প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশকে কেন সমর্থন দেয়নি বন্ধুদেশ ভারত

মাছুম বিল্লাহ : রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের থার্ড কমিটিতে বৃহস্পতিবার ১৩৫-১০ ভোটে গৃহীত প্রস্তাবে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী ও বন্ধু দেশ ভারতের সমর্থন না দেয়ায় নানা আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। ভারতসহ প্রতিবেশি ও বন্ধু দেশ নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও ভুটানের সমর্থন না পাওয়ায় বাংলাদেশের মিয়ানমার নীতি বা কৌশল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ঐতিহাসিকভাবে পরীক্ষিত দুই ঘনিষ্ঠ বন্ধু ভারত ও রাশিয়া এবং সাম্প্রতিক সময়ের বন্ধুদেশ চীন প্রস্তাবের পক্ষে ভোট না দেওয়ায় বাংলাদেশকে হতাশ করেছে। সাম্প্রতিক ইতিহাসে রোহিঙ্গা সংকটের মতো একটা বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ শুরু থেকেই এই দেশগুলোর কাছে সহযোগিতা চেয়ে আসছে।

অন্যদিকে এই ভোটাভুটিতে সার্কভুক্ত দেশ নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও ভুটানের বিরত থাকা বাংলাদেশকে অবাক করেছে। কারণ, এ দেশগুলোর যেকোনো সংকটের শুরুতেই বাংলাদেশ সব সময় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়।

তবে সবচেয়ে বেশি সমালোচিত হচ্ছে ভারতের সমর্থন না দেওয়া নিয়ে। কেন নিকট প্রতিবেশী ও বন্ধুপ্রতিম দেশ ভারত ভোটদানে বিরত থেকেছে? ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রাখতে দেশটির এই সিদ্ধান্ত। চীন যাতে ভারতকে রেখে একাই মিয়ানমারে নিজের অবস্থান সংহত করার সুযোগ না পায়, সেই জন্য ভারতের এই অবস্থান। একই অবস্থান নেপালেরও। তারাও চীনের কারণেই বাংলাদেশকে সমর্থন দেয়নি।

এদিকে মুসলিম দেশ ইরানও বাংলাদেশকে সমর্থন দেয়নি। মানবাধিকার প্রশ্নে আন্তর্জাতিক সমালোচনা সম্মুখীন ইরান দুই যুক্তিতে প্রস্তাবটির বিরোধিতা করেছে। ইরান কেন প্রস্তাবটি নিয়ে ভোটদানে বিরত থাকে, তার ব্যাখ্যায় যে বিবৃতি দেশটি দিয়েছে, তাতে বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্ট। তারা মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর নির্বিচার হত্যার তীব্র প্রতিবাদ জানায়, অবিলম্বে সব সামরিক তৎপরতা বন্ধের দাবি জানায় এবং সব রোহিঙ্গার প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করার আবেদন জানায়। পাশাপাশি, তারা এ কথাও বলে, থার্ড কমিটি যেভাবে বারবার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে, তা মোটেই গঠনমূলক নয়। তারা এই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিচ্ছে না, কিন্তু সে কথার অর্থ এই নয় যে তারা রোহিঙ্গাদের ওপর অপরাধ ক্ষমার চোখে দেখে।

উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সদস্যরাষ্ট্রের সমর্থনে প্রস্তাবটি গৃহীত হলেও ১০টি দেশ প্রস্তাবের বিরোধিতা করে এবং আরও ২৬টি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে। ২২টি দেশ অনুপস্থিত ছিল। অন্য কথায়, ৫৮টি সদস্যদেশ ওআইসি উত্থাপিত প্রস্তাব সমর্থন করেনি। কোনো কোনো পর্যবেক্ষক বিশ্ব সংস্থার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সদস্যের এই নেতিবাচক অবস্থানে হতাশা ব্যক্ত করেছেন। কেউ কেউ এমন কথাও বলেছেন, এটি বাংলাদেশের কূটনৈতিক ব্যর্থতা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ