প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অভিভাবকরা মনে করেন মারধর না করলে শিশুরা মানুষ হবে না: রাশেদা কে চৌধুরী

জুয়াইরিয়া ফৌজিয়া : সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও শিক্ষা গবেষক রাশেদা কে চৌধুরী বলেছেন, অাভিভাবকরা মনে করেন শিশুদের মারধর না করলে তারা মানুষ হবে না। অন্যদিকে শিক্ষকরা নানা অজুহাতে তাদের মারধর করেন। আসলে শিশুদের অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাবোধের জায়গা থেকে শিক্ষকেরাও খুব বেশি বেশি সচেতন নয়। সূত্র- বিবিসি বাংলা

বিশ্ব শিশু দিবস উপলক্ষে বিবিসির এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিশুদের ওপর  শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। এতে অন্তত ৬৯ শতাংশ বাবা-মায়ের সমর্থন থাকে। আইনি সংস্থা ব্লাস্টের এক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে।

শিশুদের সুরক্ষায় এতো আইন, এতো প্রচার-প্রচারণা থাকা সত্ত্বেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিশু নির্যাতন বন্ধ হচ্ছে না কেন?

বিবিসি বাংলার এমন প্রশ্নের জবাবে রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, বিষয়টা যদি আমরা পূর্ণাঙ্গ আঙ্গিকে দেখি তাহলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ভেতরে এখন শিশুর প্রতি সহিংসতার হার কমছে। তবে একেবারে কমে গেছে- সেটা বলা যাবে না। আমরা যেভাবে চেয়েছিলাম সেভাবে এখনো হয়েনি। কিন্তু অভিবাকরা আগের থেকে অনেক সচেতন হয়েছে। তাছাড়া এখন গণমাধ্যমও আগের থেকে অনেক বেশি সতর্ক। আর যেহেতু আইন আছে তাই আমরা এই বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে পারি। কিন্তু আমরা এখনো অভিভাবকদের মধ্যে সেভাবে সচেতনতা তৈরি করতে পরিনি।

শিশুদের মারধর না করলে তারা মানুষ হবে না এই সনাতন ধারণা থেকে অভিবাবকরা কেন বের হতে পারছে না?

জবাবে তিনি বলেন, এর দুইটি কারণ হতে পারে। প্রথমত, শিশু নির্যাতনের পক্ষে যে আইন আছে সে সম্পর্কে কিছু কিছু অভিবাকরা একেবারে অসচেতন। দ্বিতীয়ত, আক্ষরিক অর্থে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রথমিক শিক্ষায় ৩০-৩৫ শতাংশ শিক্ষার্থী যাদের বাবা-মা লেখাপড়া জানেই না। তারা মনে করে স্কুলে দিয়ে আসলেই শিশু মানুষ হবে। শিক্ষকরাই তাদের মানুষ করবে। অন্যদিকে অভিবাবকদের আর্থিক ও শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকা এটার একটা কারণ। দ্বিতীয় কারণ হচ্ছে, এটা আবহমান কাল থেকে আমাদের সংস্কৃতির একটা অংশ। সন্তান মানুষ করতে গেলে মারধর করতে হবে যেটা এক সময়ে নির্যাতনের পর্যায়ে চলে যায়।

স্কুলগুলো যেন শিশু শিক্ষা সংক্রান্ত আইন না ভাঙ্গে তার জন্য যে মনিটরিং প্রয়োজন সেটা কী নেই?

রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, মনিটরিংটা শক্তভাবে নেই। শিক্ষা প্রশাসনের যে কর্মকর্তারা স্থানীয় মাঠ পর্যায়ে আছে তারা একটু সচেতন হলেই কিন্তু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোয় শিক্ষার্থীদের মারধরের ঘটনাগুলো একটু কম আসে। আইনের প্রয়োগ যে কম হচ্ছে সেটা না। সব পর্যায়ে সচেতনা একটু কম আছে। শিক্ষা প্রশাসন অন্যান্য পর্যায়ে এতো ব্যস্ত থাকে সেখানে এই মারধরে বিষয়টা এতো বেশি গুরুত্ব পায় না।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ