প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সরকারি ৯টি কারখানায় লোকসান প্রায় ৭০০ কোটি টাকা

হ্যাপী আক্তার: গত অর্থবছরে সরকারি ৯টি কারখানায় লোকসান হয়েছে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে শাহ জালাল ইউরিয়া ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি এবং চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরিতেই লোকসান প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। এছাড়া মোটা অংকের লোকসানের তালিকায় রয়েছে কর্ণফুলী পেপার মিল, ছাতক সিমেন্ট কল ও ওসমানিয়া গ্লাস সিট ফ্যাক্টরিসহ রয়েছে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজেটের টাকা থেকে অদক্ষ সব প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভর্তুকি দেয়া হলে ভবিষ্যতে ঝুঁকিতে পড়তে পারে বাংলাদেশের আর্থিক খাত। তাই এখনি আমূল সংস্কার করার পরামর্শ বিশেজ্ঞদের। সূত্র: নিউজ টুয়েন্টিফোর

ভারত ও বাংলাদেশকে একসাথে যুক্ত করে চলছে সিমেন্ট উৎপাদন। ১৯৩৭ সালে স্থাপিত হওয়ার সময় ভৌগলিক বাধা কিংবা আলাদা দেশ হিসেবে বিনিয়োগ মাইনাসের প্রশ্ন উঠেনি ছাতক সিমেন্ট কারখানার ক্ষেত্রে। তবে ৮০ বছর পর এটি বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সম্পদ হিসেবে থাকলেও, ছাতক সিমেন্ট কারখানার ভার বহন করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে নানা প্রকল্পে। কারণ হচ্ছে যন্ত্রপাতির সক্ষমতা কমে যাওয়া, অব্যবস্থাপনা আর অনিয়মের কারণে মোটা লোকসান গুণতে হচ্ছে প্রতি বছর সরকারকে। সব শেষ ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে লোকসান হয়েছে ৪০ কোটি টাকা।

শুধু ছাতক সিমেন্ট কারখানা নয়, উপমহাদেশের এক সময়ের আরেক ঐতিহ্যবাহী কারখানা কর্ণফুলী কাগজ কলও এখন নেমে এসেছে লোকসানের ধারে। কারণ মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে কয়েক বছর আগেই। ফলে কোন রকমে বাঁচিয়ে রাখতে যেতে হচ্ছে সরকারে কাছে। বিসিএসের হিসেবে কর্ণফুলী কাগজ কলে সব শেষ অর্থ বছরে লোকশান গুণতে হয়েছে ৬৮ কোটি টাকার বেশি।

পরিকল্পনার কমিশনের (সিনিয়র সচিব) সদস্য ড. শামসুল আলম বলেন, কারখানাগুলোতে লাভ জনক অবস্থানে আবশ্যই রাখতে হবে। তারপরেও এই প্রতিষ্ঠাগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে বলে তিনি জনান। তিনি আরো বলেন, এরই মধ্যে কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান আছে যারা ব্যাপক হারে প্রতিযোগীতার মাধ্যমে আসে। সে কারণে সরকার হয়তো হাত গুটিয়ে নিতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

পিআরআই এর ভাইস চেয়ারম্যান ড. সাদিক আহমেদ বলেন, লিমিটেড বাজার থেকে যদি আমাদের ভর্তুকি দিতে হয় তাহলে অর্থনৈতিক অবস্থা অনেক খারাপের দিকে যাবে।

বাংলাদেশ রসায়ন ও শিল্প সংস্থার অধীনে চালু থাকা ১১ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৯টিতেই গুণতে হচ্ছে মোটা অংকের লোকসান। এর মধ্যে সব চেয়ে বেশি ছিলো শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানীর প্রায় ২৪০ কোটি টাকা। এর পরে আছে ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানী যার লোকসান ১৪০ কোটি টাকা। এছাড়া ১০০ কোটি টাকার লোকসান গুণতে হয়েছে চট্টগ্রামের ইউরিয়া ফ্যাক্টরিকে। সব মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোতে লোকসানের মোটা অংক দাড়িয়েছে ৬৮৮ কোটি টাকা। অথচ বিনিয়োগ বা লাভজনক করার লক্ষ নিয়ে সুস্পষ্ট কোন পরিকল্পনা নেই সরকারের।

ড. শামসুল আলম বলেন, সরকারি পর্যায়ে লাভ করা খুব কঠিন। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ব্যবসা মানে ঝুঁকি নেয়া। ব্যবসা ব্যবস্থাপনায় শিল্প কারখানার যথাযথভাবে ও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে পরে বলে তিনি জানান।

ড. সাদিক আহমেদ বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলোতে সরকার যখন দেখবে আর সামলানো যাবে না। তখন আর এই সব প্রতিষ্ঠানগুলোক এদিক সেদিক করে আর কোন লাভ নেই।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় একমাত্র সম্পদগুলোকে এখনই সংস্কার করা না হলে ভবিষ্যতে সৃষ্টি হতে পারে গুরুতর সমস্যা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ