প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রোহিঙ্গা ইস্যু: আড়াই মাসে ৩ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিক ঘুরে গেছেন কক্সবাজারে

ফারমিনা তাসলিম: রাজধানী ঢাকার গুলশানে হলি আর্টিজান হামলার পর দেশে বিদেশি নাগরিক আসা কমে গেলেও সে অবস্থা অনেকটা কাটিয়ে উঠেছে। শুধু রোহিঙ্গা ইস্যুতেই গত আড়াই মাসে বিভিন্ন দেশের তিন হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিক ঘুরে গেছেন কক্সবাজারে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে কক্সবাজারে অবস্থান করছেন সাড়ে আটশোরও বেশি বিদেশি নাগরিক।

কক্সবাজার পুলিশ সুপার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৮শ ৫৭ জন বিদেশি নাগরিক কক্সবাজারের বিভিন্ন উপজেলায় অবস্থান করছেন। এদের মধ্যে কক্সবাজার সদরে রয়েছেন ৪শ ২৯ জন। এছাড়া মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়িতে ১০৩ জন, চকরিয়ার মালুমঘাটে ৪৩ জন এবং বিদেশি বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার আরো ২শ ৮২ জন টেকনাফ ও উখিয়া উপজেলায় রোহিঙ্গাদের নিয়ে কাজ করছেন।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার ড. এ কে এম ইকবাল হোসেন বলেন, ‘প্রত্যেকটা হোটেলের সিকিউরিটি ম্যানেজারের সাথে তারা কথা বলেছেন এবং তাদেরকে বলেছেন সবাইকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেয়ার জন্য। বিদেশিদের নিরাপত্তার জন্য যা যা করনীয় তারা তা করে যাচ্ছেন।’

২০১৬ সালের পহেলা জুলাই রাজধানীর ঢাকার গুলশানে হোলি আর্টিজানে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার পর বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশে সফরের ক্ষেত্রে তাদের নাগরিকদের প্রতি বিশেষ সতর্কতা জারি করে। এতে বাংলাদেশে বিদেশিদের আসার পরিমাণও অনেকটা কমে যায়। তবে রোহিঙ্গা ইস্যু সেই অচলাবস্থা কাটিয়ে দিয়েছে। গত ২৫ আগস্টের পর থেকে তিন হাজারের বেশি বিদেশী বাংলাদেশে এসেছেন। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ১২০ জন বিদেশী কক্সবাজার আসছেন বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (টেকনাফ-উখিয়া) চাইলাউ মার্মা বলেন, ‘কর্মরত বিভিন্ন সংস্থার যে সকল বিদেশি কর্মীরা টেকনাফ, উখিয়া ও বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছে সেসব এলাকায় তাদের বাসাগুলোকে চিহ্নিত করে তাদের নিরাপত্তার জন্য সেখানে টহল জোরদার করেছেন।’

রোহিঙ্গাদের সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউএনএইচসিআর, আইওএম, রেডক্রস, সেভ দ্যা চিলড্রেন, ইউএস এইড, ইউকে এইড, কারিতাস ইন্টারন্যাশনালের পাশাপাশি বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের কর্মীরাও অবস্থান করছেন এখানে। দিনভর বিভিন্ন স্থানে থাকলেও রাতে এসব বিদেশী থাকছেন কক্সবাজার সদরে। তাই হোটেল-মোটেলগুলোকে নিজেদের নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।

কক্সবাজারের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট লুৎফর রহমান আজাদ বলেন, ‘হোটেল মোটেলগুলোতে তাদেরকে নিজস্ব ব্যবস্থাপনা নিরাপত্তা নেয়ার জন্য বলেছেন এবং পাশাপাশি পুলিশ ও গোয়েন্দা বাহিনী তারা সার্বক্ষণিকভাবে খোঁজখবর নিচ্ছেন।’

তুরস্কের ফার্স্টলেডি এবং জর্ডানের রানীও উখিয়ার শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করে গেছেন। সে সাথে প্রায়শ জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তারাও আসছেন কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে। ।

রাজধানী ঢাকার হলি আর্টিজানের ঘটনার পর যেসব দেশ তাদের বিদেশি নাগরিকদের জন্য এদেশে সতর্কতা জারি করেছিল সেসব দেশের নাগরিকরা এখন অবলীলায় ঘুরে বেড়াচ্ছে কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ার বিস্তীর্ণ জনপদে। তাদের কর্মব্যস্ততায় কাটছে আশ্রয় শিবিরগুলোতে।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অন্য রকম বাড়তি নিরাপত্তা ছাড়ায় তারা ঘুরে বেড়াতে পারছেন। এমনকি এসব বিদেশি নাগরিকদের জন্য কোন হুমকিও নেই।

আনিস/

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত