প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ইন্দোনেশিয়ার আদিবাসী ‘ওরাং রিমবা’দের ইসলাম গ্রহণে চাপ প্রয়োগ

 

প্রত্যাশা প্রমিতি সিদ্দিক: জনসংখ্যার দিক থেকে বৃহত্তম মুসলিম দেশ ইন্দোনেশিয়ার ‘ওরাং রিমবা’ নামক আদিবাসীদের ইসলাম ধর্ম গ্রহণে বাধ্য করা হচ্ছে। যদিও দেশটিতে সম্প্রতি অন্য ধর্ম গ্রহণে বাধ্য করার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার।

সুমাত্রা দ্বীপের কাছে অবস্থিত ‘ওরাং রিমবা’ নামক এই আদিবাসীদের পার্শ¦বর্তী অঞ্চলগুলোতে বর্তমানে পাম ওয়েল চা
ষ করা হয়। এ কারণে গত ১০ বছরে সেখানে পাম চাষের জমি তিন লক্ষ হেক্টর থেকে বেড়ে ৫ লক্ষ হেক্টরে পরিণত হয়েছে। ফলাফল পর্যাপ্ত বনাঞ্চল কমে যাওয়া এবং পরিবেশ দূষন বৃদ্ধি পাওয়া।

পাম চাষের কারণে আদিবাসি এলাকার বনাঞ্চল কেটে ফেলায় ওই অঞ্চলে অনেক মুসলমানদের অনুপ্রবেশ ঘটেছে। এই অনুপ্রবেশকারীরাই আদিবাসিদের ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে বাধ্য করছে।

ইন্দোনেশিয়ায় ১০০ টির বেশি ধর্ম বিশ্বাস রয়েছে যার মধে স্বীকৃত ধর্ম ৬টি। সুমাত্রার প্রায় ৩ হাজার আদিবাসিদের নিজস্ব ধর্ম, সংস্কৃতি ও খাদ্যাভ্যাস রয়েছে। তবে বর্তমানে ধর্ম পরিবর্তনের ফলে রিমবাদের জীবনধারার সাথে খাদ্যাভ্যাসেও পরিবর্তন করা হচ্ছে। রিমবারা গৃহ পালিত পশু খায় না অথচ ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী তাদের বাধ্য করা হচ্ছে গৃহপালিত পশু খেতে।

দেশটির আদিবাসী জোটের প্রধান রুক্কা সমবলিঙ্গি বলেন, ‘বনাঞ্চল এলাকাগুলোতে নতুন ধর্মগুলো (ইসলাম) আসার আগের থেকেই আমরা আমাদের ধর্ম পালন করছি। কিন্তু এখন তারা আমাদের চাপ প্রয়োগ করছে। বিশেষ করে মুসলিমরা ওরাং রিমবা দের ‘কুবু বলে সম্মোধন করে যার অর্থ ময়লা বা নোংরা।’ তিনি আরো জানান, সহজ-সরল আদিবাসীরা চুরি কি জিনিস তা জানে না, ঈশ্বর প্রদত্ত হওয়ায় গাছের থেকে ফল পেড়ে খাওয়ায় কোনো অন্যায় নাই এমন মতে বিশ্বাসী। অথচ রিমবাদের এক শিশু গাছ থেকে ফল পেড়ে খাওয়ায় তাকে মেরে ফেলা হয়েছে।’

তিনমাস আগে ওরাং রিমবা’র সেলিটাই গোত্রকে ইসলাম ধর্মে রূপান্তরিত করে। এ প্রসঙ্গে ইসলামিক ডিফেন্ডোর ফ্রন্ট নেতা বলেন ‘আগে তাদের মৃত্যুর পর দেহাবশেষ জঙ্গলে ফেলে রাখা হত, তাদের জীবনের কোনো মানে ছিল না, এখন তারা ইসলাম গ্রহণ করে জীবনের একটা মানে খুঁজে পেয়েছে।’

এদিকে পাম চাষের বিষয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট জোকো উইডোডো বলেন, ‘গতবছর আদিবাসীদের জন্য নতুন ঘরবাড়ির ব্যবস্থা করা হয়েছে। যা এখন জনমানব শূন্য অবস্থায় রয়েছে।’ এ প্রসঙ্গে রিমবা অধিবাসী নংটপ জানায়, ‘আমরা ভাগ্যে বিশ্বাসী এবং জঙ্গলের মানুষ, কেন অন্যদের মত বাইরে থাকব।’

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে জায়গাটিকে পৈত্রিক সম্পত্তি হিসেবে নিবন্ধণ করতে চেয়েছিল আজীবন বসবাসের জন্য কিন্ত নিবন্ধণ সম্ভব হয়নি মূলত পামওয়েল চাষের পরিকল্পনার জন্য। বিবিসি

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ