প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আত্মহত্যা ও ডিভোর্স প্রবণতায় নারী এগিয়ে

ডা. তাজুল ইসলাম : পুরুষের চেয়ে নারীরা আত্মহত্যায় এগিয়ে। আত্মহত্যার চেষ্টা নারীরা বেশি করে কিন্তু প্রকৃত আত্মহত্যা পুরুষেরা বেশি করে। সারা পৃথিবীতে বেশি আত্মহত্যা করে পুরুষেরাই। নারীরা যেহেতু ভয় পায়, বেশি মারাত্মক এটেম্পগুলো নেয় না। যেমন লাফ দেয়া, গাড়ির নিচে পড়া, গুলি করা ইত্যাদি। ট্যাবলেট খায় কিংবা হাত কেটে ফেলে। আত্মহত্যা করতে চায় কিন্তু বেঁচে যায়। সারা পৃথিবীতে আত্মহত্যা ৭ গুণ বেশি করে নারীরা কিন্তু প্রকৃত পক্ষে মারা যায় বেশি পুরুষেরা। কিন্তু বাংলাদেশের চিত্রটা একটু ভিন্ন। আত্মহত্যার চেষ্টাও নারীদের বেশি, হারও নারীদের বেশি।

 

এটার সম্ভবত কারণ হতে পারে বাংলাদেশের নারীরা কীটনাশক বেশি খায়। বিষ জাতীয় জিনিস বেশি খায়। বাংলাদেশের নারীরা গলায় ফাঁসও বেশি দেয়। অনেক ক্ষেত্রে তারা এত বেশি আবেগী যে বিষাক্ত ওষুধপত্র খেয়ে ফেলতে পারে। বাংলাদেশের নারীদের সামাজিক ও পারিবারিক সাপোর্ট কম। সাধারণত মেয়েরা আত্মহত্যা করে পারিবারিক ও সামাজিক সমস্যার কারণে। মানসিক, ব্যক্তিগত পাওয়া না পাওয়ার জন্য। অনেক ক্ষেত্রেই মানসিকভাবে অসুস্থ থাকে। তাদের এই যে অসুস্থতা এদিকে পরিবারের লোকজনরা খুব বেশি নজর দেয় না। তারা এটাকে স্বাভাবিক মনে করে। অথবা চিকিৎসা যোগ্যও মনে করে না। সে যে একটা ক্রাইসিসের মধ্যে পড়েছে এটাকে গুরুত্ব না দিয়ে নিজেদের মতই চলতে দেয়া। কাউন্সিলিং করা, তাকে সাহায্য করা এই ব্যাপারগুলো থাকে না। তাই শেষ পর্যন্ত সে আত্মহত্যার দিকে ঝুঁকে পড়ে। বাংলাদেশে নারীদের আত্মহত্যার হার বেশি।
অন্যদিকে দ্বিগুণ হারে বাড়ছে ডিভোর্সের হার।

 

ঢাকা শহরে ডিভোর্সের আবেদন করে ৭০% মহিলা। এটার একটা প্রধান কারণ হচ্ছে বর্তমানে নারীরা অনেক বেশি সচেতন হয়েছে। অনেক বেশি সাবলম্বী, আর্থিকভাবে সচ্ছল কর্মজীবী। পরিবারের লোকরাও তাদের মতামতকে গুরুত্ব দেয়ার চেষ্টা করছে। কেন ডিভোর্স বেড়ে গেছে? তারা যেটা বলছে, কারণ এটা হতে পারে যে আগে যৌথ পরিবার ছিল। এখন একক পরিবারে এসে নিঃসঙ্গতা একটি কারণ। মূল কারণ আমাদের ভেতরে সহনশীলতা কমে গেছে। পারিবারিক বন্ধন, দাম্পত্য প্রেমটা কমে যাচ্ছে। ব্যক্তিত্বের সংঘাত এসে গেছে। যখন স্বামী-স্ত্রী সংসার করে তাদের ভেতর একটা কমিটমেন্ট থাকে। যে তারা একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবে। অনুগত ও বিশ্বস্ত থাকবে। ব্যক্তিত্বের দ্বন্দ্ব হতে পারে। রুচি, সংস্কৃতির বিভেদ হতে পারে।

 

পার্সোনালিটির তফাৎ হতে পারে। কিন্তু আমরা দাম্পত্য সম্পর্কটা যে একটা পবিত্র সম্পর্ক পরিবার এবং সন্তানের প্রতি যে আমাদের একটা দ্বায়িত্ব রয়েছে, সামাজিক এবং নৈতিক দায়িত্ব আছেÑ এগুলো অনেক সময় লোভে পড়ে বা কামনা বাসনার কারণে অন্য দিকে নজর দেই। এভাবে সম্পর্কটায় এক সময় ভাঙন ধরে। ডিভোর্স তো হয়ই, এক সময় হত্যাকা- পর্যন্ত ঘটে যায়। আরেকটি কারণ হচ্ছে সহনশীলতা। জাতিগতভাবে আমরা অসহনশীল। আমি যা পেয়েছি তা আমার স্বপ্নের মতো নয়। তাহলেও আমাকে এটা মেনে নিতে হবে। আর্থিক কারণে হোক বা অন্য কোনো কারণে হোক সমঝোতার যে ব্যাপারটা আমরা মেনে নেই না। আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করি। কে কার উপরে জিতবে। কে কার উপরে কর্তৃত্ব করবে, এই বিষয়গুলো থাকার কারণে সংঘাত বেশি হয়। সহনশীলতা কমে যাওয়ার কারণে এক সময় দ্বন্দ্বটা ডিভোর্সের রূপ নিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের লোকেরা ডিভোর্সের জন্য উসকে দেয়। পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের এই ক্ষেত্রে ভূমিকা আছে। যদি সংসারের যে ঝামেলা তাতে তারা ইন্ধন জোগায়, তাহলে কিন্তু ডিভোর্সের হার বেশি বাড়তে পারে।

 

ইগো সমস্যাও অন্যতম কারণ। ইগোর কারণে একে অপরের দিকে প্রতিহিংসা বাড়তে পারে। অর্থনৈতিক কারণেও ডিভোর্স হতে পারে। হঠাৎ করে বড়লোক হয়ে গেল তখন পর নারী ও অন্যান্য বিষয়ে আসক্তি এসে গেলে সংসারে অশান্তি নেমে আসতে পারে। ভোগ করতে গেলে মানুষ স্থূল হয়ে যায়। সংসারের প্রতি দ্বায়িত্ববোধ থাকে না। আনেক ক্ষেত্রে ক্যারিয়ারের প্রতি বেশি গুরুত্ব দেয় সংসারের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। সংসারের চেয়ে বেশি আগ্রহ যদি বাইরে দেয়া হয় তাহলেও দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হতে পারে।

 

পরিচিতি : মনোবিদ
মতামত গ্রহণ : সানিম আহমেদ
সম্পাদনা : মোহাম্মদ আবদুল অদুদ ও খন্দকার আলমগীর হোসাইন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ