প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিশেষ সাক্ষাৎকারে দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ
ছোট-বড় কোনো দুর্নীতিবাজকেই ছাড় দেব না

ডেস্ক রিপোর্ট : দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, সরকারের বড় কর্মকর্তারা বড় দুর্নীতি করেন। আমরা ছোট-বড় কাউকে ছাড় দেব না।

তবে বড় দুর্নীতিবাজদের ধরা খুব কঠিন। তিনি বলেন, আমরা দুর্নীতির উৎসমুখ বন্ধ করতে চাই। আমরা চাই ছোট থাকতেই দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলতে। সমাজের সর্বস্তরে এই বার্তা দিতে চাই যে, দুর্নীতি করে পার পাওয়া যাবে না। ইকবাল মাহমুদ প্রায় দেড় বছর আগে দুর্নীতি দমন কমিশনে শীর্ষ নির্বাহী হিসেবে যোগ দিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে ভিতর থেকে বদলে দেওয়ার কাজটি শুরু করেছেন। এই সময়ে দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত মোট ৫৬০ জনকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠিয়েছেন তিনি। আগে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে যেতে থানা-পুলিশের অপেক্ষায় থাকতে হতো। আড়াই মাস আগে পুলিশের ২০ সদস্যের স্বতন্ত্র আর্মস ইউনিট পেয়েছে দুদক। এখন নিজেদের পুলিশ নিয়েই অভিযানে যেতে পারছে দুদক। প্রধান কার্যালয়ে আছে নিজস্ব হাজতখানাও। চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা এখন কারও মুখাপেক্ষী নই। ’ বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের ১৯৮১ ব্যাচের এই কর্মকর্তার সততা, দৃঢ়তা ও নিষ্ঠার খ্যাতি ছিল পুরো চাকরিজীবনে। তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সিনিয়র সচিবসহ দেশে-বিদেশে ২৪টি দফতরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) বিকল্প নির্বাহী পরিচালক, ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালকসহ বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থায় দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার সকালে সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে গত দেড় বছরের কর্মকাণ্ড ও দুর্নীতি প্রতিরোধ সম্পর্কে নিজের আকাঙ্ক্ষার কথা বলেন। আগামী ২১ নভেম্বর দুদকের ১৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সামনে রেখে তার এ সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শিমুল মাহমুদ ও জয়শ্রী ভাদুড়ী।

প্রশ্ন : দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে প্রায় দেড় বছর পার হলো আপনার। এই সময়ে যা করতে চেয়েছিলেন তার কতটা বাস্তবায়ন হলো। কাজ করতে গিয়ে কোনো অপূর্ণতা আছে কি?

ইকবাল মাহমুদ : অপূর্ণতা তো আছেই, যে কাজগুলো করার আশা ছিল, এখানে আসার আগে মানসিক প্রস্তুতির সময়কালে যে আকাঙ্ক্ষা ছিল, বাস্তবে তা পূরণ হয়নি। সবচেয়ে বড় আকাঙ্ক্ষা ছিল, মামলা নয় বরং আমাদের কর্মকাণ্ডে সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও জনসাধারণ ধারণা করবে, প্রতিষ্ঠানটি আছে তাই দুর্নীতি করা ঠিক হবে না। দুর্নীতি বন্ধ হবে, প্রতিরোধ হবে সেটাই ছিল আমার আকাঙ্ক্ষা। সে আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি। কবে পূরণ হবে তা জানি না। সে আকাঙ্ক্ষা পূরণে আমরা বেশি জোর দিয়েছি দুর্নীতি প্রতিরোধে। এজন্য আপনারা দেখবেন মামলার সংখ্যা কমেছে যদিও মামলার কোয়ালিটি বেড়েছে। সাজা দেওয়ার সংখ্যা বেড়েছে। আমরা নিজেদের পরিশুদ্ধ করতে চাইছি। কারণ, একটা কথা আছে না, ‘আপনি আচরি ধর্ম অপরে শেখাও’। নিজেকে শুদ্ধ করে অন্যকে শুদ্ধ করতে চাওয়াই যুক্তিযুক্ত। কিন্তু সেই যুক্তি সব সময় খাটে না। কারণ, চারপাশের যে পরিবেশ-পরিস্থিতি ওরকম আদর্শিক নয়। তবে আকাঙ্ক্ষা ও স্বপ্ন থাকা ভালো। কারণ, স্বপ্ন বা পরিকল্পনা না থাকলে প্রতিষ্ঠানে স্থবিরতা চলে আসবে।

প্রশ্ন : দুদক থেকে দায়ের করা প্রায় ৩০০ মামলায় উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ রয়েছে। ফলে অনেক দুর্নীতিবাজ অপরাধ করেও পার পেয়ে যাচ্ছে। এটা কি আপনাদের তদারকির দুর্বলতা নয়?

ইকবাল মাহমুদ : মামলাজটের কারণে হয়তো এটা হচ্ছে। আমরা এখন আইনজীবীদের মাধ্যমে তদারকি করছি। আগে তদারকি হতো না। এখন স্থগিতাদেশ হওয়া মামলার সংখ্যা অনেক কমে এসেছে। আগে প্রায় ৭০০ মামলা স্থগিতাদেশ ছিল। এখন সেই সংখ্যা অনেক কম।

প্রশ্ন : আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি জয়নুল আবেদীনের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান চলবে বলে মঙ্গলবার রায় দিয়েছে হাই কোর্ট। এই বিচারপতির অনুসন্ধানটি কোন পর্যায়ে ছিল। তিনি তো এখন বিদেশে আছেন। তাকে কীভাবে আইনের আওতায় আনা যাবে?

ইকবাল মাহমুদ : বিচারপতির অনুসন্ধান চলবে। আপনারা জানতে চাইতে পারেন যে এত দিন কেন লাগছে। এর কারণ হলো, মানি লন্ডারিং মামলার ক্ষেত্রে যেসব দেশে টাকা পাচার করা হয় সে দেশে মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট (এমএলএআর) পাঠিয়ে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ করতে হয়। মানি লন্ডারিংয়ের জন্য জানতে চাইলে বিভিন্ন দেশে আমরা এটি পাঠাই। বিচারপতি জয়নুলের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রে আমরা এটা পাঠিয়েছি। এখনো ফেরত আসেনি বলে এগোতে পারিনি। জমি, ফ্ল্যাট, ব্যাংক সব জায়গায় আমরা অনুসন্ধান করেছি। এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট থেকে যখন চিঠি এসেছিল ওই চিঠি আমাদের অনুসন্ধান ব্যাহত করতে পারেনি। ওই চিঠি দেওয়াতে আমরা অনুসন্ধান বন্ধ করিনি। তখন আপনারা দেখেছেন তিনি কিন্তু জামিন নিয়েছেন। তার অর্থ এই যে, আমরা অনুসন্ধান বন্ধ করি না। এখন আপনারা দেখলেন হাই কোর্ট থেকে রায় এসেছে এটা সঠিক হয়নি। তিনি জামিনে আছেন তা জানি। দেশে আছেন কিনা জানি না। তার বিষয়ে স্থানীয় পর্যায়ের অনুসন্ধান শেষ। এখন শুধু মানি লন্ডারিং তথ্যের জন্য অপেক্ষা করছি। কারণ তথ্য অসম্পূর্ণ রেখে তো আর মামলা শুরু করা যায় না।

প্রশ্ন : দুদকের চলমান অভিযানে ব্যাংকার, ছোট চাকুরে, কেরানি, স্কুলশিক্ষক ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী গ্রেফতার হয়েছেন। অথচ প্রশাসন ক্যাডারে বহু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা থাকলেও তাদের কেউ গ্রেফতার হচ্ছেন না। বলা হয়, চুনোপুঁটিরা গ্রেফতার হচ্ছেন, রাঘব-বোয়ালরা ধরাছোঁয়ার বাইরে। বিষয়টি কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?

ইকবাল মাহমুদ : আমাদের মূল কাজ হচ্ছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে। আপনারা প্রায়ই দেখেন স্কুলশিক্ষক বা সাধারণ কর্মচারী দুর্নীতির দায়ে আটক। স্কুলশিক্ষকের ব্যাপারে আমাদের চিন্তা-ভাবনা আলাদা। এই শিক্ষকদের ওপর নির্ভর করছে আমাদের জাতির ভবিষ্যৎ। সন্তানরা তাদের শ্রদ্ধা করবে, অনুপ্রাণিত হবে, অনুকরণ করবে। এখানে আমাদের ভবিষ্যৎ জড়িয়ে আছে। তাই যে কোনো ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দুর্নীতির বিষয়ে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি মেনে চলি। ছোট কর্মচারীদের বিষয়ে আমার দৃষ্টিভঙ্গি হলো, এই কর্মচারীরা মানুষের প্রত্যক্ষ সেবা দেয়। তাদের কাছে সেবা নিতে অসংখ্য মানুষ যায়। তাই সেই সেবার উৎসগুলোর দুর্নীতি আমরা বন্ধ করতে চাই। যারা বড় কর্মকর্তা তারা বড় বড় দুর্নীতি করেন। আমাদের বেশির ভাগ মানুষ গ্রামে থাকেন। আমার দেশের মানুষ এই মাঠ পর্যায়ের অসাধু কর্মকর্তাদের হাতেই নিগৃহীত হন। তাই আমাদের নজর ছোট কর্মচারীদের দিকে বেশি। তবে ছোট-বড় কাউকে আমরা ছাড় দেব না। স্ট্রিট লেভেল বুরোক্রেসি সঠিকভাবে চললে মানুষ ভালো সেবা পাবে। গাছ ছোট থাকতে তাকে উপড়ে ফেলা সহজ কিন্তু এই গাছ বাড়তে দিলে ডালপালা গজিয়ে বৃক্ষ হলে তাকে টেনে তোলা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই আমরা চাই ছোট থাকতেই দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলতে, যাতে বড় হয়ে মহীরুহ ধারণ করতে না পারে।

প্রশ্ন : দুদক প্রভাবমুক্ত নয়, প্রভাবশালী বা ক্ষমতার কাছাকাছি থাকা মানুষদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলেও প্রত্যাশিত ভূমিকা রাখতে পারছে না দুদক। সম্প্রতি টিআইবি এমন অভিযোগ করেছে। এ ব্যাপারে কী বলবেন?

ইকবাল মাহমুদ : টিআইবি বা এনজিওগুলো আমাদের সমালোচনা করলে আমরা কখনো প্রতিউত্তর দিই না। কারণ আমরা চাই সমালোচনা হোক। আমরা প্রতিবাদ করলে সমালোচনার পথটা বন্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু ওই সমালোচনাটা আমার কাজের সঙ্গে কতটুকু সংগতিপূর্ণ তা মিলিয়ে দেখি। মূলত আমরা ক্ষমতার কাছাকাছি বা উচ্চবিত্তশালীদের কিছু করছি না কথাটা সঠিক নয়। এর আগে অনেক বড় বড় দুর্নীতিবাজকে আমরা আইনের আওতায় এনেছি। সরকারের সচিব, যুগ্ম-সচিব, সহকারী সচিব, এসিল্যান্ড, ডিসি, এসপি, কাস্টমস কমিশনার, ইনকাম ট্যাক্স অফিসার কেউই বাদ যাননি সেই তালিকা থেকে। আমরা মূলত বার্তা দিতে চাই যে, এই সেক্টরগুলোয় যদি দুর্নীতি করেন তাহলে এভাবেই সাজা পেতে হবে। আমরা কাউকে ছাড় দেব না। কিন্তু আপনারা কি চান আমরা এক দিনের মধ্যে দেশের সব দুর্নীতিবাজকে ধরে ফেলি। তা সম্ভব নয়। এই জনবল নিয়ে তা অসম্ভব। আমাদের জনবল, লজিস্টিক সাপোর্টে ঘাটতি রয়েছে। এ ছাড়া জনসম্পৃক্ততায়ও ঘাটতি আছে। জনসাধারণ এটা গ্রহণ করতে প্রস্তুত কিনা তাও দেখতে হবে। জনগণের মনস্তত্ত্ব বুঝতে হবে। আমরা যখন পুলিশের দুর্নীতি ধরব তখন কে আমাদের বাঁচাতে আসবে? জনগণের সেই আস্থার জায়গাটা অর্জন করতে হবে; যেন সেই জনগণ আমাদের পাশে এসে দাঁড়ায়। সেই আস্থা অর্জন করতে হবে। আমরা আমাদের বিভিন্ন প্রোগ্রামের মধ্য দিয়ে মানুষের সেই আস্থার জায়গাটা অর্জন করতে চাই।

প্রশ্ন : পানামা পেপারস কেলেঙ্কারিতে দেশভিত্তিক তালিকায় অর্থ পাচারে বাংলাদেশের ২১ ব্যক্তি, ৩ প্রতিষ্ঠানের নাম ও ১৮টি ঠিকানা প্রকাশ করা হয়েছিল। এ নিয়ে দুদকের অনুসন্ধানে কোনো ফলাফল আছে কি?

ইকবাল মাহমুদ : আমরা এখনো অনুসন্ধান পর্যায়ে আছি। পানামা পেপারসের অনুসন্ধান শেষ হলে সরকারি কর্মকর্তা বা ব্যাংকার যদি থাকে তাহলে আমরা সেটা অনুসন্ধান করব। আর অন্য কেউ যদি থাকে তাহলে আমরা তা করব না। দায়িত্বরত কর্তৃপক্ষকে পাঠিয়ে দেব। তবে সেই অনুসন্ধান এখনো শেষ হয়নি। এরও কারণ সেই মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট (এমএলএআর)। এটা পাঠানো হয়েছে বিভিন্ন দেশে কিন্তু ফলাফল এখনো পাওয়া যায়নি।

প্রশ্ন : দুদককে অর্থ পাচার ও প্রযুক্তিগত বিষয়ে সহযোগিতা করতে এফবিআই গত জুনে আপনার সঙ্গে বৈঠক করেছে। এ ব্যাপারে অগ্রগতি কতদূর?

ইকবাল মাহমুদ : এফবিআইর সঙ্গে আমাদের কাজ চলছে। এফবিআইর ট্রেনিংয়ে ইতিমধ্যে আমেরিকায় আমাদের দুজন মহাপরিচালক গেছেন। প্রযুক্তিগত জটিলতাপূর্ণ কোনো কেস যদি আমরা পাই, তাহলে তাদের সাহায্য চাইব। আশা করছি, তারা সাহায্য করবে।

প্রশ্ন : দুদকের আর্মস ইউনিটের যাত্রা হলো প্রায় আড়াই মাস আগে। এর কি সুফল পাচ্ছেন?

ইকবাল মাহমুদ : এর সুফলটা আমরা দুইভাবে পাচ্ছি। একটা হচ্ছে আমাদের কর্মকর্তারা এখন আস্থার সঙ্গে কাজ করতে পারছেন। তারা আশ্বস্ত হচ্ছেন যে, তারা শারীরিকভাবে কারও হাতে হেনস্তা হবেন না। আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে, আমরা নিয়মিত বিভিন্ন অফিস পরিদর্শনে যেতে পারছি। আমরা একটি বার্তা দিতে চাই যে, আমরা কারও মুখাপেক্ষী নই। নিজেরাই অনুসন্ধান করে আটক করতে পারি। আপনাদের আরেকটা বিষয় বলি, এজন্য আমরা নিজেদের হাজতখানা তৈরি করেছি। কারও সাহায্য ছাড়া আমরা যে এই সংস্থা চালাতে পারব তা জানানো দরকার। হাজতখানা এখনো উদ্বোধন হয়নি। এ মাসেই কয়েদি রাখা শুরু হবে।

প্রশ্ন : দুর্নীতি দমন কমিশনের একজন সাবেক চেয়ারম্যান তার মেয়াদের শেষ পর্যায়ে আমাদের বলেছিলেন, ৫০০ দুর্নীতিবাজকে জেলে পুরতে পারলে নিজেকে সফল ভাবতাম। আপনি গত দেড় বছরেই ৫৬০ জনকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠিয়েছেন। আপনি নিজেকে সফল মনে করেন?

ইকবাল মাহমুদ : আমি মোটেও সফল নই। তবে একভাবে সফল যে, মানুষের কিছুটা আস্থা অর্জন করতে পেরেছি। আপনি যদি ১০০ শতাংশের স্কেল ধরেন তাহলে তা ১০-১৫ শতাংশ সফল। তাহলে দেখা যাচ্ছে অসফলতার মাত্রাটাই ভারী। তাই সময়ই বলে দেবে সফল নাকি অসফল। খুব ক্ষুদ্র পরিসরে সফল।

প্রশ্ন : দুদক সরকারের একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। এর চেয়ারম্যান হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনায় কোনো ধরনের চাপ অনুভব করেন কিনা?

ইকবাল মাহমুদ : দুদক একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। এই মুহূর্তে আপনি প্রশ্ন করা পর্যন্ত কোনো চাপ পাইনি। ভবিষ্যতের কথা জানি না। তবে চাপ এলে চাপ সহ্য করার মতো ক্ষমতা আমাদের আছে। সেই সক্ষমতা নিয়েই আমরা এখানে এসেছি। চাপে নতি স্বীকার করার মতো মানসিকতা আমাদের এখনো জন্মায়নি।

প্রশ্ন : হলমার্ক কেলেঙ্কারি মামলার বিচারে অগ্রগতি কী? বেসিক ব্যাংক দুর্নীতির তদন্ত বর্তমানে কোন পর্যায়ে? ডেসটিনির মামলাটি কত দূর?

ইকবাল মাহমুদ : হলমার্কের দুর্নীতির ব্যাপারে মামলা হয়েছে। বিচারিক আদালতে মামলা চলছে তাই এ নিয়ে আমার মন্তব্য করার কিছু নেই। আমরা প্রমাণ করার চেষ্টা করেছি যে, তারা অন্যায় করেছে। বেসিক ব্যাংকের অনুসন্ধান চলছে পুরোপুরিভাবে। আমি তো আর ইনকোয়ারি করি না। ইনকোয়ারি অফিসারদের বার বার বলেছি, তোমরা প্রয়োজনে আইনানুগভাবে ব্যাংকের বোর্ডের যে কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারো। তাদের লিখিতভাবে এটা বলা হয়েছে। তাতে আমাদের কোনো বাচবিচার নাই। এ বিষয়ে আদালতের আদেশ আছে। আদালত কিন্তু বলেনি যে, বোর্ডকে জিজ্ঞাসাবাদ করো না। আদালত বলেছে, বোর্ডের দায়দায়িত্ব কী ছিল? তারা আমাদের কাছে যেসব উপাত্ত দিয়েছিল সেখানে এ বিষয়টি স্পষ্ট হওয়া দরকার যে, বোর্ডের দায়দায়িত্ব ছিল কিনা। এটা এখন শেষ পর্যায়ে। আমার ধারণা, তারা প্রয়োজনে বোর্ডকেও জিজ্ঞাসাবাদ করবে। ডেসটিনিও আমাদের এখানে অনুসন্ধান শেষ হয়ে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

প্রশ্ন : আপনি কি আমাদের পাঠকদের উদ্দেশে কিছু বলতে চান?

ইকবাল মাহমুদ : নিজের বলার একটাই— দুদকের একার পক্ষে দুর্নীতি ঠেকানো সম্ভব নয়। আমি দুর্নীতি দমনের দিকে যেতেই চাই না। প্রতিরোধে জোর দিতে চাই। ঘটনা ঘটার আগেই যদি সেটা রোধ করতে পারি, তাতে জনগণের লাভ। আর আমরা জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে চলেছি। জনগণের কাছাকাছি যেতে মিডিয়া আমাদের সহযোগিতা করতে পারে। আপনারা গঠনমূলক সমালোচনা করুন সেটা আমরা চাই। বাংলাদেশ প্রতিদিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত