প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

এখনো ৮৩ ভাগ শিশু স্কুল ফিডিংয়ের বাইরে

জান্নাতুল ফেরদৌসী: ১৬ বছরে মাত্র ১৭ ভাগ প্রাথমিক শিক্ষার্থীকে আনা হয়েছে স্কুল ফিডিংয়ের আওতায়। এই কর্মসূচির বাইরে আছে এখনও বাংলাদেশের ৮৩ ভাগ প্রাথমিক শিক্ষার্থী। অথচ এই কর্মসূচির আওতায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে ৯০ শতাংশ শিশু পাচ্ছে দুপুরের খাবার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সুবিধা পুরোপুরি দিতে না পারায় প্রাথমিকে বাড়ছে না শিক্ষার্থী, কমছে না ঝড়ে পড়ার হারও। সূত্র- ইনডিপেনডেন্ট টিভি

প্রাথমিক শিক্ষায় ঝড়ে পড়া বন্ধে সরকার ২০০১ সালে সরকারি স্কুলে চালু করে ফিডিং কর্মসূচি। কথা ছিলো, এর আওতায় খাবার পাবে ২ কোটির বেশি শিক্ষার্থী। তবে ১৬ বছরেও তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি মন্ত্রণালয়। এ পর্যন্ত এই সুবিধা পাচ্ছে মাত্র ৩২ লাখ স্কুল ছাত্রী।

লহ্মীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১ হাজার ৩০টি। এরমধ্যে মাত্র ৯৫টি স্কুলে চালু আছে ফিডিং কর্মসূচি। শিক্ষার্থীরা পাচ্ছে ৭৫ গ্রামের এক প্যাকেট বিস্কুট।

শিক্ষার্থীরা বলছে, খাবার খাওয়ার ফলে টিফিনের পরের ক্লাসগুলোতে আমরা মনোযোগ দিতে পারি। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই সুবিধা সব বিদ্যালয়ে দেয়া হলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়তো।

উত্তর দূর্গাপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজিম উদ্দিন বলেন, লহ্মীপুরে প্রত্যেকটি স্কুলে এই কর্মসূচি চালু করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেছি।

প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, বিস্কুট না দিয়ে এই প্রকল্পের আওতায় দুপুরে গরম ভাতের ব্যবস্থা করা গেলে সাফল্য আসতো আরো বেশি।

গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, ঝড়ে পড়ার একটি কারণ হলো ক্ষুধা। আরেকটি কারণ, বিদ্যালয় তাদের কাছে আকর্ষণীয় নয়। সেই জায়গায় আমাদের দৃষ্টি দেয়া উচিত।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর জানান, সব শিক্ষার্থীকে স্কুল ফিডিংয়ের আওতায় আনা হচ্ছে। তবে কবে এই ব্যবস্থার বাস্তবায়ন হবে তার কোনো সদুত্তর নেই।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, একটি ন্যাশনাল স্কুল ফিডিং পলিসি তৈরি করছে মন্ত্রণালয়। এই পলিসির কাজ শেষ পর্যায়ে।

ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কাসহ দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় সব দেশে স্কুল ফিডিংয়ে দেয়া হয় গরম খাবার। আফ্রিকার দরিদ্র দেশগুলোও শতভাগ স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায়।