প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কৃষি জমি ভরাট করে অবৈধ ভাবে তৈরি হচ্ছে ইটভাটা

কুমিল্লা প্রতিনিধি: কুমিল্লা চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ৬নং ঘোলপাশা ইউনিয়নের নারায়নপুর-যশপুর গ্রামের রাস্তার পাশে কৃষি জমি ভরাট করে অবৈধ ভাবে (খাদিজা বিক্সফিল্ড) এর নির্মাণ কাজ চলছে। এদিকে হাড়িসর্দার-বসন্তপুর রাস্তার পাশে (আমেনা বিক্সফিল্ড) এবং শুভপুর ইউনিয়নের গাছবাড়িয়া শাহফখরুউদ্দিন সড়কের পাশে (শাহসাহেব-২) নামে আরো একটি নতুন ইটের ভাটার কাজ চলছে। কর্তৃপক্ষের শিথিল নজরদারির সুযোগে কোনো ধরনের নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে যত্রতত্র গড়ে উঠেছে ইটভাটা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ৬নং ঘোলপাশা ইউনিয়নের নারায়নপুর-যশপুর গ্রামের রাস্তার পাশে কৃষি জমি ভরাট করে অবৈধ ভাবে (খাদিজা বিক্সফিল্ড) এর নির্মাণ কাজ চলছে। এদিকে হাড়িসর্দার-বসন্তপুর রাস্তার পাশে (আমেনা বিক্সফিল্ড) এবং শুভপুর ইউনিয়নের গাছবাড়িয়া শাহ ফখরুউদ্দিন সড়কের পাশে (শাহ সাহেব-২) নামে আরো একটি নতুন ইটের ভাটার কাজ চলছে। এর মধ্যে সরকারি অনুমোদন ছাড়ায় অনেক গুলো ইটেরভাটা গড়ে উঠেছে। যার মধ্যে বৈধ ইটের ভাটা রয়েছে হাতে গণা কয়েকটা। তার পরেও নজরদারির অভাবে কোনা ধরনের নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে নতুন করে গড়ে উঠছে ইটের ভাটা গুলো।

২০১৩সালে সর্বশেষ সংশোধন হয়েছে ইটের ভাটা স্থাপন আইন, এর পরও এখনো শত শত ইটের ভাটা বেআইনিভাবেই তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গলি দেখিয়ে অবৈধভাবে ব্যবসা করে যাচ্ছে ইটভাটার মালিকরা। চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ৪নং শ্রীপুর ইউনিয় পরিষদের সর্ব দক্ষিণের যশপুর-নারায়নপুর গ্রামের রাস্তার পাশে (খাদিজা বিক্সফিল্ড) এবং হাড়িসর্দার-বসন্তপুর রাস্তার পাশে (আমেনা বিক্সফিল্ড) এবং শুভপুর ইউনিয়নের গাছবাড়িয়া শাহফখরুউদ্দিন সড়কের পাশে (শাহ সাহেব-২) নামের ইটের ভাটা। যেগুলো আইনকে তোয়াক্কা না করে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে গড়ে উঠেছে।

অবৈধ ভাটা শুধু পরিবেশ দূষণই করছে না, কমিয়ে দিচ্ছে ফসলী জমির উবরতাও। ইটের ভাটা চলমান থাকলে পার্শ্ববর্তী ফসলের জমি ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা তার প্রাকৃতিক ভারসাম্য হারায় বলে জানান পরিবেশবিদরা। ইটভাটার নির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী নদীর পাশে, লোকালয়ের পাশে কোনো ধরনের ইটভাটা নির্মাণ করা যাবে না। নিয়মানুযায়ী ভাটাগুলোতে সহনীয় মাত্রায় কম সালফারযুক্ত কয়লা ব্যবহার করার কথা। পরিবেশবান্ধব ১২০ ফিট চিমনি তৈরির বিধান থাকলেও অধিকাংশ ভাটায় তা মানা হয়নি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কোনো ধরনের নিয়ম অনুসরণ না করে রাস্তা, নদী ঘনবসতি লোকালয়ের পাশে গড়ে উঠেছে অধিকাংশ ইটভাটা। পরিবেশ আইন অনুযায়ী কিছুই চোখে পরেনি ইট ভাটায়। স্থানীয় এলাকাবাসি ৫নং শুভপুর ইউনিয়নের গাছবাড়িয়া গ্রামের আবুল কালাম, আব্দুল কুদ্দুছ, শরিফ উদ্দিন নাইম জানান, আমাদের এ গাছবাড়িয়া গ্রামের গণবশতির মধ্যে যে ইটেরভাটা নির্মান করতেছে তাতে আমাদের ছেলে মেয়েদের লেখা পড়াসহ পরিবেশের ক্ষতি হবে তাই আমরা গ্রামবাসি আজকে তাদের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছি চৌদ্দগ্রাম উপজেলা প্রশাসন যেন এখানে ইটেরভাটা নির্মান কাজ বন্ধ করে।

যশপুর গ্রামের ভিতর দিয়ে নারায়নপুরের রাস্তাটি পাকা পর্যন্ত হয় নাই তাহাঁর ভিতর রাস্তার বেহাল দশা। সাধারণ মানুষ ট্রাক্টর আসা যাওয়ার কারণে হাটতে কষ্ট হয়। ছোট বাচ্চারা স্কুল, মাদ্রাসায় যেতে ভয় পায়, কখন ট্রাক্টর আসে। গ্রামের মানুষ প্রতিনিয়ত আতংকের মধ্যে আছে। যশপুর ও নারায়নপুর গ্রামের কিছু কুচক্রী মহলের সহযোগিতায় মো. আমান উল্লাহ গং এখানে এসে ইটের ভাটা নির্মাণ করে। যার দ্বারা আমরা সবাই ক্ষতিগ্রস্থ হইতেছি ভবিষ্যতে আরো বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হবো। আমরা গাছবাড়িয়া, কাছিয়া পুস্পড়ি, খামার পদুয়া, যশপুর-নারায়নপুর, কোয়াল্লা, বসন্তপুর গ্রামের নিরীহ মানুষগুলো আশা করি-স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা আমাদেরকে এই বিপদ থেকে রক্ষা করবেন।

এবিষয়ে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাইনুদ্দিন জানান, শিগগির তদন্ত করে এইসব ইট ভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত