প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রাখাইনে গণধর্ষণে সেনাবাহিনী দায়ী : হিউম্যান রাইটস ওয়াচ

আবু সাইদ: রোহিঙ্গা নারীদের ওপর ধর্ষণকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের জন্য মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে অভিযুক্ত করেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। বৃহস্পতিবার সংস্থাটির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত তিনমাস ধরে ওই অঞ্চলে জাতিগত নিধনের উদ্দেশে অভিযানের নামে নারী এবং কিশোরীদের ধর্ষণ, সাধারণ মানুষকে নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করেছে মিয়ানমার সেনারা।

এ সপ্তাহের শুরুতে রাখাইনে সেনাবাহিনীর ধর্ষণ ও নিপীড়নের বিষয়ে নিউইয়র্ক ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থাটির এক রিপোর্টে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যাপক ধর্ষণের অভিযোগ এনেছেন যুদ্ধ-সংঘাতে যৌন সহিংসতা বিষয়ে জাতিসংঘের বিশেষ দূত প্রমিলা প্যাটেন। তিনি বলেন, মিয়ানমারের সেনাদের নির্দেশে, পরিকল্পনায় এবং তাদের সক্রিয় অবস্থানেই সেখানে যৌন সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে।

মিয়ানমার সেনাবাহিনী সোমবার একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে রাখাইনে সব ধরনের হত্যা, ধর্ষণ এবং নিপীড়নের অভিযোগ অস্বীকার করেছে সেনাবাহিনী।

গত ২৫ আগস্ট বেশ কিছু পুলিশ পোস্টে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাখাইনে অভিযান শুরু করে সেনাবাহিনী। অভিযানের নামে সেনাবাহিনীর অত্যাচার, নিপীড়ন, ধর্ষণের ঘটনায় সেখান থেকে পালাতে বাধ্য হয়েছে রোহিঙ্গারা।

কয়েক মাসে ৬ লাখের বেশি রোহিঙ্গা মুসলিম পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

এর আগে রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনী জাতিগত নিধন চালাচ্ছে বলে উল্লেখ করেছে জাতিসংঘ। কিন্তু এ ধরনের অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে মিয়ানমার সরকার।

বাংলাদেশে পালিয়ে আসা ৫২ জন নারী এবং কিশোরীর সঙ্গে কথা বলেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। এদের মধ্যে ২৯ জনই জানিয়েছেন, সেনারা তাদের ধর্ষণ করেছে। এদের মধ্যে একজন ছাড়া বাকি সবাইকে গণধর্ষণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থাটি।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের নারী অধিকার বিষয়ক গবেষক ও এই প্রতিবেদনের লেখক স্কাইয়ি হুইলার এক বিবৃতিতে বলেন, “রোহিঙ্গাদের নির্মূল করতে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর অন্যতম বড় অস্ত্র ছিল ধর্ষণ। তাদের বর্বরতায় অসংখ্য নারী ক্ষতিগ্রস্ত ও ভয়াবহ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছেন।”

যে সেনাকর্মকর্তাদের নির্দেশে ও অংশগ্রহণে এই বর্বরতা চলেছে তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা ও মিয়ানমারের ওপর সামরিক অবরোধ আরোপের জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।সূত্র: রয়টার্স, বিবিসি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত