুন্দরী বেগম জানান, তার স্বামী আবুল হোসেন পেশায় একজন বর্গাচাষী। তারা স্বামী-স্ত্রী কেউ লেখাপড়া জানেন জানেন না। শ্বশুরের পরিবার অতিদরিদ্র হওয়ায় ইচ্ছে থাকা স্বত্বেও পড়াশোনা করা সম্ভব হয়নি।

দরিদ্রতার কারনে সন্তানদেরও পড়াশোনা করাতে পারেননি এই দম্পতি। এই দম্পতির ৪ ছেলে ১ মেয়ে। এদের মধ্যে ২ ছেলে ভ্যান চালক, ১ জন সৌদি প্রবাসী। শুধু ছোট ছেলে সাইদুল ইসলাম অর্ধহারে-অনাহারে থাকার পরেও এইচএসসি করেছিল।

তিনি আরো জানান, ৬ বছর আগে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক কাশিগঞ্জ শাখায় হিসাব খুলতে যান। সুন্দরী বেগম কোনো রকম স্বাক্ষর করতে পারতেন।

হিসাব খুলতে তিনটি স্বাক্ষরের প্রয়োজন ছিল। তিনি স্বাক্ষর তিনটি করতে সক্ষমও হয়েছিলেন। কিন্তু তিনটি স্বাক্ষরের মধ্যে একটি স্বাক্ষর ভুল হয়ে যায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ব্যাংকের ব্যবস্থাপক হিসাব খোলার ফাইলটি সুন্দরী বেগমের সামনে ছুড়ে মারেন। ওই দিন তিনি প্রচন্ড কেঁদে ছিলেন।

বাড়ি ফিরেই তিনি প্রতিজ্ঞা করেন, যে কোনো মূল্যে তাকে নিরক্ষরতার অভিশাপ থেকে মুক্ত হতে হবে।

পরের দিন নাতি জিহাদকে নিয়ে সাউথকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হন। ঝিয়ের কাজের পাশাপাশি প্রতিদিন নিয়মিত স্কুলে ক্লাস করতেন।

৬ বছর পরিশ্রমের পর এ বছর তিনি নাতির সঙ্গে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছেন।
এই বৃদ্ধার পড়াশোনার প্রতি ব্যাপক আগ্রহ দেখে ত্রিশালের সাবেক শিক্ষা কর্মকর্তা তাকে লেখাপড়া করতে তাকে উৎসাহ ও প্রেরনা যোগিয়েছিলেন।

সাউথকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুস সালাম বলেন, আমার স্কুলের থেকে এবার পিইসি পরীক্ষায় সুন্দরী বেগমসহ ২৮ জন অংশ নিয়েছে। আমাদের প্রত্যাশা তিনি ভাল ফলাফল করবেন।

ত্রিশাল উপজেলার সাবেক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ মুঠোফোনে জানান, সুন্দরী বেগম স্কুলে ভর্তি হওয়ার পর আমি তাকে লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পরামর্শ দেই। এখন তিনি পিইসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন।

আমার বিশ^াস তিনি ভাল ফলাফল করে নিরক্ষরতার অন্ধকার থেকে নিজেকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করার দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ