প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জামায়াত এই দেশে ক্যান্সার রোগের মতো

শাহরিয়ার কবির : চিহ্নিত জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাই। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, জামায়াত ইসলামীর কর্মীরা এখন তাদের নাম ব্যবহার না করলেও বিভিন্ন দলে তারা যোগ দিচ্ছে। এখন যদি তারা নৌকা নিয়ে, ধানের শীষ নিয়ে বা লাঙ্গল নিয়ে নির্বাচনে প্রতিযোগিতা করে, সেক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনার কী করবে? এ ব্যাপারে কতগুলো আইনী জটিলতা আছে, নির্বাচন কমিশনকে সেগুলো দেখতে হবে। দ্বিতীয়ত হচ্ছে, এখন অনেক নতুন কর্মী জামায়াতে ঢুকেছে। তাদের পুরনো নেতাকর্মীরা তো আর এখন নেই। এখন পর্যন্ত আইনীভাবে তাদের নিষিদ্ধ করা হয়নি। তাহলে তারা যদি অন্য দল থেকে বা স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করে, তাহলে আইনীভাবে নির্বাচন কমিশনার সেটা মোকাবিলা করতে পারবে কি-না, সেটা আমি জানি না। আমাদের দাবি দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে।

 

জামায়াতের নিবন্ধন, রাজনীতি নিষিদ্ধ করা। তাদের অঙ্গসংগঠন নিষিদ্ধ করার কথা বলছি। কারণ হচ্ছে, ’৭১ এর গণহত্যার সাথে জামায়াতের গভীরভাবে সম্পৃক্ততা এবং সাম্প্রতিককালের যে সমস্ত সন্ত্রাসী কর্মকা- হচ্ছে, সেগুলোর গডফাদার হচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। বহু সন্ত্রাসী বলেছে, তাদের আদর্শ হচ্ছে জামায়াতে ইসলামী বা জামায়াতের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিভিন্ন দলে এখন আছে। জামায়াতের আদর্শ ও রাজনীতি হচ্ছে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যেটা নিয়ে সরকারকে ভাবতে হবে। নির্বাচন কমিশন জামায়াতের নিবন্ধন তখনই বাতিল করেছেন, যখন হাইকোর্টে জামায়াতের নির্বাচন নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কারণ, হাইকোর্ট এর রায়ে বলা হয়েছে, জামায়াতের গঠনতন্ত্র, বাংলাদেশের সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

 

কোনো দলের গঠনতন্ত্র যদি সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক হয়, সেক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের আগেই জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল করা উচিত ছিল । কিন্তু এখনো জামায়াতের গণহত্যার দায়ে বিচর করা হয় নি। এবং সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে সন্ত্রাস বিরোধী আইনেও তাদের কোনো বিচার হয় নি। জামায়াতকে বিচার না করে, নিষিদ্ধ ঘোষণা না করে, নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করলেই তো হবে না। আমাদের কথা হচ্ছে, দল হিসেবে জামায়াতের কোনো রাজনীতি করার নৈতিক অধিকার নেই। ’৭২ এর সংবিধানে জামায়াত এবং ধর্মের নামে রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। ধর্মের নামে রাজনীতি থাকলেই তারা সন্ত্রাসবাদী কাজ করবে। এখনো আমরা দেখছি, তারা এই কাজগুলো করছে। সম্প্রতি আমরা দেখেছি, রংপুরে যে ঘটনাটা ঘটেছে, এটা নতুন কিছু নয়, এটা জামায়াতের পুরোনো খেলা। এগুলো নাছির নগরে দেখেছি, রামুতে দেখেছি। দেশের আরও বিভিন্ন জায়গায় দেখেছি। তারা এই খেলাতে ধর্মকে ব্যবহার করছে তাদের রাজনৈতিক স্বার্থে। তাদের এই খেলা চলতে থাকলে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের যা কিছু অর্জন সব কিছু তারা ধ্বংস করে দিবে।

 

এজন্যেই আমরা চাই ধর্মের নামে রাজনীতি বাংলাদেশে নিষিদ্ধ হোক। নির্বাচনে নিষিদ্ধ এটা ক্ষুদ্র চিকিৎসা। জামায়াত এই দেশে ক্যান্সার রোগের মতো। আর ক্ষুদ্র চিকিৎসা দিয়ে তো আর এমন ক্যান্সারে নির্মূল করা যাবে না। সেজন্য জামায়াতকে দল হিসেবে নিষিদ্ধ করতে হবে। তাদের যে সম্পদ আছে সেগুলো সরকারের নিয়ন্ত্রণে নিতে হবে। তাদের যে মূল আদর্শ মৌলবীবাদ, তা বাংলাদেশে থাকতে পারবে না। যে আদর্শ ধর্মের নামে গণহত্যা বুঝায়, তা নিষিদ্ধ করতে হবে। কারণ, তারা গণহত্যা করেছে।

 

পরিচিতি : সভাপতি, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি
মতামত গ্রহণ : গাজী খায়রুল আলম
সম্পাদনা : মোহাম্মদ আবদুল অদুদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ