প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ক্ষমতা নিয়ে মিসরীয় জেনারেলদের দ্বন্দ্ব

সাইদুর রহমান : মিসরে জাতীয় নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে ততই উৎকণ্ঠা বাড়ছে। একদিকে সেনাবাহিনীর ক্ষমতার লোভ অন্যদিকে নির্যাতিত বেসামরিক নেতৃত্বের উত্তরণের আকাঙ্খা। প্রেসিডেন্ট সিসির নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থতা নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন দেশটির সাবেক জেনারেলরা।

সিসির দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে অন্যান্য সাবেক জেনারেলরা রাষ্ট্রযন্ত্র দখলের জন্য সিসির প্রতিদ্বন্দ্বি হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার চেষ্টা করছেন। পরিস্থিতি এমন হয়েছে যেন বেসামরিক নেতৃত্ব মেনে নিয়েছে যে, সিসির সামরিক শাসন দমাতে পারবে একমাত্র অপর সামরিক ব্যক্তিত্ব।

ইতিমধ্যেই সাবেক জেনারেল আহমেদ শফিক প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দিয়েছেন। যদিও তার সম্ভাবনা খুবই কম। যেহেতু আরেক প্রতিদ্বন্দ্বি সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল সামি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আহমেদ শফিকের চেয়ে এগিয়ে আছেন।
মিসরের নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তার নামই বেশি প্রচারিত হচ্ছে। যদিও জেনারেল সামি এখনও নির্বাচনী যুদ্ধে নামার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেননি।

ইতিপূর্বে ২০১৪ সালের নির্বাচনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন সামি আনান, যদিও তখন জেনারেল সিসিই জিতে যান।
বিভিন্ন গোপনসূত্র দাবি করেছে, বর্তমান সেনা ফেরাওকে দমন করতে সাবেক অন্যান্য জেনারেলদের সমর্থন আদায় করতে হবে। তাছাড়া নির্বাচনেও সেনাবাহিনীর কর্তৃত্ব ঠেকানো যাবে। এই সারিতে দুই জেনারেলের নাম সর্বাগ্রে। তারা হলেন সাবেক সেনাপ্রধান সামি আনান এবং জেনারেল আহমেদ শফিক।

প্রার্থী দুই জেনারেলই এখন বেসামরিক দলগুলোর সমর্থন পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। জেনারেল শফিক ২০১২ সাল থেকে আরব আমিরাতে অবস্থান করছেন। তিনি গত ৪ মাস আগে ফোনে জানিয়ে ছিলেন, গত অক্টোবরে দেশে ফিরবেন। কিন্তু তিনি ফেরেননি। ধারণা করা হচ্ছে,তিনি আর ফিরবেন না।

এর আরেকটি কারণ হলো সিসি সরকার আরব আমিরাতের এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে, আহমেদ শফিক দেশে ফিরে নির্বাচনে অংশ নিবেন না। যদি নির্বাচনের আগে নাই ফেরেন তাহলে সামি আনানই নির্বাচনের প্রথম সারিতে চলে আসবেন

যদিও বা বিভিন্ন তথ্য আসছে, সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব নিয়ে কোন্দল চরমে পৌঁচ্ছেছে। এই কোন্দলের কারণেই সিসির সাবেক সেনাপ্রধান মাহমুদ হেজাজীকে সেনাপ্রধানের পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছে। তবে সিসিকে একমাত্র অপসারণ করতে পারে সেনা কাউন্সিল।

মিসরীয় পার্লামেন্ট প্রধান আলী আব্দুল আ’ল জানান, আগামী মার্চ মাসের নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ফলে সিসি আর নির্বাচন ব্যতিরেকে ক্ষমতার মেয়াদ বাড়াতে পারবেন না। যদিও মিসরের পার্লামেন্টের সদস্যরা সিসির ক্ষমতার মেয়াদ আরো দুই বছর বৃদ্ধির জন্য সংবিধান সংশোধনের জন্য দাবি জানিয়েছেন। কিন্তু ওয়াশিংটন জোরালোভাবে তা প্রত্যাখ্যান করেছে।

মিসরের বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, মিসরে চলমান অর্থনৈতিক মন্দা, নিরাপত্তাকর্মীদের ব্যাপক মারা যাওয়ার কারণে জনগণ আগামী নির্বাচনে অংশ নিবে না। এরকারণেই জেনারেল সিসির রাজনৈতিক দফতর জেনারেল আব্বাস কামেল পার্লামেন্টের সদস্যদেরকে উদ্ভুদ্ধ করছেন সিসির ক্ষমতার মেয়াদ বাড়ানোর জন্য। তবে এ পথে রয়েছে আমেরিকার প্রত্যক্ষ বাধা।

উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট সিসি এখনও আগামী বছরের মার্চের জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেয়ার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানাননি। তবে তিন গত সপ্তাহে মার্কিন চ্যানেল ‘সিএনবিসির’ সাথে সাক্ষাতকালে বলেছিলেন, তিনি (সিসি) ২০২২ সালের জাতীয় নির্বাচনে কিছুতেই প্রতিদ্বন্দিতা করবেন না। এরদ্বারা পরোক্ষভাবে প্রমাণিত হয়, ২০১৮ নির্বাচনে তিনি অংশ নিবেন। সূত্র : খালিজ অনলাইন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ