প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্রতিদিন ১৩০ শিশু মারা যাচ্ছে ইয়েমেনে

রাশিদ রিয়াজ : আগামী কয়েক মাসে অন্তত দেড় লাখ ইয়েমেনি শিশু পুষ্টিহীনতায় মারা যাবে বলে সতর্ক করে দিয়েছে জাতিসংঘ। দেশটিতে সৌদি আরবের আগ্রাসন, চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধ ও অবরোধে তীব্র খাদ্য সংকট, দুর্ভিক্ষময় পরিস্থিতি ও কলেরায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কবলে মারা যাচ্ছে হাজার হাজার শিশু। এসব শিশুর অধিকাংশ কঙ্কালসার। হাসপাতালে ঠিকমত ওষুধ মিলছে না। পওয়া যাচ্ছে না খাবার। অবরোধ থাকায় সাহায্য বা ত্রাণ ঠিকমত পৌঁছাতে পারছে না দেশটিতে। রোগে শোকে না খেতে পেয়ে দিনে অন্তত ১৩০টি শিশু মারা যাচ্ছে ইয়েমেনে। টাইমস অব ইসরায়েল

আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থা সেভ দি চিলড্রেন বলছে, ইয়েমেনের ওপর সৌদি ও তার মিত্র দেশগুলোর অবরোধ আরোপ অব্যাহত থাকলে এ বছর ইতিমধ্যে ৫০ হাজার শিশু মারা গেছে। এ মাসের শুরুতে রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রতিবাদে সৌদি আরব ইয়েমেনের বন্দরগুলো অবরোধ করে রেখেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমালোচনার মুখে গত সোমবার সৌদি আরব ঘোষণা দেয় এ অবরোধ তুলে নেওয়া হয়েছে। এরপর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও জাতিসংঘের শিশু সংস্থা ছাড়াও বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি ইয়েমেনে অবরোধ শিথিল করার আবেদন জানায়। কারণ ইয়েমেনের ওপর অবরোধ সামান্য বা আংশিক প্রত্যাহার করা হয়েছে।

ইয়েমেনের আকাশপথ, স্থল ও নৌ বন্দরগুলো কার্যত অচল হয়ে রয়েছে। ফলে দেশটিতে ত্রাণ ও খাদ্য এমনকি জরুরি ওষুধ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। ২০১৫ সালের মার্চে ইয়েমেনের বিরুদ্ধে সৌদি আরব যুদ্ধ শুরু করার পর দেশটির বিরুদ্ধে অবরোধ আরোপ করে। এ পর্যন্ত ১২ সহ¯্রাধিক মানুষ মারা গেছে ইয়েমেনে। জাতিসংঘের কোনো অনুমোদন না নিয়ে সৌদি বোমারু বিমানগুলো বোমা বর্ষণ করছে ইয়েমেনে। দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট আব্দ মানসুর হাদি পদত্যাগ করার পর সৌদি আরব পালিয়ে যান এবং তাকেই পুনরায় ইয়েমেনের ক্ষমতায় বসাতে সৌদি আরব এ যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও উত্তরাঞ্চল বিদ্রোহী হুতিদের দখলে ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে যারা সৌদি আরাবের এধরনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়ছে। যুদ্ধে অন্তত ৩০ লাখ মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।

জাতিসংঘ বলছে, ইয়েমেনে কুড়ি মিলিয়ন মানুষ ও ১১ মিলিয়ন শিশু জরুরি খাদ্য ও ত্রাণের অভাবে ধুকে ধুকে মরছে। ৭ মিলিয়ন মানুষ খাদ্য সহায়তায় কোনোভাবে বেঁচে আছে। জাতিসংঘ বলছে ইয়েমেনে বিশ্বের সবচেয়ে করুণ মানবিক বিপর্যয় চলছে।
জাতিসংঘের কর্মকর্তারা বলছেন, আংশিক অবরোধ প্রত্যাহার করা হলেও ৩২ লাখ মানুষ নতুন করে ইয়েমেনে খাদ্য সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। আর অবরোধ পুরোপুরি প্রত্যাহার না হলে আগামী কয়েক মাসে অন্তত দেড় লাখ শিশু অপুষ্টিতে মারা যাবে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তেনিও গ্যুতারেস সৌদি আরবে জাতিসংঘের দূতকে চিঠিতে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, দেশটি ইয়েমেনে পরিস্থিতি অনুধাবন করতে ব্যর্থ হলে এবং অবরোধ প্রত্যাহার না করলে সংকট মোকাবেলা করা সম্ভব হবে না। আংশিক অবরোধ প্রত্যাহারের কথা বললেও ইয়েমেনের ২৮ মিলিয়ন মানুষের জন্যে খাদ্য ও জরুরি ত্রাণ সহায়তা করা সম্ভব হচ্ছে না।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ