প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অঘোষিতভাবে জোড় ইজতেমার মোনাজাত শেষ
গভীর রাতেও বনানী থেকে টঙ্গী সড়কে মহা-দুর্ভোগ

নুরুল আমিন হাসান: অঘোষিতভাবে টঙ্গী ইজতমা ময়দানের জোড় ইজতেমা শেষ হয়ে যাওয়ায় ঢাকা – ময়মনসিংহ মহাসড়কের বনানী থেকে টঙ্গী পর্যন্ত মহাসড়ক জুড়ে তীব্র যানজটের কবলে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। ফলে মহাসড়ক যাত্রীদের মহা-দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। এতে ঢাকা টু উত্তরবঙ্গগামী যাত্রীরা জানেন না কখন তারা নিজের গন্তব্যস্থলে পৌঁছাবেন।
ঢাকা – ময়মনসিংহ মহাসড়কের বনানী থেকে টঙ্গী পর্যন্ত সোমবার বিকেলে থেকে সরেজমিনে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত এ যানজটের দেখা যায়।
যাত্রীরা জানান, হটাৎ করেই মহাসড়কে ভয়ানক যানজটের কারণে বিশাল মুশকিলে পড়েছেন তারা। যেখানে ১০/১৫ মিনিটেই মহাখালী থেকে উত্তরায় রাতে রাস্তায় আসা যায়। একই পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে কয়েক ঘন্টায়। তারও ঠিক নেই যে কখন কাজ শেষে বাসায় ফেরা যাবে।
এদিকে অতিযানজটের কারণে মহাসড়ক থেকে যাত্রীবাহী বাসসহ মালবাহী কাভার্ড ভ্যান থেকে শুরু করে ছোট, বড় ও মাঝারী সব ধরণের গাড়ী শাখা রোড গুলোতেও ঢুকে যাচ্ছে। এতে একই সাথে মহাসড় ও শাখা রোডেও যানজটের নাকালে পড়তে হচ্ছে। আবার অনেক গাড়ীই আগে যাওয়ার জন্য উল্টো পথ অবলম্বন করছে। ফলে সড়কের দু’পাশেই ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয়েছে।
অপরদিকে উত্তরার সেক্টরগুলোর আবাসিক এলাকার খোলা পথেও সড়কে গাড়ী ভীড় জমিয়েছে। ফলে সেক্টরবাসীর রাতে ঘুমাতে ব্যাপক বেগ পোহাতে হচ্ছে।
যানজটের ভোগান্তির স্বীকার মহাসিন মাদবর আমাদের সময় ডটকমকে জানান, আব্দুল্লাহপুর থেকে আশুলিয়া ও ঢাকা – গাজীপুর মহাসড়কে থেকে থেমে থাকা তীব্র যানজটের কারণে নাইট কোচের উত্তরবঙ্গগামী যাত্রীরা প্রচন্ড গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। তারা জানে না যে কখন নিজ গন্তব্যস্থলে পৌঁছাবেন। অনেকেই শীতের মাঝেও গরমের কবল থেকে স্বস্তির নিশ্বাস নিতে গাড়ী থেকে নেমে রাস্তায় উপর দাড়িয়ে রয়েছন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “তীব্র যানজটের কারণে রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশ সদস্য কম থাকায় গাড়ী চালকরা ইচ্ছে মত যে যেভাবে পারছে গাড়ী ঢুকিয়ে দিচ্ছে। ফলে যানজটের মাত্রা আরো তীব্র আকার ধারণ করছে।”
তুরাগ থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আব্দুল্লাহপুর থেলে আশুলিয়া সড়কে গভীর রাতেও যানজটের ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সম্পূর্ণ সড়কেই গাড়ীতে পরিপূর্ণ রয়েছে। কিন্তু ঘন্টার বেশী সময় ধরেও গাড়ীগুলোর চাকা ঘুরছেই না।

উত্তরার হাউজবিল্ডিং এলাকায় কর্তব্যরত পশ্চিম থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক  (এএসআই) মো. আরিফুজ্জামান আমাদের সময় ডটকমকে বলেন, কোন ঘোষণা ছাড়াই হটাৎ করে জোড় ইজতেমার মোনাজাত শেষ হয়ে যাওয়ায় মহাসড়কে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। যার ফলে সাধারণ যাত্রীরা পড়েছেন বেকায়দায়।

তিনি আরো বলেন, রাত ৮টায় ডিউটি থেকে আসার পর পরই থানা পুলিশের কাজ রেখে ব্যাস্ত হয়ে পড়তে হয়েছে ট্রাফিক পুলিশের সাথে যানজট নিরসনে। জানা নেই যে কখন নাগাদ শেষ হবে এই জন ভোগান্তি।
ঢাকা – ময়মনসিংহ গামী সেলিম নামের এক যাত্রী আমাদের সময় ডটকমকে বলেন, “রাত ১০টায় মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে ময়মনসিংহের উদ্দেশ্যে বাসে উঠেছি। উত্তরা আসতেই রাত ১ টার বেশী সময় লেগে গেছে। জানি না ময়মনসিংহ যেতে কাল (মঙ্গলবার) সকাল ১০টার মধ্যেও পৌঁছাতে পারব কি না!
যানজটের কারণে যাত্রী সাধারণের ভোগান্তিরর বিষয়ে আব্দুল্লাহপুরের কর্তব্যরত থানা পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মো. সাগর আমাদের সময় ডটকমকে জানান, যানজটের কারণে মহাসড়ক জুড়ে গাড়ীর সমস্যা দিয়েছে। ফলে সাধারণ জনগণ গাড়ী পেতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অনেকেই গাড়ী রিজার্ভ করে নিজ নিজ গন্তব্যে যাচ্ছে। আবার তাদের বেশীর ভাগই পায়ে হেটে বাড়ির উদ্দেশ্য রওনা হচ্ছেন।
যানজট লাগবের বিষয়ে তিনি বলেন, অনেকেই ইজতেমা ময়দান থেকে বের হচ্ছেন। ফলে টঙ্গী ও এর পাশ এলাকায় রাস্তার উপর গাড়ী থেকে আছে। ফলে এ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। যা লাগব হতে আগামী কাল (মঙ্গলবার) দুপুর হয়ে যেতে পারে। কারণ, মুসল্লিদের কম সংখ্যক লোক এখন বের হচ্ছেন। বাকিরা ফজরের নামাজের পর থেকে আবার বের হওয়া শুরু করবে।
সার্জেন্ট বাবুল শরীফ, রাতে এসেই দেখি যানজট। পরে জানতে পারি জোড় ইজতেমার আখেরি মোনাজাত শেষ হয়েছে। যার ফলে লাখ লাখ মানুষ বের হচ্ছে ইজতেমা ময়দান থেকে।
তবে কখন নাগাদ যানজট শেষ হবে তা বলছে পারছি না বলেও ট্রাফিক পুলশের ওই সার্জেন্ট জানান।