প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সৌদি আরব কেনো ইসরায়েলের কাছে স্বপ্নের রাষ্ট্র

রাশিদ রিয়াজ : সৌদি আরব ইরানের বিরোধিতা করায় ইসরায়েল খুবই খুশি। তবে ইসরায়েল ততটা খুশি নয় সৌদি আরবের সঙ্গে সত্যিকার সহযোগিতায় যতটা রাজনৈতিক মূল্য দিতে হয়। তবে সৌদি আরবের মত আর কোনো ভাল মিত্র নেই ইসরায়েলের। কারণ সৌদি আরব লেবাননে হিজবুল্লাদের কাছ থেকে অস্ত্র কেড়ে নেওয়ার কথা বলছে, হিজবুল্লাহর সাথে গত এক বছর ধরে লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরি শান্তিপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখলেও সৌদি আরবে জন্ম নেয়া এই ব্যক্তিকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করতে সমর্থ হয়েছে সৌদি আরব। গত ৪ নভেম্বর সাদ হারিরি সৌদি আরবে যাওয়ার পর নাটকীয়ভাবে পদত্যাগের ঘোষণা দেন এবং দেশে না ফিরে প্যারিসে চলে গেছেন সপরিবারে হারিরি। এমনকি ইসরায়েলের স্বার্থে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা বিশ্বের অন্য কোনো দেশ নেই, একমাত্র সৌদি আরব রয়েছে যে দেশটি ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সংঘাতে লড়াই করছে। ইয়েমেনে যুদ্ধ করছে সৌদি আরব ইয়েমেনিদের জন্যে নয়, দেশটিতে ইরানের প্রভাব ঠেকাতেই। এর ফলে ইয়েমেনে দুর্ভিক্ষের সৃষ্টি হয়েছে, ১২ সহস্রাধিক মানুষ ইতিমধ্যে মারা গেছে। লাখ লাখ শিশু ও মানুষ কলেরায় আক্রান্ত হয়েছে।

হামাসকে সৌদি আরব হুঁশিয়ার করেছে তেহরানের সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের জন্যে। ওয়াশিংটনকে চাপ দিচ্ছে নীরবতা ভেঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার জন্যে। সৌদি আরবের চেয়ে আর কোনো দেশ এত বেশি খুশি হবে না যদি ইসরায়েল সুন্নি মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে যোগ দেয়। বিষয়টি সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের জন্যে আরো সহায়ক হবে যিনি দুর্নীতির বিরুদ্বে লড়ছেন এবং তার দেশে সংখ্যালঘু শিয়া মুসলিমদের মুখোমুখি হবার ভয় নাই।

এসব কারণেই সৌদি আরব ইহুদি রাষ্ট্রের কাছে একটি স্বপ্নের দেশ। ইরানের সঙ্গে সৌদি আরবের বিরুদ্ধচারণনীতি ও আচরণ দেশটিকেই চূড়ান্ত দুশমন হিসেবে বিবেচিত করছে যা ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও রণনীতির পেছনে এক প্রবল স্বৈরাচারের সহায়তা হিসেবে কাজ করে। কারণ ইরান চায় না মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে কতিপয় আরব দেশগুলোর মত স্বৈরাচার অবশিষ্ট থাক। একারণেই প্রায় অধিকাংশ দেশ মনে করে ইরান তাদের দুশমন এবং একাট্টা হয়ে দেশটির বিরুদ্ধে লড়াই করা উচিত।

কেউ হয়ত আশা করতে পারেন যে আরব রাষ্ট্রের সঙ্গে ইসরায়েলের এমন একটি চুক্তি হতে পারে বা তা গোপনে কার্যকরও রয়েছে যেখানে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন অঞ্চলে সৌদি স্বার্থে কিছু গুরুতর ছাড় দেয়ার বিষয়টি দাবি হিসেবে বিবেচনা করবে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে ইসরায়েলের সঙ্গে সৌদি শান্তি উদ্যোগ ফের শুরু হতে পারে। ফিলিস্তিন প্রশ্নে সৌদি আরবের মধ্যস্ততা যদি ইসরায়েল মেনে নেয় তাহলে ক্ষতির কিছু নেই।

এটা অযৌক্তিক হতে পারে না যদি মিসর, জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবকে নিয়ে একটি কোয়ালিশন গঠন করা হয়। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এসব আরব রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক আরো গভীর করতে উদ্যোগী হলে তা ব্যর্থ হতে পারে না। যদিও ইসরায়েলের সঙ্গে এসব আরব দেশের কোনো শান্তি চুক্তি নেই তারপরও মিসরের সঙ্গে ইসরায়েলের দক্ষিণ সীমান্ত নিয়ে জোট ভাল কাজ করছে, জর্ডানের সঙ্গে দারুণ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত ইসরায়েলের নীরব সহযোগী হয়ে উঠেছে। ইসরায়েলের সঙ্গে আরব দেশগুলোর এধরনের সম্পর্কের চেয়ে আর কিছু ভাল হতে পারে না।

সমস্যা হচ্ছে, সৌদি আরবের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি মারাত্মক ত্রুটি রয়েছে। যার জন্যে ইসরায়েলকে চরম রাজনৈতিক মূল্য দিতে হচ্ছে। ইসরায়েল বিশ্বাস করে অভিন্ন শত্রুর বিরুদ্ধে আরব রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা গড়ে তোলা যায় তবে তা মধ্যপ্রাচ্যে সত্যিকারের শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্যে নয়। কারণ বিশাল নিরাপত্তা বা অর্থনৈতিক স্বার্থ এমন একটি কূটনৈতিক প্রক্রিয়া থেকে আসবে যা ইরানের বিরুদ্ধে আরব দেশগুলোর সঙ্গে একটি মোর্চা গঠন থেকে, তা মনে করে না ইসরায়েল। বরং ইসরায়েল ফিলিস্তিনি ভূমিতে গড়ে ওঠা ৫ লাখ বসতির জন্যে নিরাপত্তা ও দেখভাল করতে খরচ দিতে পছন্দ করে। ইসরায়েলে গণতন্ত্রের পতন ঘটছে তা উল্লেখ করতে নয়। তাহলে সৌদি আরব বা অন্যান্য আরব রাষ্ট্রের সঙ্গে কিসের ভিত্তিতে জোট গঠন করবে ইসরায়েল? একেবারেই বিনামূল্যে?

এজন্যে যখন ইয়েমেন থেকে রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্র ছুটে আসে কিংবা লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরি যখন পদত্যাগ করেন তখন ইসরায়েল উল্লাস করে। কারণ এ দুটি ঘটনাই ইরানের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করার উৎসাহকে তীব্র করে। ইসরায়েল মনে করে সৌদি আরব ও আরব রাষ্ট্রগুলো তার মতই ইরানকে অভিন্ন শত্রু মনে করে কিন্তু ভুলে যায় মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আলোচনার কদর্য দিকটি।

আরব বসন্তের সাত বছর পার হতে চলল। তিন বছর ধরে সিরিয়া ও ইরাকে আইএস যে নিয়ন্ত্রণ রেখেছিল তা জব্দ হয়ে গেছে। এরই মধ্যে মধ্যেপ্রাচ্যের জোট সেই ধরনের রংয়ের মত পরিবর্তন হচ্ছে যা ক্লায়েদস্কোপে চোখ রাখলে বিভ্রমের সৃষ্টি করে। যারা জানে সুযোগ হাতছাড়া করলে কি হয় যেমন, রাশিয়া, ইরান ও তুরস্ক কূটনৈতিক রাজধানী লাভ করে (শচিতে এ তিনটি দেশের শীর্ষ নেতারা বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন) তেমনি মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে ইসরায়েলের সামনে এক মহাসুযোগ অপেক্ষা করছে। কিন্তু ইসরায়েল ফিলিস্তিনের সেই পাঠ থেকে ভাল করেই শিক্ষা নিয়েছে, তা হচ্ছে একটি সুযোগ কখনোই না হারানো, আরেকটি সুযোগ যাতে হারাতে না হয়। হারতেজ থেকে অনুবাদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত