প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিদ্যুতায়নে ৫৮ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

ডেস্ক রিপোর্ট : দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্রমেই বৃদ্ধি পেলেও কাক্সিক্ষত মাত্রায় বাড়েনি সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থা। শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিতরণ ও সরবরাহ ব্যবস্থায় নানাবিধ সংকট রয়ে গেছে। যত দ্রুত সম্ভব দেশের সব মানুষের দোড়গোড়ায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে চায় সরকার। এক্ষেত্রে বিতরণ ও সরবরাহ ব্যবস্থার আশু উন্নয়ন প্রয়োজন। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দেশের একমাত্র সরকারি বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ কোম্পানি পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) প্রায় ৫৮ হাজার কোটি টাকার ১৯টি প্রকল্প গ্রহণ করেছে।

২০৩০ সালের মধ্যে সবগুলো প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে চায় পিজিসিবি। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ও সঞ্চালন ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে বলে জানান পিজিসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুম আল বেরুনী। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়নে পিজিসিবি কাজ করে যাচ্ছে। একটি মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করে সেগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের দাবি অনুযায়ী, বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ১৫ হাজার মেগাওয়াট। প্রায় ৯ বছর আগে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার যখন ক্ষমতায় আসে, তখন দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ছিল ৪ হাজার মেগাওয়াট। কিন্তু উৎপাদনের এ সাফল্য মøান হয়ে যাচ্ছে। শহরের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা অনেকটা স্বাভাবিক থাকলেও বিদ্যুৎপ্রাপ্তি নিয়ে চরম অসন্তোষ রয়েছে গ্রামের মানুষের। মানুষ বিদ্যুতের স্বাভাবিক প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত।

তবে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) প্রায় ১৫ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতার দাবি করলেও বর্তমানে গড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে ৮ হাজার মেগাওয়াট। এ যাবৎকালে গত ২৭ মে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে ৯ হাজার ৩৫৬ মেগাওয়াট।

বিদ্যুৎ বিভাগের দাবি অনুযায়ী, ১৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা থাকার পরও গ্রামের মানুষ কেন ঠিকমতো বিদ্যুৎ পাচ্ছে না এমন প্রশ্নের জবাবে দায়িত্বশীলরা বলছেন, উৎপাদন বাড়লেও বিদ্যুৎ বিতরণ, সঞ্চালন ও কারিগরি সক্ষমতা তৈরি না হওয়ায় মানুষ কাক্সিক্ষত সেবা পাচ্ছে না। সাবস্টেশন না থাকাসহ নানা কারিগরি দুর্বলতার কারণে উৎপাদিত বিদ্যুৎ গ্রাহকের দোড়গোরায় পৌঁছে দেওয়া যাচ্ছে না।

পিজিসিবির নেওয়া ১৯টি প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের ভেড়ামারা থেকে ভারতের বহরমপুর পর্যন্ত দ্বিতীয় ৪০০ কেভি ক্ষমতাসম্পন্ন আন্তঃদেশীয় সংযোগ লাইন। ১৮৭ দশমিক ৬৯ কোটি টাকায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হবে। ১৪৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে বাকেরগঞ্জ থেকে বরগুনা সঞ্চালন লাইন এবং বরগুনা ১৩২/৩৩ কেভি সাবস্টেশন নির্মাণ। ৩৯৭ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ব্যয়ে আশুগঞ্জের পুরনো ১৩২ কেভি সাবস্টেশন পরিবর্তন এবং নতুন ১৩২ কেভি জিআইএস সাবস্টেশন স্থাপন।

৩২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে মিরসরাই অর্থনৈতিক জোনে সঞ্চালন লাইন স্থাপন। ৩ হাজার ৩৪০ দশমিক ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বড়পুকুরিয়া-বগুড়া-কালিয়াকৈর ৪০০ কেভি লাইন স্থাপন, ১১ হাজার ৬৯০ কোটি ৮১ লাখ টাকা ব্যয়ে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন এলাকায় নেটওয়ার্ক সিস্টেম বর্ধিতকরণ কার্যক্রম, ২ হাজার ৬৭৬ কোটি ৬৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ৭৬৫ কেভি মাদুনাঘাট-মহেশখালী সঞ্চালন লাইন নির্মাণ, ৫ হাজার ৫০০ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৭৬৫ কেভি মাদুনাঘাট-ভোলা সঞ্চালন লাইন নির্মাণ, ৭৭২ কোটি ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪০০ কেভি বাশঁখালী-মাদুনাঘাট সঞ্চালন লাইন নির্মাণ, তিন হাজার ৪০২ কোটি টাকা ব্যয়ে দেশের পূর্বাঞ্চলের বিদ্যুৎ বিতরণ ও সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ প্রকল্প, তিন হাজার ২৮৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে দক্ষিণাঞ্চলের গ্রিড নেটওয়ার্ক শক্তিশালীকরণ প্রকল্প, দুই হাজার ২৩৬ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ লাইন সম্প্রসারণ এবং নেটওয়ার্ক শক্তিশালীকরণ প্রকল্প। ১ হাজার ১৮৬ কোটি ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে দেশের পশ্চিমাঞ্চলে ২৩০ কেভি এবং ১৩২ কেভি সঞ্চালন ও নেটওয়ার্ক লাইন উন্নয়ন প্রকল্প, ৪ হাজার ১৩১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানির (ডেসকো) সিস্টেম নেটওয়ার্ক শক্তিশালীকরণ এবং বর্ধিতকরণ প্রকল্প বাস্তবায়ন, ১১ হাজার ২৩৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে অবকাঠামো উন্নয়ন এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থা তৈরীকরণ, ৩ হাজার ২৩৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে দেশের উত্তরাঞ্চলে বাংলাদেশ-ভারত আন্তঃদেশীয় গ্রিড সঞ্চালন লাইন নির্মাণ। এ ছাড়া এ প্রকল্পে বড়নগর-পাবর্তীপুর-কাটিহার ৭৬৫ কেভি বাংলাদেশ-ভারত গ্রিড প্রকল্প বাস্তবায়ন, ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটি এবং কক্সবাজার অর্থনৈতিক জোনের জন্য সঞ্চালন লাইন স্থাপন ও নেটওয়ার্ক শক্তিশালীকরণ প্রকল্প, এক হাজার ৪৮৮ কোটি ৩৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যাক টু ব্যাক সাবস্টেশন স্থাপন করা যেন ভারতের সুর্যনগর থেকে কুমিল্লা নর্থ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যায়। এ ছাড়া ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা ব্যয়ে বগুড়া-চাঁপাইনবাবগঞ্জ (রংপুর) ৪০০ কেভি সঞ্চালন লাইন নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন।

সূত্র : আমাদের সময়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ