প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সন্ধ্যার পর থেকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে শুরু হয় আতঙ্ক !

তৌহিদুর রহমান নিটল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া : দিনের আলোর পর সন্ধ্যা আর সেই সন্ধ্যা গড়িয়ে মাঝ রাত। গত কয়েক দিনে যাবত ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক রাতের অন্ধকারে এখন এক অন্য পরিবেশ। মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ থেকে বিজয় নগরের চান্দুরা সাতবর্গ ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় ৩৪ কিলোমিটার পথ।

পুলিশ বলছে, ঘটে যাওয়া দুইটি ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করা হয়েছে। শিগগিরই তাদের গ্রেফতার করা হবে। পরিস্থিতি বিবেচনায় মহাসড়কে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো জোরদার করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত শুক্রবার গভীর রাতে আশুগঞ্জের বেড়তলা এলাকায় খুন হন মো. রফিকুল ইসলাম (২৮) নামে এক মাছ ব্যবসায়ী। তিনি রাজশাহী জেলার বাগমারা উপজেলার শাহপুর গ্রামের মো. ছদর মোল্লার ছেলে। মাছ বোঝাই ট্রাক নিয়ে সিলেট যাচ্ছিলেন রফিকুল ইসলাম। রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে মহাসড়কের সরাইলের বেড়তলা এলাকায় পৌঁছার পর ভ্যানটিকে লক্ষ করে কৌশলে ঢিল ছোড়া হয়। গাড়ির কোনো সমস্যা হয়েছে ধারণা করে চালক অনতিদূরেই থামিয়ে ফেলেন।

এ সময় দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত কয়েকজন প্রথমে ট্রাক চালককে জিম্মি করে। এক পর্যায়ে রফিকুল ইসলামকে ছুরিকাঘাত করে এতে মৃত্যু হয় তার। এ সময় হেলপার আহত হয়। পিকআপ ভ্যানটি নিয়ে যাওয়া হয়। খবর পেয়ে সরাইল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার ও পরে শায়েস্তাগঞ্জ এলাকা থেকে ট্রাকটি উদ্ধার করে। পরবর্তীতে আহত চালককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে পুলিশ।

এর আগে গত ১৩ নভেম্বর গভীর রাতে আশুগঞ্জে খুন হয়েছেন হবিগঞ্জ সদর উপজেলার সোয়ারগাঁও গ্রামের কামাল আহমেদ নামে এক ফার্নিচার ব্যবসায়ী। সে হবিগঞ্জ জেলার সদর ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক ছিলেন বলে জানা যায়। বাড়ি ফেরার পথে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আশুগঞ্জের বাহাদুপুর এলাকায় কামাল আহমেদকে বহনকারী পিকআপ ভ্যানের গতিরোধ করে এর নিয়ন্ত্রণে নেয় হামলাকারীরা। পরদিন সকালে তালশহর-বাহাদুরপুর সড়ক থেকে পুলিশ কামাল আহমেদের লাশ উদ্ধার করে। শায়েস্তাগঞ্জ থেকে আটক করা হয় পিকআপ ভ্যানটি।

কথা হয় কয়েক জন গাড়ি চালকদের সাথে তারা জানান, আশুগঞ্জ থেকে সাতবর্গ চান্দুরা ব্রিজ পর্যন্ত রাত থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত হাইওয়ের থানার একটি টহল টিম থাকে এই দীর্ঘ ৩৪ কিলোমিটার পথে আর থানার টহল টিম থাকে। কিন্তু টহলের নামে মহাসড়কে কয়েক জায়গায় গাড়ি দাঁড় করিয়ে পণ্যবাহী বাড়ি গুলো থেকে অন্য কাজে ব্যস্ত থাকে তারা। সঠিক ভাবে টহল দিলে ছিনতাই ও ডাকাতির মত ঘটনা অবশ্যই কমে আসবে।

খাঁটিহাতা হাইওয়ের পুলিশ পরিদর্শক মো. শাহজাহান মিয়া বলেন, একটি পিকআপ নিয়ে কখনো ইমার্জেন্সি ডিউটি, কখনো সড়ক দুর্ঘটনার কাজে, কখনো টহলে যেতে হয়। তবে একসঙ্গে একাধিক কাজ হলে সমস্যা দেখা দেয়। লোকবল বাড়ানোর পাশাপাশি আরেকটি পিকআপ ভ্যান হলে ভালো হয়। দুইটি ঘটনার পর সড়কে আগের চেয়ে টহল বাড়ানো হয়েছে।

এই বিষয়ে জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসাইন বলেন, ইতোমধ্যে মহাসড়কে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আর অচিরেই ঘটে যাওয়ার দুটি দুর্ঘটনাই জড়িতদের অনেক টায় চিহ্নিত করা হয়েছে। শিগগিরই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ