প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

একটি দলের সাফল্য কখনো কোচের উপর নির্ভর করে না

অঘোর ম-ল : একটি সিরিজের মাঝ পথে যখন একজন কোচ পদত্যাগ করেন, কারণটা তিনিই জানেন, কেন তিনি পদত্যাগ করলেন। সংবাদমাধ্যম কর্মী হিসেবে আমাদের জানার ছিল আগামী বিশ্বকাপ পর্যন্ত বাংলাদেশ দলের সঙ্গে তার চুক্তি এবং বিশ্বকাপকে ঘিরেই এ পর্যন্ত তিনি দলটিকে সেভাবেই গুছিয়ে নিয়েছিলেন। তার এই দল গোছানো নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হতে পারে, প্লেয়ার পছন্দ-অপছন্দ নিয়ে, আরও অনেক বিষয় নিয়ে তর্ক হতে পারে কিন্তু তিনি আগামী বিশ্বকাপকে সামনে রেখেই এগোচ্ছিলেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও তাকে সেভাবেই রেখেছিলেন, এক কথায় বলা যায়, তাকে পুরোপুরি স্বাধীনতা দিয়েছিলেন। বোর্ড কর্মকর্তারা তার উপর আস্থা রেখেছিলেন, মাঝপথে পদত্যাগ করে সেই আস্থার প্রতিদান তিনি কতটুকু দিলেন সেটা বোর্ড কর্মকর্তারাই ভাল বলতে পারবেন।

 

একটা দল লম্বা সময় ধরে একটা কোচের অধীনে থাকলে তিনি দলটাকে যেভাবে চেনেন, তিনি যদি না থাকেন, সেক্ষেত্রে আগামী বিশ্বকাপ খুব বেশি দূরে নয়। ২০১৯ সালের বিশ্বকাপ, আমরা বলতে পারি বড়জোর দেড়বছর সময় পাবেন বাংলাদেশ দলকে নিয়ে কাজ করার জন্য, যিনিই নতুন কোচের দায়িত্ব নিবেন। তার কাছ থেকে কোচ হিসেবে বাংলাদেশ আশা করবে অবশ্যই ভাল খেলা। গত বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা বাংলাদেশে, বিশ্বকাপ ইংল্যান্ডের মাটিতে সেরকম একটা জায়গায় যাবে বা ভাল কিছু করবে, এটা বাংলাদেশের মানুষ প্রত্যাশা করে। এখানে বাংলাদেশ দলটা কোচের নাম হাতুরে সিংহ হোক বা অন্য যা হোক বা যার নামই হোক না কেন, বাংলাদেশের মানুষ এই দলের কাছে ভাল একটা ফলাফল প্রত্যাশা করে।

 

দল হিসেবে বাংলাদেশ দলটা এখন অনেকটাই গোছানো। বর্তমান বাংলাদেশ দলে একঝাঁক অভিজ্ঞ খেলোয়াড় যেমন আছেন, সেই সঙ্গে আছেন একঝাঁক প্রতিভাবান তরুণ ক্রিকেটার, যারা আগামী এক থেকে দেড় বছরে নিজেদেরকে আরও মেলে ধরার সুযোগ পাবে, দেশের মাটিতে, ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজ বা ইন্ডিয়ায় টি-টোয়েন্টি বা অন্যান্য খেলার মধ্য দিয়ে। একটা দলে কোচের ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু দল ব্যর্থ হলে কোচের অভাব অনুভূত হয় বা সফল হলে কোচ সব করেছেন এই তত্ত্ব বা এই থিওরিতেই আমি খুব একটা বিশ্বাসী না। আমার বিশ্বাস মাঠের ২২ গজে যা কিছু ঘটে তার দায়িত্বটা ক্রিকেটারদের। সাফল্য এবং ব্যর্থতার দায়টা তাদেরকেই নিতে হয়। সেই জায়গা থেকে বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা এখন অনেক বেশি পেশাদার এবং এই পেশাদারী মানসিকতা নিয়েই তারা জানবেন যে, বিশ্বকাপে কার সঙ্গে কার কি খেলা, বা কিভাবে তারা তাদের গেম প্লেন সাজাবেন। ইংলিশ কন্ডিশনে বাংলাদেশ আগে খুব খারাপ করেছে তাও কিন্তু নয়। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বাংলাদেশ সেমিফাইনাল খেলেছে, এটা অবশ্যই বড় একটা ব্যাপার। যদি টুর্নামেন্টের ইতিহাস দেখেন, সেই জায়গা থেকে বলা যায়, আজ থেকে আঠারো বছর আগেও কিন্তু বাংলাদেশ পাকিস্তানকে হারিয়েছিল, যখন বাংলাদেশ টেস্ট স্ট্যাটাস পায়নি।

 

আবার ইংল্যান্ডের মাটিতে বাংলাদেশ দল পরবর্তীতেও বেশ কয়েকটি টুর্নামেন্ট খেলেছে, লর্ডস টেস্ট এ শতরান করা প্লেয়ার আছেন তামিম। এরকম একটা দল যখন আছে, সেই দলটা ভাল খেলবে এটাই বড় কথা। কে আছেন, কে আসবেন, কে থাকবেন এটা যদি ক্রিকেটারদের বা ক্রিকেট বোর্ডের মাথায় ঘুরপাক খায়, তাহলে দলের কাছে খুব বেশি ভাল কিছু আশা করা যায় না। নিশ্চিতভাবেই পেশাদারী ক্রিকেটারদের পাশাপাশি পেশাদারিত্ব দেখাবে টিম ম্যানেজমেন্ট এবং বোর্ড কর্মকর্তারা। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ অবশ্যই আশা করবেন যে, দলটা ভাল খেলবে। কারণ, বাংলাদেশ দলের পারফরম্যান্সের গ্রাফটা মোটামুটি ঊর্ধ্বমুখীই বলা যায়। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরটিতে হয়তো হাতুরে সিংহ নিজেও একটু আঁচ করতে পেরেছিলেন যে, পারফরম্যান্সের গ্রাফটা নিম্নগামী বা অবনতি। সেটা টের পেয়েই তিনি তার দায়িত্ব থেকে সরে গেলেন নাকি শ্রীলঙ্কায় অনেক বড় অর্থের অফার পেয়ে সরে গেলেন সেটা তিনিই ভাল বলতে পারেন। তবে জায়গা কারো জন্য কখনই শুন্য থাকে না। কেউ না কেউ জায়গাটা ঠিকই পূরণ করবেন। যিনি আসবেন তিনি বাংলাদেশ দলকে ভালভাবে গোছাবেন, বাংলাদেশ দলের জন্য ভাল কিছু করবেন সেটাই প্রত্যাশা করি।

পরিচিতি : ক্রীড়া বিশ্লেষক
মতামত গ্রহণ : সাগর গনি
সম্পাদনা : মোহাম্মদ আবদুল অদুদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ