প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বাংলাদেশকে জবাব দিতে হবে

মে. জে. (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক :
ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রীগণ কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উখিয়া অঞ্চলে রোহিঙ্গাদের দেখতে গিয়েছিলেন, এই সংবাদটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিয়ানমারের রাজধানী সফরে যাবেন এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশগ্রহণ করবেন, বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের। এই রকম প্রেক্ষাপটে এই সফরটি গুরুত্বপূর্ণ। আমরা আশা নিয়ে পর্যবেক্ষণ করছি। পৃথিবীর বিভিন্ন রাষ্ট্র বাংলাদেশের এই কৌশলগত সংকটময় মুহূর্তে কিছুই পদক্ষেপ নেয়নি। প্রথমত আমরা খেয়াল করেছি যে, কয়েকদিন আগে জাতিসংঘে ভোটাভুটি হয়েছে।

তাতে ১৩৫টি দেশ মিয়ানমারকে নিন্দা জানিয়েছে। তাদের আগ্রাসীমূলক জাতিগত কর্মকান্ড, গণহত্যা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। অল্প কিছু দেশ এই প্রস্তাবের প্রত্যক্ষ বিরোধীতা করে ভোট দিয়েছেন। আর কিছু দেশ বিরত থেকেছে। তাই আমরা চিনতে পেরেছি এই মুহূর্তে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মধ্যে কোনটি আমাদের পাশে থাকবে, কোনটি থাকবে না। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন প্রথম থেকেই বাংলাদেশের এই সংকটময় মুহূর্তে কৌশলগত সমর্থন দিয়ে আসছে।

মিয়ানমারের ওপরে চাপ প্রয়োগ করে আসছে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন আমাদের বড় একটি বাণিজ্যিক পার্টনার, যেমন: আমেরিকা। তারা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেছেন, রোহিঙ্গাদের সাথে কথা বলেছেন। আমি এই ঘটনা চট্টগ্রাম মহানগরে বসে অনুসরণ করছি। আমার বাড়ি যেহেতু চট্টগ্রাম এবং আমাদের যোগাযোগের মাধ্যম আছে জানার জন্যে, আলাপ করার জন্যে, রাজনৈতিক ভাবে, তাই অনুসরণ করছি। সেখানে রোহিঙ্গাদের কথা, বিদেশি পররাষ্ট্র মন্ত্রীগণ প্রত্যক্ষভাবে শুনেছেন। যদিও বুঝতে হয়েছে অনুবাদকারীর মাধ্যমে। রোহিঙ্গাগণ স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ‘আমরা যদি বাংলাদেশে আশ্রয় না পেতাম, তাহলে নিশ্চিত মারা যেতাম।

সবাই ধ্বংস হয়ে যেতাম। এই রকম একটি সাহসী পদক্ষেপ বাংলাদেশ অতীতেও নিয়েছে আমাদের জন্যে, এবারও নিয়েছে, তার জন্য অনেক ধন্যবাদ। আমরা চির কৃতজ্ঞ। ’ আবার তাদেরকে যখন প্রশ্ন করা হয় আপনারা এভাবে কষ্ট করে কিভাবে থাকবেন? কতদিন থাকবেন? তখন তারা বলে, আমরা এখানে চিরকাল থাকতে আসিনি। আমরা আমাদের দেশে ফেরত যেতে চাই। আমাদেরকে যেন কেউ ভুল না বোঝে। কিন্তু আমরা যে দেশে ফেরত যাব, তার জন্য আপনারা সবাই মিলে পরিবেশের গ্যারান্টি দিবেন।’

যারা প্রবীণ তারা বলেছে, ‘বাংলাদেশ তার দায়িত্ব পালন করেছে। এখন পৃথিবী যেন তাদের দায়িত্ব পালন করে। আমরা সেখানে ফেরত যাব, যেতে চাই। আগ্রহের অভাব নেই। কিন্তু সেখানে যাবার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। আমাদেরকে গ্যারান্টি দিতে হবে। আমরা যে যুগের পর যুগ নাগরিকত্ব অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছি, সেই নাগরিকত্বের অধিকার দিতে হবে। মগেরা যে আবার আক্রমণ করবে না তার গ্যারান্টি দিতে হবে।’ আমি রোহিঙ্গাদের সাথে একমত। শুধু ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই কাজটি করতে পারবে না। শুধু আমেরিকা এই কাজটি করতে পারবে না। এর জন্য পৃথিবীর আরও কয়েকটি বড় দেশের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা লাগবে। ভারত, চীন ও রাশিয়া। আমরা আশা করব বাংলাদেশ সরকার তাদের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই তিনটি দেশকে আশ্বস্ত করে বাংলাদেশের পক্ষে তথা রোহিঙ্গাদের পক্ষে আনতে পারবে। আমরা সাধারণ নাগরিক হিসেবে এবং একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমি উদ্বিগ্ন। বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে ভালো সম্পর্ক আছে বলে এতদিন জানতাম। কিন্তু বাংলাদেশের এই কৌশলগত কূটনৈতিক প্রয়োজনের সংকটময় দিনে ভারত আমাদের পাশে যে দাঁড়াল না, এটা ইতিহাসে একটি মারাতœক দুর্ঘটনা হিসেবে লিপিবদ্ধ থাকবে। তাই আমি আবেদন করছি সরকারের নিকট, এখন থেকে আমরা আমাদের বন্ধু বিদেশি রাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে আরও সাবধানতা মূলক পদক্ষেপ নেব। বাংলাদেশের পক্ষে একা দশ লক্ষ রোহিঙ্গার ভার বহন করা কোনো মতেই সম্ভব নয়।

আমার ভাষায়, মিয়ানমার আমাদের ওপর একটি আক্রমণ পরিচালনা করছে। শুধুমাত্র গুলি ছুড়লেই বা হেলিকপটার আকাশ সীমা লঙ্ঘন করলেই আক্রমণ করা হয় না। অনেক বড় আকারের একটি আক্রমণ। দশলক্ষ মানুষকে বাংলাদেশে ঢুকিয়ে দিয়েছে। তারা আমাদের জমি দখল করছে। অস্থায়ীভাবে হোক। আমরা মানবিক দৃষ্টিতে দেখছি। বাস্তবে তো তারা আমাদের সুযোগ সুবিধা, স্থান, পরিবেশ সব কিছুর ওপর প্রভাব বিস্তার করছে। স্থানীয় মানুষের কষ্ট হচ্ছে। আমি তাই বলতে চাই, এই আক্রমণের জবাব দেওয়ার জন্যে বাংলাদেশকে বহুমুখী পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিতে হবে।

পরিচিতি : চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি
মতামত গ্রহণ : সানিম আহমেদ
সম্পাদনা : মোহাম্মদ আবদুল অদুদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ