প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

যেভাবে আফ্রিকার একসময়ের শক্তিশালী অর্থনীতিকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে গেলেন মুগাবে

রাকিন আবসার অর্নব :আফ্রিকার এক সময়ের খাবারের ভাণ্ডার ধরা হত জিম্বাবুয়েকে। কিন্তু শিল্প কারখানার অবব্যবস্থাপনা, খাদ্য সংকট, মুদ্রাস্ফীতি ও চরম দূর্নীতির মাধ্যমে এই অবস্থার পতন ঘটে।

প্রায় চার দশক ক্ষমতায় অধিষ্ট রবার্ট মুগাবেকেই জিম্বাবুয়ের অর্থনৈতিক ধসের জন্য দোষারোপ করা হয়।

জিম্বাবুয়ের রাজধানী হারারেতে ট্যাংক নামিয়ে ৯৩ বছর বয়সী রাষ্ট্রপতি রবার্ট মুগাবেকে গৃহবন্দী করে সামরিক অভ্যত্থান ঘটিয়ে জিম্বাবুয়ের রাষ্ট্র ক্ষমতার দখল নিয়েছে জিম্বাবুয়ের সেনাবাহিনী।

জিম্বাবুয়ের অর্থনৈতিক অবস্থার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস :

১৯৮০’এর দশকে : দীর্ঘদিন কারাগারে থাকার পর ১৯৮০ সালে নতুন গঠিত জিম্বাবুয়ে রাষ্ট্রের প্রথম প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন মুগাবে।

তাকে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করা হয়েছিল নেলসন ম্যান্ডেলার মত গুণাবলী এবং চিন্তাধারার কারণে।  অনেক দশক ব্রিটিশ শাসনের পরে অনেকেই মনে করেছিলেন মুগাবে একটি সফল প্রধানমন্ত্রী হবেন।

যুক্তরাজ্যের প্রতিষ্ঠান ‘সিল্ক ইনভেস্ট’ এর পোর্টফোলিও ব্যবস্থাপক ফুন্মি আকিনলুই মুগাবে সম্পর্কে বলেন, ‘মুগাবে সবসময় তার দেশের সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করতেন, অর্থনীতির ব্যাপারে নয়।’

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে উন্নয়নের জন্যে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায় মুগাবে। এই সময়ে রাষ্ট্রের শিল্প ও কৃষি পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধি পেতে থাকে। বছরব্যাপি চাষাবাদের অনুকূল পরিবেশ এবং ভালো মানের তামাকের জন্যে জিম্বাবুয়ে বিখ্যাত হয়ে যায়।

১৯৯০’এর দশকে : এই দশকে মুগাবের রাজনৈতিক গতিবেগ মন্থর হয়ে আসে। ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য তার বিরুদ্ধে নৃশংসতা ও ঘুষ নেওয়া বিষয়ে চরম সমালোচনার ঝড় ওঠে। কিন্তু তিনি যথারীতি এমন সব অভিযোগ নাকচ করে যান।

কৃষি খাতে মুগাবের চরম অব্যবস্থাপনা অর্থনৈতিক ধ্বসের এক অন্যতম কারণ ছিল।

সরকারের মূল লক্ষ্য ছিল শ্বেতাঙ্গ জমিদারদেরকে সরিয়ে সবক্ষেত্রে কৃষ্ণাঙ্গদেরকে সুযোগ করে দেওয়া। ১৯৯২ সালের ‘ভূমি অধিগ্রহণ আইন’ এর আওতায় শ্বেতাঙ্গদের ব্যক্তি মালিকানাধিন জমি অধিগ্রহন করে সরকারী আওতায় তা কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। এবং ১৯৯৩ সালে এই আইনের বিরোধীদেরকে দেশ থেকে বিতারিত করার হুমকি দেওয়া হয়।

২০০০’এর দশক : ভূমি অধিগ্রহণ আইনের আওতায় প্রথমবারের মত চার হাজার শ্বেতাঙ্গ কৃষকদেরকে জমি জবরদখল করে তাদেরকে জিম্বাবুয়ে থেকে বের করে দেওয়া হয়। এর ফলে রাতারাতি জিম্বাবুয়ের কৃষি খাতে ধ্বস নামে।

আকিনলুই পূর্বের কথা মনে করে বলেন, ‘তৎক্ষণাৎ জিম্বাবুয়েতে খাদ্য সংকট দেখা দেয়।’

সেসময় দেশটির ৬০ বছরের ইতিহাসে সব থেকে ভয়ংকর দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়।

দেশটির মধ্যে আমদানির হার বজার রাখার জন্যে সরকার মুদ্রা ছাপানো বাড়িয়ে দেয়।

এমন সঙ্কটের সময়ে প্রতি ২৪ ঘন্টায় পন্যের মূল্য দিগুণ হারে বাড়তে থাকে। ক্যটো ইন্সটিটিউট এর অর্থনীতিবিদদের জরিপ মতে, ২০০৮ সালে জিম্বুবায়ের মাসিক মুদ্রাস্ফীতি প্রায় ৭.৯ বিলিয়ন শতাংশে পৌছায়।

এসময়ে বেকারত্বের হার বেড়ে যায় এবং জিম্বাবুয়ের অর্থনীতি ১৪ শতাংশ কমে যায়।

জিম্বাবুয়ে ২০০৯ সালে তাদের মুদ্রা বর্জন করে। তারা লেনদেনের জন্যে আমেরিকান ডলার, দক্ষিণ আফ্রিকার র‍্যান্ড এবং আরও সাতটি দেশের মুদ্রার প্রচলনের অনুমতি দেয়।

২০১০ থেকে বর্তমান : জিম্বাবুয়ের ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার প্রতি কট্টর সমালোচনা করে দেশটির মধ্যকার পশ্চিমা মালিকানাধীন বিনিয়োগ আটক করে দেওয়ার হুমকি দেন মুগাবে।

এই হুমকির ফলে দেশটির মধ্যকার বিনিয়োগকারীর সংখ্যা কমে যায়।

এরপরেই কৃষি খামার থেকে দৃষ্টি সরিয়ে হীরার খনির ওপর দৃষ্টিপাত করেন মুগাবে। তার সরকার ব্যক্তিগতভাবে হীরা খননের কার্যকলাপ বন্ধ করার নির্দেশ দেন। তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল একটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের সাহায্য এই হীরা খনন করার।

বর্তমান : জিম্বাবুয়ে বর্তমানে এটির মূল রপ্তানি পণ্য অনান্য রাষ্ট্রের কাছে বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করতে না পারায় এটির অর্থনীতি এখনও সংগ্রাম করে চলছে।

আকিনলুই বলেন, জিম্বাবুয়ের এই পরিস্থিতি প্রকৃতপক্ষে হতাশাজনক কেননা এই দেশটির অপার সম্ভাবনা রয়েছে।

‘তাদের হীরা, কয়লা, তামা, লোহা আকরিক …. (আপনি) নাম বলুন, তাদের কাছে সকল সম্পদ রয়েছে,’ তিনি বলেন। ‘ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি সঠিক মানুষটি ক্ষমতায় আসার সঙ্গে সঙ্গে এসব কিছু দ্রুতই পরিবর্তন হয়ে যাবে।’ সূত্র :  সিএনএন

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ