প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভাইকে বোনের ‘কিডনি’ উপহার!

ডেস্ক রিপোর্ট : সম্রাট জহিরউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর তার প্রিয় সন্তান হুমায়ুনের জীবন বাঁচাতে নিজের জীবন উপহার দিয়েছিলেন। এটা সেই মোগল আমলের কথা। এমন কীর্তি এখন আর তেমন শোনাই যায় না। এ সময়ে সেই কিংবদন্তিকেই মনে করিয়ে দিলেন ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার বোন লতিফা বেগম। ভাই রাজনের জন্য তিনি নিজের একটি কিডনি দিচ্ছেন। এমন উপহারের আপ্লুত এলাকাবাসী। কিন্তু তারপরও কাটছে না সংশয়। সম্রাট বাবর তার জীবন বদল করে ছিলেন প্রার্থনার মাধ্যমে, তাতে ছিল না আধুনিক চিকিৎসার মতো ব্যয়ভার, হলেও তাদের পরিবারেও ছিল না অর্থের অভাব। কিন্তু রাজনের শরীরের কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য যে বিপুল পরিমাণ টাকা প্রয়োজন তা জোগাড় করতেই হিমশিম খাচ্ছে হতদরিদ্র এই পরিবারটি।

রাজনের পারিবারিক সূত্রের জানা যায়, হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান রাজন। তিন ভাই ও বোনের টানাপড়েনের সংসারে একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি বাবা আবদুল রশিদ রাইস মিলের কর্মচারী। ফলে পরিবারের কথা চিন্তা করে রাজন পাড়ি জামান সৌদি আরবে। তা-ও ভিটেমাটি বন্ধক রেখে। ঘটনাটি ২০১৫ সালের। কিন্তু এর দুই বছর পরই তাকে ফিরে আসতে হয় এক মরণব্যাধি নিয়ে। তার দুই কিডনিই বিকল হয়ে গেছে। ফলে গত দুই বছরে যা কামিয়েছিলেন সবই গিলে খেয়েছে ওই ব্যাধি। সন্তানকে বাঁচাতে শেষ সম্বলটুকুও বিক্রি করেছেন বাবা রশিদ। কিন্তু মুক্তি মেলেনি। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী সম্ভাবনা এতটুকুই, শুধু কিডনি প্রতিস্থাপন করা গেলে বাঁচান যাবে রাজনকে।

সরকারি বিধান অনুযায়ী রোগীর নিকটাত্মীয় ছাড়া কেউ কিডনি দিতে পারবেন না। এমন সংবাদে রাজনের আত্মীয়-স্বজনরা হতাশায় ভেঙে পড়লেও ভাইকে বাঁচাতে নিজের কিডনি উপহার দেন বোন লতিফা বেগম।

লতিফা বেগম বলেন, ‘ভাই আমার সংসারের কথা চিন্তা করে বিদেশে গিয়েছিল, আমি তার প্রতি সম্মান দেখিয়ে আমার একটা কিডনি ভাইকে উপহার দেব।’

এদিকে কিডনি প্রতিস্থাপনে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয় ও গফরগাঁও থানা পুলিশ তদন্তপূর্বক সব কার্যক্রম সম্পন্ন করলেও হতাশা কাটেনি রাজনের বাবা রশিদের। বাবা আবদুর রশিদ জানান, আমার ছেলের জীবন বাঁচাতে আমার মেয়ে কিডনি দিতে সম্মত হলেও চিকিৎসা খরচ জোগাতে হিমশিম খাচ্ছে সে। গত প্রায় সাত মাস যাবৎ প্রতি সপ্তাহে রাজনের ডায়ালাইসিস করতে খরচ হচ্ছে প্রায় দশ হাজার টাকা। তিনি আরো বলেন, ‘কিডনি প্রতিস্থাপন করতে অনেক টাকার প্রয়োজন, আমার বসতবাড়ি ছাড়া আর কোনো জমিজমা নাই, যা বিক্রি করে সন্তানের চিকিৎসা করাব, আমার সন্তানের জীবন বাঁচানোর জন্য সমাজের বিত্তবানদের কাছে আর্থিক সাহায্য চাই…।’ চার সন্তানের জনক রাজন বর্তমানে ঢাকায় শ্যামলীতে সিকেডি এ-ইউরোলজি হাসপাতালে অধ্যাপক ডা. মো. কামরুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন আছেন।

রাজনের বাবা আবদুর রশিদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা যাবে ০১৯৮০১০৬৩৭৪ নাম্বারে। রাজনকে সাহায্য পাঠানোর বিকাশ নম্বর (ব্যক্তিগত) ০১৭১৯-৫০৪৭৪৯। সাহায্য পাঠান যাবে রাজনের ভাই মো. সুমন মিয়ার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। মো. সুমন মিয়া, সঞ্চয়ী হিসাব নং- ৩০৭৪, রূপালী ব্যাংক লি., গফরগাঁও শাখা, ময়মনসিংহ।  সূত্র : প্রতিদিনের সংবাদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত