প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ইয়াবা দিয়ে মামলার ভয় দেখিয়ে ৭৫ হাজার টাকা আদায় পুলিশের

নুরুল আমিন হাসান, গাজীপুর থেকে : ‘ঘর বাড়ি চেক করে টাকার বান্ডেল পাওয়ার পড়ই কিছুই বুইঝা উঠার আগেই আমারে হ্যান্ডকাপ লাগাইছে। কাউকে ডাকবারও দেই না। লাগাইয়া থানায় লইয়া গেছে।’

থানায় নিয়া দারোগা রেজা নুর বলে, “আমি নাকি বড়ির (ইয়াবা) ব্যবসা করি। আমি বড়ি বেইচ্চা টাকা থুইয়া দিছি। এই কারণে সে ওই ৫০ হাজার টাকার বান্ডেল লইয়া গেছে। তখন দারোগা আরো ২৫ হাজার টাকা দিতে বলে। আর নাইলে, ‘আমারে ৩শ বড়ি (ইয়াবা) দিয়া চালান দিব বলে খুব ডর – ভয় দেখাইছে।’ পরে আমার জ্বি ও মাইয়ার জামাই আছিল। তারা ছোট ভাই বউ ব্যাংক থেকে টাকা উঠাইছে ওই খান থেকে ২০ হাজার টাকা আনছে ও চাচাত ভাই ৫ হাজার টাকা দিছে। যা ওই দারোগাকে দেওয়া হইছে।”

এমনি ভাবে আমাদের সময় ডটকমকে বলছিলেন গাজীপুর জেলার শ্রীপুর থানাধীন বরমী ছিটাপাড়া গ্রামের খেটে খাওয়া সহজ সরল মানুষ নুরুল আমিন। তিনি ওই এলাকার মৃত লালু মিয়ার ছেলে।

নুরুল আমিন বলেন, ‘টাকা পয়সার সমস্যা বিদায় রেহান (বর্গা) রাখা ক্ষেত থেকে টাকা উঠাইছি। এদিকে পাশের গ্রামের এক ভাইগ্নার আম্মা অনেক দিন ধইরা টাকা পয়সা চাচ্ছে। তখন আমি বলছি, এক জায়গা থেকে টাকা পামু, যদি পাই তাহলে দিমু। পরে টাকা তুলার পর বৃহস্পতিবার বিকেলেই ৮ হাজার টাকা দিছি। প্রথমে ৫ হাজার টাকা দিছি। পরে এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী আলী আইসা কইয়াছে, তিন হাজার টাকা দেন, আমি এক ঘন্টা দিয়া লাইতেছি। তখন বলি, ঠিক আছে, টাকা আছে নেন। আর ঘরে মধ্যে টাকা আছে তা শুধু আলীই জানত।

পরে শুক্রবার ভোর রাতে আলী রেজাউল দারোগা নিয়া আইয়া কইতায়াছে, ইনফরমেশন আছে। বাড়িতে বড়ি (ইয়াবা) আছে। উত্তরে আমি বলি, যদি বড়ি থাকে তাহলে আপনারা আমার বাড়ি ঘর চেক করেব। যদি পান আমারে লইয়া যাইবেন। তারপর সারা ঘর তল্লাশি করে কিছু না পাওয়ার পর ড্রয়ারের ভেতর ৫০ হাজার টাকার বান্ডেল দেখেই আমারে হান্ডকাফ লাগাইয়া থানায় লইয়া যায়। পরে ৩শ পিছ বড়ি দিয়া চালান দেওয়ার ডর ভয় দেখাইয়া আরো ২৫ হাজার টাকা নিয়া যায়। টাকা নেওয়ার পর শুক্রবার সন্ধ্যায় আমায় ছেড়ে দেয় বলে জানান তিনি।

এসব অভিযোগের বিষয়ে শ্রীপুর থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) রেজা নুর তরফদার আমাদের সময় ডটকমকে বলেন, ” নুরুল আমিনের বাসা থেকে ইয়ানা পাইছি , জিপার পাইছি অনেক। তার কাছ থেকে ৩০ থেকে ৪০ পিছের বেশি ইয়াবা পাইছি। তাই তাকে আটক করছি।”

তাহলে ছেড়ে দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আপনে আসেন। সাক্ষাৎতে কথা কমুনে। মোবাইলে সব কথা বলা তো ঠিক না।’

টাকা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “সে নিরীহ মানুষ, তাই ছেড়ে দিয়েছ। কোন টাকা পয়সা লেনদেন হয় নাই”। পুলিশের এই কর্মকর্তার সাথে কথোপকথনের সকল রেকর্ড আমাদের সময় ডটকমে রয়েছে।

এদিকে সব ঘটনায় শ্রীপুর থানার ওসি মো. আসাদুজ্জামান আমাদের সময় ডটকমকে বলেন, নুরুল আমিনের কোন অভিযোগ থাকলে আমার কাছে পাঠান। আমি দেখব। বিষয়টি আমার নলেজে নাই। অপরদিকে গাজীপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. হারুনুর রশিদ বলেন, আটকের বিষয়ে কোন অভিযোগ থাকলে থানায় কমপ্লেইন দেন। আমরা বিষয়টি দেখব।

এদিকে পুলিশ সদরদপ্তরের সহকারী মহা-পরিদর্শক (এআইজি মিডিয়া) সোহেলী ফেরদৌস আমাদের সময় ডটকমকে বলেন, কেউ কোন অপরাধে জড়িয়ে থাকলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনে মামলা দেওয়া হবে। আমল যোগ্য মামলা হলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আর কোথাও যদি তল্লাশি করে কিছু পাওয়া যায়, স্বাক্ষীদের উপস্থিতিতে জব্দ তালিকা করা হবে। এতে স্বাক্ষীদের সাক্ষ্য থাকবে। এই ক্ষেত্রে তা করা হয়েছে কি না তা আমার জানা নেই।

আটকের পর টাকা আদায়ের বিষয়ে তিনি জানান,  ভুক্তভোগী যে দাবি করছেন তার কাছে ৫০ হাজার টাকা ছিল তার সত্যতা কি কি আছে তা দেখতে হবে। কারণ একটা বাসায় ৫০ হাজার টাকা কেন রাখবে? আমার বাসাতেই তো ৫০ হাজার টাকা ক্যাশ রাখি না। এটিও একটি ব্যাপার। কারণ, বর্তমান সময়ে এটিএমে টাকা পয়সা লেনদেন কমফোর্টেবল। সেখানে বাসায় কেন টাকা রাখবে? তাই এ বিষয়ে আমার কিছু জানান নেই। যদি কিছু জানার থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট থানায় দায়িত্ববান অফিসারের সাথে কথা বলে জানাতে হবে।

এছাড়াও যে ভিকিটিম  তার দাবির বিষয়ে তদন্ত করে বলা যাবে। কেউ যদি অভিযোগ করে তাহলে আমরা তদন্ত করে দেখব বলেও তিনি জানান। সম্পাদনা: মোহাম্মদ আবদুল্লাহ মজুমদার

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত