প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

টুকরো হাসির গল্পে প্রিয় নবী সা.

মুহাম্মদ আতাউর রহমান মারুফ : বিশ্ব জগতের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হযরত মুহাম্মদ সা.। যিনি পৃথিবীর বুকে এসে দূর করেছিলেন সকল অনাচার কদাচার। প্রতিষ্ঠা করেছিলেন একটি সুন্দর সুখময় সমাজ। ধনী গরীবের মাঝের ভেদাভেদকে দূর করেছিলেন। ছোট বড় সবাইকে নিয়ে একটি সোনার সমাজ গড়েছিলেন। তিনি ছিলেন সকল গুণের আধার। তাঁর অনুপম চরিত্র দ্বারা জগদ্বাসীকে কেবল ঈমান আর আমলই শেখাননি ; বরং হাসি খুশিভাবে অপরকে আনন্দ দেওয়ার শিক্ষাও তিনি দিয়েছেন। পরিস্থিতি সাপেক্ষে সাহাবাদের সাথে রসাত্মক কথাবার্তা বলে সবাইকে আনন্দ দিয়েছেন। এরকমের বহু টুকরো ঘটনা হাদীসের মাঝে বর্ণিত রয়েছে।

একদিন এক বুড়িকে দেখে রাসূল সা. বললেন কোন বুড়ি তো জান্নাতে যাবেনা! এ কথা শুনে বুড়ি কাঁদতে লাগলো। তখন রাসূল সা.বললেন আরে কেঁদনা, তুমি যখন জান্নাতে যাবে তখন তো আর বুড়ি থাকবেনা। ইহা শুনে বুড়ি তো মহাখুশি! এভাবেই রাসূল সা. সময়ে সময় হাসি-ঠাট্টা করতেন। সাথীদের আনন্দ দিতেন। হযরত আনাছ রা. বলেন যাহার ইবনে হারাম নামে এক বেদুইন ছিলো। সে ব্যবসার কাজে মাঝে মধ্যে মদীনায় আসতো। আর হুজুর সা. এর জন্য ঘি বা পনিরের হাদিয়া নিয়ে আসতো। রাসূল সা. তাকে অনেক মহাব্বত করতেন। সে ছিল কৃষ্ণাঙ্গ। তার সম্পর্কে হুজুর সা. বলতেন যাহার আমাদের বেদুইন প্রতিনিধি আর আমরা তার শহুরে বন্ধু । একবার সে মরুভ‚মি থেকে মদীনায় আসল। এসে রাসূল সা. কে পেল না। অবশেষে সে বাজারে চলে গেলো সাথে আনা জিনিসপত্তর বিক্রি করার জন্য। রাসূল সা. পরবর্তীতে যাহারের আগমনের সংবাদ শুনে বাজারে চলে গেলেন। দূর থেকে তিনি যাহারকে দেখতে পেলেন।

রাসূল সা.গিয়ে সরাসরি তার পিছনের দিক হতে ঝড়িয়ে ধরলেন। যাহার টানাটানি শুরু করল আর বলতে লাগল কে আমাকে এভাবে ধরেছো? ছেড়ে দাও বলছি । এভাবে কিছুক্ষণ চলে যাওয়ার পর যখন সে আঁড়চোখে তাকিয়ে দেখতে পেলো প্রিয় নবী সা. তাকে জড়িয়ে ধরে আছেন তখন সে খুশিতে নিজের পিঠ রাসূলের সাথে আরও ভালভাবে লেপ্টে দিতে লাগল। রাসূল সা. হাসতে হাসতে বলতে লাগলেন আমার এই গোলামটিকে কে ক্রয় করবে ? শুনে যাহার বলল আল্লাহর কসম আপনি আমার দ্বারা অধিক মূল্য পাবেন না। রাসূল সা. বললেন দুনিয়াতে তোমার মূল্য না থাকলেও আল্লাহর নিকট অনেক মূল্যবান তুমি। এভাবেই রাসূল সা. সাধারণ মানুষদের সাথে ছোটছোট হাসি-ঠাট্রা করতেন। তাদের আনন্দ দিতেন। আর অবশ্যই তা হতো বৈধ পন্থায়। তাতে কোন অতিরঞ্জিত কিছু থাকতো না। বরং থাকত পরম ভালবাসার শিক্ষা। থাকতো মানুষকে একটুতে আপন করার এক জাদুকরী দিক্ষা। মহান আল্লাহ আমাদেরকে নববী আদর্শের ভিত্তিতে জীবনের প্রতিটা ক্ষেত্রে পরিচালিত হওয়ার তৌফিক দান করুন। আমিন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত