প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সঙ্কটে চামড়া শিল্প

আরিফুর রহামান তুহিন: সংকটে চামড়া শিল্প। নানা সমস্যার বেড়াজালে চরম হুমকিতে পড়েছে শিল্পখাতটি। অথচ এটি রপ্তানি আয়ের দ্বিতীয় উৎস। ব্যবসায়িক জটিলতার কারণে ভীষণ হতাশ এখাতের ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে অনেক বড় বড় অর্ডার বাতিল হয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ ট্যানরি অ্যাসোসিয়েশনের এক নেতা বলেন, চামড়া শিল্পের খারাপ অবস্থার জন্য বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) দায়ি। তাদের অবহেলা ও সেচ্ছাচারিতার কারণে আমরা যথাসময়ে সাভারের চামড়া শিল্প নগরীতে যেতে পারিনি। এছাড়া, হাজারিবাগে থাকা অবস্থায় সাভারে যাওয়ার বিষয়ে অনিশ্চত থাকার কারণে হংকং ফেয়ারে বড় একটা অর্ডার হাতছাড়া হয়েছে। ট্যানারি শিল্প নিয়ে বিসিক এবং কারখানা মালিকদের টানাপোড়নের কারণে ক্রেতাদের মনে বিরুপ প্রভাব পড়ায় অনেকেই অন্য দেশ থেকে পণ্য কিনছে। এছাড়া হেমায়েতপুরে সকল কারখানার জন্য এখনো জমি বরাদ্ধ দেয়া সম্ভব হয়নি।

আবার অনেক কারখান এখনো উৎপাদনে যেতে পারেনি। ফলে উৎপদনও কম হয়েছে। এর প্রভাব সামগ্রিক রপ্তানিতে পড়েছে। তিনি আরা বলেন, সরকার যদি এখনই এই বিষয়ে পদক্ষেপ না নেয় তাহলে সামনে এই খাতের রপ্তানিতে আরো বিপর্যয় ঘটবে। এতে শুধু ব্যবসায়ীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেনা, ২০২১ সালে এই খাত থেকে ৫ বিলিয়ন আয়ের যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে তা অর্জনও বাধাগ্রস্ত হবে।

আরেক ব্যবসায়ী বলেন, সাভারের চামড়া শিল্প নগরী তখনই সার্থক হবে যখন এটা ব্যবসাবান্ধব হবে। শুধু বিসিক করলেই সেটা ব্যবসাবান্ধব হয় না। সাভারে শ্রমিকদের থাকার জন্য জমির ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া, সকল মালিকদের দ্রুত জমি প্রদান, প্রয়োজনীয় সকল সুবিধা সরবরাহ, ব্যাংক ঋণ সহজলভ্য করতে হবে। একইসাথে সিটিপি প্লানগুলোকে দ্রুত কার্যকর করতে হবে।

বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ণ ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে এই শিল্প লক্ষ্যমাত্র অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে। একইসাথে খাতটি গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় .০২ শতাংশ ঋণাত্বক প্রবৃদ্ধি করেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে ৪২ কোটি ৮৪ লাখ ডলারের চামড়া ও চামড়া পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এর মধ্যে আছে ৫ কোটি ৯৩ লাখ ডলারের চামড়া, ১৭ কোটি ডলারের চামড়া পণ্য ও ২০ কোটি ডলারের চামড়ার জুতা।

ইপিবি জানায়, গত অর্থবছরে এই খাতে মোট রপ্তানি আয় হয়েছিলো ১২৩ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার বা প্রায় ৯ হাজার ৯৭৪ কোটি টাকা যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ দশমিক ১৫ শতাংশ বেশি। আগের অর্থবছরের তুলনায় ৬ দশমিক ২৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছিলো। চলতি অর্থবছরে এই খাতের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩৮ কোটি মার্কিন ডলার। ২০২১ সালে এই খাতের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার।

এ বিষয়ে চামড়া ব্যবসায়ী ও রপ্তানি খাতে জড়িতদের সাথে যোগাযোগ করলে কেউ সরাসরি মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

এদিকে, চামড়া শিল্পের বিকাশ ও উন্নয়নের লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে ৩দিন ব্যাপী চামড়া শিল্প মেলা ‘লেদারটেক বাংলাদেশ ২০১৭’ বাণিজ্যমন্ত্রী তোফয়েল আহমেদ উক্ত মেলার উদ্বোধন করবেন। মেলায় বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, চীনসহ বিশ্বের অনেক দেশের প্রতিনিধি অংশগ্রহন করবে।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ