প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অর্ঘ বিশ্বাসের আত্মহত্যার দায় স্বৈরতান্ত্রিক প্রশাসনের : ছাত্র ফেডারেশন

রফিক আহমেদ : বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি গোলাম মোস্তফা বলেছেন, অর্ঘ বিশ্বাসের আত্মহত্যার দায় স্বৈরতান্ত্রিক প্রশাসনের। অর্ঘের আত্মহত্যার ঘটনা প্রচলিত কর্তৃত্ববাদী, দমনমূলক শিক্ষাব্যবস্থার নিপীড়নের চেহারাকেই উন্মোচিত করেছে কেবল। কোনো মৃত্যুই কাম্য নয়।

রোববার বেলা সাড়ে ১২ টায় বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের আয়োজনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্ঘ বিশ্বাসের আত্মহত্যার প্রেক্ষিতে সংক্ষুব্ধ প্রতিবাদী মিছিল ও সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

গোলাম মোস্তফা বলেন, অর্ঘ বিশ্বাসের আত্মহত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিলটি মধুর ক্যান্টিন থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। সভাপতির গোলাম মোস্তফা বলেন, শিক্ষার গণতান্ত্রিক পরিবেশের অভাব ও আরোপিত নিয়ম-নীতির রোষানলে হাজার হাজার অর্ঘ বিশ্বাস ভেতরে ভেতরে ডুকরে মরছে। এই আত্মহত্যা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। মৃত্যর আগে অর্ঘ বিশ্বাস বর্তমান সমাজের অন্যায়-অবিচার, জাতিগত নিপীড়ন, রাষ্ট্রের অর্থ লুটপাট বিষয়গুলো নিয়ে তার ক্ষোভের কথা লিখেছেন।

অর্ঘের মন্তব্য থেকে আমরা বুঝতে পারি তার এই আত্মহত্যার জন্য বর্তমান অগণতান্ত্রিক শিক্ষাব্যবস্থা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বৈরতান্ত্রিক প্রশাসনই পরোক্ষভাবে দায়ী। তিনি শিক্ষাব্যবস্থা থেকে সব ধরণের স্বৈরতান্ত্রিকতা, কর্তৃত্ব, নিপীড়ন-দমননীতি ও অগণতান্ত্রিকতা উচ্ছেদ করতে আপামর ছাত্রসমাজের প্রতি আহ্বান জানান।

কেন্দ্রীয় সভাপতি গোলাম মোস্তফার সভাপতিত্বে কলাভবনের সামনে এক সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ইসরাত জাহান, এম এইচ রিয়াদ ও জাহিদুল আলম আল জাহিদ। সমাবেশ পরিচালনা করেন ঢাবি শাখার সভাপতি উম্মে হাবিবা বেনজির।

বক্তরা বলেন, পরীক্ষায় বসতে না দেয়ার জের ধরে অর্ঘ বিশ্বাসের আত্মহত্যার ঘটনায় আমরা ব্যথিত এবং চিন্তিত। তার সুইসাইড নোটের বক্তব্য অনুযায়ী, সে শিক্ষাব্যবস্থার বিদ্যমান অগণতান্ত্রিকতা ও প্রশাসনিক স্বৈরতান্ত্রিকতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তার প্রতি বিভাগের শিক্ষকদের যে কটাক্ষ ও চাপিয়ে দেয়া সিদ্ধান্ত ছিল সে বিষয়টাও নোটে লিখেছেন। সুতরাং তার এই আত্মহত্যার দায় রাষ্ট্রকেই নিতে হবে। সমাবেশে বক্তরা আত্মহত্যার পথে অর্ঘ বিশ্বাসের অকাল মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং তার শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি হৃদয়িক সমবদেনা জানান।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ