প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

চট্টগ্রাম বন্দরে ভুয়া দলিলে খালাসকালে দেড় কোটি টাকার বন্ডের কাপড় জব্দ

নুরুল আমিন হাসান: চট্টগ্রাম বন্দরে বন্ডের আওতায় আনীত অবৈধভাবে ভূয়া দলিলে খালাসকালে দেড় কোটি টাকা মূল্যের একটি কাপড়ের চালান জব্দ করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। জব্দকালে কায়িক পরীক্ষায় ৩৬ টন উন্নত মানের কাপড় পাওয়া যায়। উক্ত চালানটিতে ৪৯৯ রোল পলিয়েস্টার কাপড় ছিল।

বিষয়টি নিশ্চিত করে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহা-পরিচালক (ডিজি) ড. মঈনুল খান বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আমাদের সময় ডটকমকে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চট্রগ্রাম বন্দরে বন্ডের আওতায় আনীত অবৈধভাবে ভূয়া দলিলে খালাসকালে দেড় কোটি টাকা মূল্যের একটি কাপড়ের চালান জব্দ করা হয়েছে।

উক্ত চালানটি চট্রগ্রামের চাট্টেসহারীর গাজী শাহলেনের এ্যাপারেল অপশন (পিভিটি) লি. নামক একটি প্রতিষ্ঠান আমদানি করেছিল।আমদানিকৃত পণ্যচালানটি খালাসের জন্য চট্রগ্রামের ডানিয়ালপাড়া প্যারামেক্স ইন্টারন্যাশনাল লি. সিএন্ডএফ এজেন্টের মাধ্যমে ভূয়া কাগজপত্র দিয়ে শুল্কায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্নের মাধ্যমে পণ্যচালানটি খালাস গ্রহণের চেষ্টা করে। যার বিলঅবএন্ট্রি নং-সি-১৩৯৭৪৫৬ (তাং- ৮ নভেম্বর ২০১৭)। উক্ত চালানটি চীন থেকে আনা হয়। ইউসিবিএল ব্যাংকের এলসি ও অন্যান্য কাগজ দিয়ে খালাসের প্রচেষ্টা নেয়া হয়।

তিনি আরো জানান, পরবর্তীতে আমদানিকারকের মনোনীত সিএন্ডএফ এজেন্ট কর্তৃক কায়িক পরীক্ষার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উক্ত পণ্যচালানটি চট্টগ্রাম বন্দরে বৃহস্পতিবার ১০০% কায়িক পরীক্ষা করে শুল্ক গোয়েন্দা। আমদানিকারকের মনোনীত সিএন্ডএফ এজেন্ট কর্তৃক দাখিলকৃত দালিলাদি যাচাই করে শুল্ক গোয়েন্দার দল। যাচাইয়ে দেখা যায় যে, দাখিলকৃত ব্যাংক প্রত্যায়িত কমার্শিয়াল ইনভয়েস, প্যাকিং লিস্ট, প্রত্যয়নপত্র (নং-ইউসিবি/জেবিআর/এনওসি/২০১৭/৩২৬, তারিখ: ১২/১০/২০১৭) সেলস কন্ট্রাক্ট জাল ভূয়া পাওয়া যায়।

জাল জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংক কর্মকর্তার স্বাক্ষর নকল করে ও ভূয়া দলিলাদি সৃজনের মাধ্যমে উক্ত প্রতিষ্ঠানটি বন্ডের আওতায় পণ্য এনেছে। পরে এটি দি কাস্টমস অ্যাক্ট, ১৯৬৯ এর সেকশন-৩২ অনুযায়ি দন্ডযোগ্য মিথ্যা ঘোষণার অপরাধে জব্দ করা হয়। উক্ত সেলস কন্ট্রাক্ট ভূয়া হওয়ায় পণ্যচালানটিতে শুল্ক ফাঁকির ঝুঁকি ছিল। যা খালাস হলে খোলা বাজারে বিক্রয় হতো বলেও তিনি জানান।

উল্লেখ্য আমদানিকৃত কাপড়ে শুল্ক করাদির হার ৮৯.৪২% সহ বাজার মূল্য প্রায় ১.৫ কোটি টাকা।পণ্যচালানটির প্রযোজ্য শুল্ক-করাদি আদায়, ন্যায় নির্ণয়নসহ দলিলাদি জাল-জালিয়াতির জন্য অভিযুক্ত আমদানিকারক এবং সিএন্ডএফ এজেন্টসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও ডিজি জানান।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত