প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

লজ্জাবতী চাষ সম্প্রসারণের উজ্জ্বল সম্ভাবনা: সালাদ, সবজি ও স্যুপ হিসেবে খাওয়া যাবে

মতিনুজ্জামান মিটু : বাংলাদেশে ঔষধি গুণাগুন ও পুষ্টি সমৃদ্ধ লজ্জাবতী চাষ সম্প্রসারণের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। সালাদ, সবজি ও নানা প্রকার স্যুপ হিসেবে খাওয়া যাবে। লজ্জ্বাবতী আহারের প্রচলন থাইল্যান্ড এবং কম্বোডিয়ার মতো আমাদের দেশেও খুবই জনপ্রিয়তা পাবে।

কৃষি তথ্য সার্ভিসের পরিচালক কৃষিবিদ ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, দ্রুতবর্ধণশীল কাঁটাবিহীন জায়েন্ট মাইসোমা নামের লজ্জ্বাবতীর জাত বাংলাদেশে সম্প্রসারণের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। ভারতের রাজস্থান ও কেরালায় খরাপ্রবণ এলাকায় বাগানের ভেতর কভার ক্রপ (শস্য) হিসেবে জায়েন্ট মাইসোমা চাষের প্রচলন খুব বেশি। আমাদের দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বৃহত্তর বরিশাল ও খুলনার উপকুলবর্তী এলাকায় বিশেষ করে বাগানে এ জাতের লজ্জ্বাবতী চাষ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়া দরকার। এছাড়া দেশের উত্তরাঞ্চলের খরাপ্রবণ এলাকার ফল বাগানে জায়েন্ট মাইসোমা চাষ সম্প্রসারণেরও সুযোগ রয়েছে। রাস্তা ও বাঁধের ধারে, রেল লাইনের দু’পাশ ও নদীর দু’পাড়ে এবং বাগানের জমি জায়েন্ট মাইসোমা নামের লজ্জ্বাবতী চাষের উপযোগি।

বরেন্দ্র এলাকায় নতুনভাবে সম্প্রসারিত আম বাগানের মধ্যে মাইসোমা চাষের ব্যবস্থা নেয়া দরকার। এতে বাগানের আগাছা দমন, মাটির রস সংরক্ষণ ও জৈবসার সরবরাহ নিশ্চিত হবে। মাটির ক্ষয়রোধ ও তা ধরে রাখার জন্য বাঁধের এবং উঁচু রাস্তার ধারে জায়েন্ট মাইসোমা চাষ সম্প্রসারণের দরকার। এ জাতের মাইসোমা মার্চ- এপ্রিল মাস থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত খুব বাড়ে এবং চারিদিকে প্রচুর লতা ছড়ায়।

লজ্জাবতী (মাইসোমা) অনেকটা লতাজাতীয় উদ্ভিদ। আমাদের দেশে অম্লভাবাপন্ন মাটিতে এক জাতের কাটাযুক্ত লজ্জ্বাবতী দেখা যায়। এগুলো আকারে ছোট। লজ্জ্বাবতী অতি স্পর্শকাতর। ডাল জাতীয় ফসলের মতো লজ্জ্বাবতীর শিকড় প্রাকৃতিকভাবে নাইট্রোজেন ও জৈব পদার্থ সরবরাহ করায় মাটির উর্বরতা বাড়ে। লজ্জ্বাবতী পুষ্টিতে অতি সমৃদ্ধ। এতে রয়েছে যথেষ্ট পরিমাণ প্রোটিনসহ সব ধরণের খাদ্য উপাদান। বিশেষ করে এটি ভিটামিন-এ, ক্যালসিয়াম, আয়রন ও পটাশিয়ামসহ বিভিন্ন উপাদানে ভরপুর।

আফ্রিকার অনেক অধিবাসী চা ও কফির বিকল্প হিসেবে মাইসোমার লতাপাতা, ফুল ও কচি ফলের নির্যাস পান করেন। ইন্দোনেশিয়ায় ‘জায়েন্ট মাইসোমা (কাটাবিহীন)’ মহিষের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করে। ওয়াটার মাইসোমা’র শিকড় ও কচি পাতা – শিং, মাগুর, কৈ, তেলাপিয়া ও অনুরুপ মাছের প্রিয় খাবার। বিশ্বের অনেক দেশে মাইসোমার যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে।

লজ্জ্বাবতীর ঔষধি গুণাগুণ অত্যন্ত বেশি। নানা রোগের চিকিৎসায় হারবাল মেডিসিন তৈরীতে এর ব্যবহার যুগযুগ ধরে চলে আসছে। নাক, কান, দাঁত ও ক্ষুদ্র নালির ঘা সারাতে লজ্জ্বাবতীর শিকড় ও লতাপাতার ব্যবহার দেশে বিদেশে বহুল প্রচলিত। জন্ডিস, অ্যাজমা, টিউমার, হুপিংকফ, চর্মরোগ, ডায়াবেটিস, হার্ট ও লিভারের নানা রোগ সারাতে লজ্জ্বাবতী বা মাইসোমার ঔষধি গুণাগুণ খুব বেশি।

অনেকের উদ্ধৃতি দিয়ে ড. জাহাঙ্গীর জানান, মেক্সিকো লজ্জ্বাবতীর জন্মস্থান। দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া, আমেরিকার উত্তর দক্ষিণ বেল্ট, আফ্রিকার অনেক দেশ ও অস্ট্রেলিয়ায় প্রচুর লজ্জ্বাবতী দেখা যায়। পৃথিবীতে অনেক রকমের লজ্জ্বাবতী দেখা যায়। তবে জায়েন্ট মাইসোমা বা কাঁটাবিহীন লজ্জ্বাবতী ডাঙ্গায় এবং ওয়াটার মাইসোমা অগভীর পানিতে চাষের প্রচলন দেখা যায়। বীজ থেকে বা পুষ্ট লতা কেটে তা রোপনের মাধ্যমে লজ্জ্বাবতী চাষ করা যায়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত