প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জঙ্গি আব্দুল্লাহর ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিটের কল রেকর্ড
‘পুরাতনদের মধ্যে আমিই লাস্ট বাংলাদেশে’

ডেস্ক রিপোর্ট : পুরাতন যারা আছে তাদের একদম নাড়িনক্ষত্র জানি। জেএমবির তিন ভাগ। ভাই আপনারে একটু বলি, আমার ছেলেগুলো দাঁড়াইছে। আপনার সঙ্গে কথা হোক আর না হোক, আগামীতে দেখবেন মিয়ানমার নিয়ে কী খেলা হয়।’ এমন কথোপকথন দুর্ধর্ষ জঙ্গি মীর আকরামুল করিম আব্দুল্লাহ ওরফে কবুতর আব্দুল্লাহর।র্ যাবের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সঙ্গে ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিট ১৭ সেকেন্ডের ফোনালাপে দেশে জঙ্গিবাদের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা অজানা তথ্য উঠে আসে।

গত ৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর দারুস সালাম থানাধীন ‘কমলপ্রভা’ বাসায় জঙ্গিবিরোধী অভিযান শুরুর পরপরই অন্তত পাঁচবার আত্মসমর্পণের কথা বলে নিজের মেবাইল নম্বর থেকে উগ্রবাদের আদ্যোপান্ত নিয়ে কথা বলে আব্দুল্লাহ। যদিও অভিযান চলাকালেই দুই স্ত্রী, দুই শিশুসন্তান ও কবুতর লালন-পালনকারী দুই ব্যক্তিসহ আত্মঘাতী হয় সে। একটি গোয়েন্দা সংস্থা ওই কথোপকথন রেকর্ড করেছে।

কল রেকর্ড থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, ৫ সেপ্টেম্বর অভিযান শুরুর পর ভোর ৪টা ৫৯ মিনিট ৩৭ সেকেন্ডে প্রথম আব্দুল্লাহর সঙ্গে কথা বলেনর্ যাবের ওই কর্মকর্তা। এরপর আত্মঘাতী হওয়ার আগ পর্যন্ত মোট ২৪ বার কথা হয়েছে। সর্বশেষ কথা হয় পরদিন রাত ৮টা ৪৫ মিনিট ৩ সেকেন্ডে।

কল রেকর্ডে জানা যায়,র্ যাবের কর্মকর্তা জঙ্গি আব্দুল্লার উদ্দেশে বলছেন, ‘তো আমরা যা চাই, আপনার বাচ্চা আছে, ফ্যামিলি আছে। আপনি আত্মসমর্পণ করুন। তারপরে…।’ উত্তরে আব্দুল্লা বলে, ‘এটা কি সম্ভব ভাই, আপনিই বলেন?’ এরপরর্ যাব কর্মকর্তা বলেন, ‘অবশ্যই সম্ভব। আপনি আত্মসমর্পণ করেন। এরপর আপনার যে দর্শন আছে সেটা নিয়ে কথা বলব। আপনি আরও পড়াশোনা করেন।’ আব্দুল্লা বলে, ‘আপনার কি মনে হয় আমার পড়াশোনা কম। আপনারে একটা মূর্খ লোক মনে হয়। নিজের জীবন নিয়ে একবারও চিন্তা করেন নাই। আপনি যেটার জন্য আজকে এইভাবে খাটতেছেন, আমিও খাটতেছি সেটার জন্য। আসেন একসঙ্গে দু’জন মৃত্যুবরণ করি। পারবেন। আপনাকে একটা উপদেশ দেই ভাই। নিজের জীবন নিয়ে চিন্তা করেন।’

এক পর্যায়ে জঙ্গি আব্দুল্লাহ বলে, ‘এই পুরা বাড়িতে অন্তত ৫০০ লিটার পেট্রোল ঢালা আছে। পুরা বাড়ি নিয়ে ফেলেছি। এই বিল্ডিং, এই ফ্লোর পুরা উড়বে।’ এরপরর্ যাবের কর্মকর্তা বলেন, ‘আপনি ভাবছেন আপনি শহীদ হবেন। কিন্তু বাকি মানুষজনের কী হবে। আপনার মাধ্যমে যদি বাকি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইসলাম কি এভাবে কিছু করতে বলেছে। বোকারা অনেক বেশি সাহসী হয়।’ জবাবে আব্দুল্লা বলে, বুদ্ধিমান লোকেরাই সবসময় সাহসী হয়। ভাই শোনেন, যখন একটা ফাঁসির আসামিরে ফাঁসিতে নিয়ে যায়, তখন জল্লাদের সাথে সহজ ব্যবহার করে। তো আপনার সাথে সহজ ব্যবহার করব। আপনি বাসা থেকে যারে যেভাবে খুশি বের করেন, কিচ্ছু আঘাত করব না।’

এ সময় আব্দুল্লা জানায়, ২০০৪-০৫ সাল থেকে সে জিহাদি। বাংলাদেশে জঙ্গিদের সবচেয়ে বড় নেতা ছিল সারোয়ার জাহান মানিক।র্ যাব কর্মকর্তাকে সে আরও বলে, ‘যত বন্ধু-বান্ধব আছে সবাই চলে গেছে। একটা কথা মন দিয়ে শুনবেন। আমি হলাম নেতাদের নেতা। নেতাদের পরামর্শদাতা। আপনারা চিনতেন না, জানতেন না। আমার বাসা থেকে ৩৫ জন চলে গেছে। যারা ছিল বাংলাদেশের বাছা বাছা। তাদের আমির ও শূরা সদস্যদের সঙ্গে আমার সম্পর্ক ছিল।’

আব্দুল্লা আরও বলে, ‘মারজান শেষের দিকে আমাদের কাছে এসেছে। একটা বাচ্চা ছেলে। তো আমারে একদিন মানিক ভাই বলে আমির হতে। তারে বলেছি, দোস্ত জিনিসটা আমার জন্য না। এই জিনিস তোদের জন্য। মানিকের সঙ্গে যখন আমার দেখা হয়, তখন জেএমবি করতাম। শায়খ আবদুর রহমান তখন অনেক কাজ করত। তারপরে এলো সাইদুর রহমান। সাইদুরের পরে আসলো নজরুল। জেএমবির তখন দুই অংশ। জেলের ভেতর ও বাইরের অংশ। নজরুলের পরেই মানিক আমির হলো। নজরুল আমির থাকাকালে নিজেদের মধ্যে গণ্ডগোল হয়। পরে নজরুলকে সরিয়ে দেওয়া হলো। এরপর কিছু দিনের জন্য আবু ইউসুফ আমির হলো। আবু ইউসুফ বগুড়ার জেলে বন্দি।

আব্দুল্লার্ যাব কর্মকর্তাকে বলে, মানিকের শূরা সদস্য ছিল ফারদিন, রিপন, মারজান ও শফিক মাস্টার। শফিক মাস্টার এখন ভারতের জেলে বন্দি। পরে জেএমবিতে বায়াত নিল তামীম চৌধুরী ও তানভীর কাদরী।র্ যাব তাকে বলে, ‘টাঙ্গাইলের একটা লোককে পেয়েছি, যার কাছ থেকে আপনার তথ্য পেয়েছি।’ উত্তরে আব্দুল্লা বলে, ‘টাঙ্গাইলের কারও সাথে আমার পরিচয় নাই।’ উত্তরের্ যাব বলে, ‘মাসুম নামে কাউকে চিনেন?’ আব্দুল্লা বলে, ‘এবার বুঝতে পারতাছি। ডন ভাই আপনাদের লোক।’

র্যাবের কর্মকর্তা আব্দুল্লাকে বলেন, ‘আপনার বাচ্চা আছে, দুইটা বাচ্চা।’ উত্তরে জঙ্গি বলে, আমার একটা বাচ্চার নাম ওসামা, আরেকটা ওমর। দুই বউয়ের ঘরে দুইটা। ওসামা বিন হইলেই তো আপনি মারবেন।’ উত্তরের্ যাব বলে, ‘নামের জন্য আমরা কাউকে হেনস্থা করি নাই।’ আব্দুল্লা বলে, কাউকে এভাবে খোলামেলা আলোচনা করতে শুনেছেন। কেন আপনার সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করেছি শোনেন- আমার আগে যারা শহীদ হয়েছে তাদের বলতাম যুদ্ধ হলো মৃত্যু। যদি বড় অ্যাটাক করতে না পারবি তাহলে দাম নেই। সূত্র-সমকাল

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ