প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ফুটপাত কার?

ডেস্ক রিপোর্ট : কোথাও বালুর স্তূপ, কোথাও ইটের খামাল দেওয়া (গাদা করে রাখা), কোথাও পাথরের স্তূপ, আবার কোথাও রাস্তা বা ফুটপাতের ওপরই চলছে নির্মাণযজ্ঞ। ফুটপাত দখল করে কোথাও কোথাও গড়ে উঠেছে দোকানপাটসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।

এভাবেই রাজশাহী নগরীজুড়ে সিটি করপোরেশনের তৈরি করা ফুটপাত চলে গেছে স্থানীয় ভবন মালিক বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিকদের দখলে।

নগরবাসীর কেউ কেউ প্রশ্ন করে, ফুটপাত রাজশাহী সিটি করপোরেশনের নাকি স্থানীয় বাসিন্দাদের?

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ফুটপাত দখল করে নির্মাণযজ্ঞ চালানো এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কারণে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। অথচ পথচারীদের হাঁটার সুবিধার জন্য সিটি করপোরেশন কোটি কোটি টাকা খরচ করে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার ফুটপাত করেছে।

গত বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজশাহী নগরীর কাদিরগঞ্জ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়কের দক্ষিণ পাশের রাস্তার ওপর কয়েকজন শ্রমিক বালু, সিমেন্ট ও ইটের খোয়া মেশাচ্ছে। তারা পাশের একটি ভবনের নির্মাণ শ্রমিক। রাস্তার দক্ষিণ পাশের ফুটপাতটিও দখল করে সেখানে রাখা হয়েছে ইট ও খোয়া। এতে করে ওই স্থানে ফুটপাত দিয়ে হাঁটা দায় হয়ে পড়েছে। ব্যস্ততম রাস্তাটিতে নামতেও ভয়। কয়েকজন পথচারীকে ওই দিক দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করতে দেখা গেল।

সেখানে কথা হয় রুহুল আমিন নামের একজন পথচারীর সঙ্গে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এভাবে ফুটপাত দখল করে নির্মাণসামগ্রী রাখার পরও আবার রাস্তা দখল করে চলছে নির্মাণযজ্ঞ। তাহলে মানুষ হাঁটবে কিভাবে? রাস্তার মাঝখান দিয়ে হাঁটতে গেলে দুর্ঘটনার ভয় তো আছেই। কিছু একটা ঘটে গেলে তখন কেউ তো সহযোগিতার হাত বাড়াবে না। অথচ ফুটপাত দখল করে জনসাধারণের চলাচলের পথে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করলেও এ নিয়ে কেউ কিছু বলছে না। ’

হজরত আলী নামের একজন শ্রমিক বলেন, ‘ভবনের মালিক মঞ্জুর রহমান রাস্তার ওপরই আমাদের কাজ করতে বলেছেন। ’

ভবন মালিক মঞ্জুর রহমান দাবি করে বলেন, তাঁর নির্মাণাধীন ভবনের পাশে ফাঁকা আর কোনো জায়গা না থাকায় বাধ্য হয়ে তিনি ফুটপাতের ওপর ইটের খোয়া ও পাথর রেখেছেন। রাস্তার একটি অংশে রেখেছেন বালু। ভবনের কাজ করতেও হচ্ছে তাঁকে রাস্তার ওপরই। এতে পথচারীদের পথ চলতে সমস্যা যে হচ্ছে, সেটা তিনি স্বীকার করেন।

রাজশাহী সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, সাবেক সিটি মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনের সময়কালে রাস্তায় নির্মাণসামগ্রী না রাখার জন্য মাইকে ঘোষণা দিয়ে নগরবাসীকে সচেতন করা হয়েছিল। এর পরও রাস্তা বা ফুটপাত দখল করে নির্মাণসামগ্রী রাখা বা নির্মাণকাজ করার ঘটনা ঘটেই চলেছে নগরজুড়ে।

নগরের সাহেব বাজার, ঘোষপাড়া থেকে ফায়ার সার্ভিস মোড়, বাটার মোড়, রানীবাজার, উপশহর, তেরোখাদিয়া, চণ্ডীপুর, ভদ্রা, সালবাগান, সাগরপাড়া, রানীবাজার, হেতেমখাঁসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বেশ কিছু বাড়ির সামনে রাস্তার এক পাশে রাখা হয়েছে নির্মাণসামগ্রী। তবে সবচেয়ে বেশি ফুটপাত দখল হয়েছে নগরীর সাহেব বাজার, মালোপাড়া, রেলগেট, কাদিরগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায়। সাহেব বাজার এলাকায় তো ফুটপাতের কোনো চিহ্নই নেই। টাইলস বসানো ফুটপাতগুলো দখল করে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। এতে করে সাধারণ মানুষকে চলাচল করতে হয় রাস্তা দিয়ে। ফলে মাঝেমধ্যেই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।

আকবার হোসেন নামের এক পথচারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছিলেন, ‘ফুটপাত করা হয়েছে হাঁটার জন্য। কিন্তু সেখানে যদি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়তে দেওয়া হয়, তাহলে সরকারের এই কোটি কোটি টাকা গচ্চা দেওয়ার দরকার কী। এর চেয়ে ফুটপাত না করলেই তো পারে সিটি করপোরেশন। ফুটপাত করে যদি সেটি রক্ষা করতে না পারে, সেই ফুটপাতের কোনো দরকার নেই রাজশাহীবাসীর। ’

কাদিরগঞ্জে গিয়ে দেখা যায়, রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জের মহাসড়কের দুই ধারেই বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নানা ধরনের পণ্য ফুটপাতের ওপর রাখা। নির্মাণসামগ্রীও রাখা হয়েছে কোথাও কোথাও। মহাসড়কের প্রায় দেড় কিলোমিটার অংশের দুই পাশের এই ফুটপাত দিয়ে মানুষ হাঁটতে পারে না।

নগর সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহীতে মোট ৩৫ কিলোমিটার ফুটপাত আছে। এর মধ্যে ১৫ কিলোমিটার আগে করা। বাকি ২০ কিলোমিটার সম্প্রতি করা হয়েছে ভারত সরকারের অর্থায়নে।

জানতে চাইলে রাজশাহী নগর সংস্থার প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক বলেন, ‘নানা কারণে ফুটপাত দখলমুক্ত করা যাচ্ছে না। তবে সিটি করপোরেশন চাইলে এক দিনেই সব ফুটপাত দখলমুক্ত করা সম্ভব। আবার ফুটপাতের ওপর নির্মাণসামগ্রী না রাখতে বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও এ প্রবণতা বাড়ছে। এর জন্য স্থানীয় লোকজনই দায়ী। ’

তথ্যসূত্র : কালের কণ্ঠ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত