প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

টয়লেট নিয়ে এক বাঙালির কথা

বিশ্বজিৎ দত্ত : টয়লেট দিবস উপলক্ষে কম্বোডিয়ার ওয়াটার এইডের আবাসিক প্রতিনিধি ড. কামাল কর কম্বোডিয়াকে টয়লেট ব্যবহার বৃদ্ধি ও জনমনে স্যানিটেশন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশকে অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছেন। যদিও খোলা আকাশের নিচে টয়লেট করে এমন ১০টি প্রধান দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নাম গত কয়েক বছর ধরেই নেই। বাংলাদেশ এ বিষয়ে উন্নয়ন করেছে অনেক। বর্তমানে বাংলাদেশে খোলা আকাশের নিচে মলত্যাগকারীর সংখ্যা মাত্র ১ শতাংশ। পিছিয়ে রয়েছে ১০টি দেশ, বিশেষ করে চীন, কম্বোডিয়া, রাশিয়া, ভারত ও পাকিস্তান। ভারতে ৫০ শতাংশ ও পাকিস্তানে ৭৯ শতাংশ মানুষ খোলা আকাশের নিচে মলত্যাগ করে।

 

একটা সময় ছিল বাঙালি কোথায় বেড়াতে গেলে একটি ঘটি সঙ্গে করে নিয়ে যেতেন। এখনো বড় কোনো জমায়েত, যেখানে দুই-একদিন থাকতে হয়- এমন জায়গায় গেলে অনেকেই বেডিংয়ের সঙ্গে একটি বদনা বেঁধে নেন। এই ঘটি বা বদনা থেকেই প্রথমবারের মতো ভারতীয় রেলে টয়লেট যুক্ত হয়েছিল। সেটিও হয়েছিল অখিল চন্দ্র সেন নামের একজন বাঙালির চেষ্টা ও হুমকিতে। ভারতে রেল চালুর ৫৫ বছর পরে রেলের তৃতীয় শ্রেণির কামরায় ৫ ইঞ্চি ছিদ্রের মল ত্যাগ করার টয়লেট চালু করা হয়েছিল। ভারতীয় রেলের জাদুঘরে রক্ষিত ডকুমেন্টে অখিল চন্দ্রের নাম ও টয়লেট চালুর বিষয়ে তার চিঠিটি সংরক্ষণ করা হয়েছে।

 

চিঠিতে ব্রিটিশ ডিভিশনাল রেলওয়ে অফিসের উদ্দেশে অখিল লিখেছিলেন, স্যার, আমি ট্রেনে টিকিট করে গন্তব্যে যাচ্ছিলাম। শ্বশুর বাড়িতে কাঁঠাল খাওয়ায় আমার পেটের অবস্থা ভাল ছিল না। পথে একটি স্টেশানে নেমে টয়লেট করার পরে গার্ড আমাকে রেখেই ট্রেন ছেড়ে দেয়। আমি দৌড়েও আর ট্রেনে চড়তে পারিনি।

 

এটি নিয়ে অখিল সেন চরম ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। তিনি ট্রেনে টয়লেট চালু না করা হলে বিষয়টি সংবাদপত্রে জানিয়ে দিবেন বলে চিঠিতে উল্লেখ করেন। এই চিঠিটি ব্রিটিশ রেল কোম্পানি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছিল। কোম্পানির বোর্ড মিটিংয়ে বিষয়টি উত্থাপিত হয়। পরে রেলে যুক্ত হয় টয়লেট।