প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

২ মাসে ৩৩২ মিলিয়ন কলড্রপে মাত্র ১০ ভাগ ক্ষতিপূরণ পেয়েছে মোবাইল ফোন গ্রাহক

শামীম জাহাঙ্গীর : গত আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে কল ৩৩২.২২ মিলিয়ন কলড্রপ হলেও মোবাইল ফোন গ্রাহকরা এধরনের নেটওয়ার্কিং জটিলতায় মাত্র ১০ ভাগ ক্ষতিপূরণ পেয়েছে। বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন ও ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এব্যাপারে তেমন কোনো সুরাহা করতে না পারায় এবং পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ না পেয়ে গ্রাহকরা হতাশ হয়ে পড়েছে। লাখ লাখ প্রি-পেইড গ্রাহক মোবাইল ফোন ব্যবহার করার সময় ১০ সেকেন্ডের পালস জটিলতায় আটকে যান এবং পোস্ট পেইড গ্রাহকরাও এক সেকেন্ড পালস থেকে বঞ্চিত হন। এধরনের অভিযোগ দায়ের করেও গ্রাহকরা কোনো উপকার পাচ্ছেন না। দুর্বল নেটওয়ার্কের কারণেই অতিমাত্রায় কলড্রপ ঘটছে। বিটিআরসি’র দেয়া তথ্যে গত আগস্টে ১৪৫.২৯ ও সেপ্টেম্বরে ১৭৬.৬৯ মিলিয়নেরও বেশি কলড্রপ গ্রাহকদের ভোগান্তিতে ফেলেছে।  দি সান

কলড্রপের তুলনায় বেসরকারি মোবাইল ফোন প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ ফোন, রবি ও বাংলালিংক মাত্র ১০ ভাগ ক্ষতিপূরণ গ্রাহকদের দিলেও সরকারি মোবাইল ফোন প্রতিষ্ঠান টেলিটক কলড্রপ নিয়ে কোনো তথ্যই জমা দেয়নি। ৬৩.৮৮২ মিলিয়ন গ্রাহককে মোবাইল ফোন সেবা দিতে গ্রামীণ ফোন সবচেয়ে বেশে কলড্রপের ফাঁদে ফেলছে গ্রাহকদের। আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে গ্রামীণ’এর কলডপ্রের সংখ্যা ছিল যথাক্রমে সর্বোচ্চ ৬৭.২২ ও সেপ্টেম্বরে ৬৯.১৭ মিলিয়ন। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি আগস্টে ৫.৯১ ও সেপ্টেম্বরে ৬.১৫ মিলিয়ন গ্রাহককে কলড্রপের ক্ষতিপূরণ দিয়েছে।

একই সময়ে রবির গ্রাহকরা ৩৯.৩২ ও ৫৭.১৯ মিলিয়ন কলড্রপের বিপরীতে ক্ষতিপূরণ দিয়েছে ৩.৪০ ও ৪.৭৯ মিলিয়নের। রবির গ্রাহক হচ্ছে ৪১. ২১১ মিলিয়ন।

৩২.৩৭৯ মিলিয়ন গ্রাহক রয়েছে বাংলালিঙ্ক’এর। তারা ওই দুই মাসে ৩৩.৭৩ ও ৩৪.৭০ মিলিয়ন কলড্রপের বিপরীতে ক্ষতিপূরণ দিয়েছে ৭.৬২ ও ৬.১৬ মিলিয়ন কলড্রপের।

টেলিটকের গ্রাহকরা একই সময়ে ৫.০১ ও ৫.১০ মিলিয়ন কলড্রপের শিকার হলেও কোনো ক্ষতিপূরণ পাননি। প্রতি দুই মাস অন্তর কলড্রপের এ হিসাব বিটিআরসি ও ডাক এবং টেলিযোগাযোগ বিভাগ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। বাংলালিঙ্কের একজন গ্রাহক মো: আফজাল জানান, মোবাইল ফোন ব্যবহারের অনেক সময় কলড্রপ খেয়ে ফেলে কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না কেন তা ভেবে আমি বিস্মিত। রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকার আরেক গ্রামীণ ফোনের গ্রাহক ইয়াসমিন জানান, প্রায়শঃ আমার কলড্রপের বিড়ম্বনা ভোগ করতে হয়। ১০ মিনিট ধরে কথা বলতেই এ ধরনের করড্রপ হয় বেশি। শান্তিনগরে রবির গ্রাহক মাজহারুল জানান কলড্রপের যন্ত্রনায় অপারেটর পরিবর্তন করেছি।

মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশ’এর সাধারণ সম্পাদক টিআইএম নুরুল কবির জানান, কলড্রপ জটিলতা নিরসনে মোবাইল ফোন অপারেটররা কঠিন পরিশ্রম করে যাচ্ছে। সীমিত স্পেকটার্ম ও অপটিক্যাল ফাইবারের জটিলতায় এধরনের কলড্রপ জটিলতা নিরসন করা যাচ্ছে না। ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের কাছ থেকে কলড্রপ নিরসনে প্রযুক্তিগত সহায়তা ও পরামর্শ নেয়া হচ্ছে। অনুবাদ : রাশিদ রিয়াজ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ