প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দিল্লিতে বায়ু দূষণ বাড়ছে: শ্বাস কষ্টসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ

জুয়াইরিয়া ফৌজিয়া: দিল্লিতে বায়ু দূষণের মাত্রা ভয়াবহ মাত্রায় পৌঁছানোর কারণে শহরটিতে স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। স্কুলগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং অনেকে শ্বাস-কষ্টসহ নানা সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। কিন্তু দিল্লিতে বায়ু দূষণের সমস্যা এবারই প্রথম না। বছরের পর বছর দিল্লিতে শীতের সময় বায়ু দূষণের সমস্যা দেখা দিলেও তার যেন কোনো সমাধান খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সূত্র: বিবিসি বাংলা

দিল্লির একটি হাসপাতাল ঘুরে রোগীদের সাথে কথা বলে জানা গেল, তাদের শ্বাস নিতে অনেক কষ্ট হচ্ছে।
এখন দিল্লি একটি হাসপাতালের প্রতি ১০ জনের একজন শ্বাসকষ্ট জনিত কারণে ভর্তি হচ্ছে। আর দিল্লির আবহাওয়া যেমন দিন দিন খারাপ হচ্ছে তেমনি অবনতি হচ্ছে তাদের স্বাস্থ্যেরও।

দিল্লিতে বাতাসে দূষিত ক্ষুদ্র পদার্থের মাত্রা সহ্য সীমার ৩০ গুণ বেশি হওয়ার পর গত সপ্তাহে শহরটিতে স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। শহরটিকে একটি গ্যাস চেম্বারের সাথেও তুলনা করেছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী।

অ্যাপোলো হাতপাতালের বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ ড. রাজেস চাপলা বলেন, দিল্লির অবস্থা এভাবে চলতে থাকলে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করবে। আগামী দুই বছরের মধ্যে এসব মানুষ ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদি সংক্রামণে আক্রান্ত হবে। তাদের হৃদরোগেও আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। অল্পবয়সীরা বিশেষভাবে আক্রান্ত হবে। কারণ তাদের ফুসফুস এখনো তৈরি হচ্ছে। এখন তাদের পরিষ্কার বাতাস দরকার। আর এই সময় দূষিত বায়ুর কারণে শুধু ফুসফুস নয় তাদের সার্বিক বৃদ্ধিও ব্যাহত হবে।

দুপুর বেলায় দিল্লির কেন্দ্রে দাঁড়ালে কয়েকহাত দূরের জিনিসও দেখা যায় না। সবকিছুর ওপর পড়ে রয়েছে ধূলার স্তর। যদিও এর মধ্যে দাঁড়িয়ে কাজ করতে হয় দিল্লির ট্রাফিক পুলিশের সদস্যদের। আর এই সমস্যা বছরের পর বছর ধরে চলছে। শহরটির মানুষ কষ্টে ভুগছে কিন্তু তাদের করারও কিছু নেই। প্রতি বছর শীতে ফসলের অবশিষ্ট অংশ আগুনে পোড়ানোর কারণে পুরো উত্তর ভারতে দূষণ বেড়ে যায়। দিল্লিতে তার সাথে যুক্ত হয় কয়লা আর গাড়ির কালো ধোঁয়া। এর কোনো সমাধান খুঁজে পায়নি কর্তৃপক্ষ তাই মানুষ এখন নিজের রক্ষা নিজেই করার চেষ্টা করছে। অনেকে মুখে কাপড় পেঁচিয়ে আছে আবার অনেকে ঘরের ভেতর নিজেদেরকে আটকে রাখছে। কারণ দিল্লির বাতাসে নিঃশ্বাস নেওয়াটাই এখন কষ্টের।

আনিস/

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ