প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সন্তানদের আইটি শিক্ষার পিছনে টাকা ব্যয় করতে হবে

সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম : কম্পিউটার শেখার কোনো বিকল্প নেই। কম্পিউটার না শিখলে চলবে না। আমাদের যত বেশি কম্পিউটারে দক্ষ জনগোষ্ঠী থাকবে, ততই আমরা বলতে পারব যে, আমাদের দেশটা অন্যতম প্রতিভাবান দেশ। যে কোনো দেশে উন্নতির পূর্ব-শর্ত হচ্ছে, কম্পিউটার শিক্ষায় শিক্ষিত জনগোষ্ঠী। কম্পিউটার বলতে ইনফরমেশন টেকনোলজি বা তথ্যপ্রযুক্তি এবং তার সাথে যা যা অন্তর্ভুক্ত বা প্রযুক্তিগতভাবে জড়িত আছে। সবকিছুতেই আমাদের হস্তগত থাকতে হবে। শুধু কম্পিউটার শিখলেই চলবে না।

এটার মালিকানায়ও আমাদের আসতে হবে। যত বেশি সংখ্যক দক্ষ প্রযুক্তিবিদ আমরা তৈরি করতে পারব, ততই আমাদের উন্নতি হবে। এজন্য স্কুল পর্যায় বা একেবারেই মৌলিক পর্যায় থেকে আমাদরে এই শিক্ষাটা শুরু করতে হবে। সরকার এই অবস্থাটা বিবেচনা করেই উদ্যোগটা নিয়েছেন। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে তিনটি, আমাদের বাজেট বরাদ্দ শিক্ষার ক্ষেত্রে খুবই কম। এই দিক থেকে এশিয়ার মধ্যে বরাদ্দ জিডিপি যদি আমি ধরি, বাজেট বরাদ্দ নেপালেরও কম।

 

যার জন্য আমাদের দেশে এই ধরনের বড় প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে খুবই সমস্যা হয়। দ্বিতীয় সমস্যা হচ্ছে, যে বিষয়টি নিয়ে আমি কথা বলছি, এটা বাধ্যতামূলক করলেই তো চলবে না, এটার একটা ফলাফল দরকার। এটা তো এমন বিষয় না যে, ভূগোলের শিক্ষকের মতো ইতিহাস পড়াতে পারবে না। অনেক স্কুলে দেখা যায়, ইতিহাসের শিক্ষক ইংরেজিও পড়াচ্ছেন। এটা সেরকম না, এটা হাতে কলমে শেখাতে হবে। হাতে কলমে শেখাবার জন্য শিক্ষক যেমন দরকার, তেমনি ল্যাবরটরিও থাকা দরকার। যেখানে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত কম্পিউটার শিখবে। বাজেট বরাদ্দ না থাকলে স্কুলের মধ্যে এই ধরনের কোথায় ল্যাবরেটরি থাকবে, কোথায় কম্পিউটার থাকবে? পর্যাপ্ত সংখ্যক থাকতে হবে। না হলে প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রী শিখতে পারবে না। এমন নয় যে, দশজন শিখবে, বিশজন শিখবে না।

আমরা প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রীকে যখন শিখাতে যাব, তখন আমাদের পর্যাপ্ত পরিমাণ কম্পিউটার থাকতে হবে, দক্ষ শিক্ষক থাকতে হবে। এর রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা থাকতে হবে। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে, দক্ষ শিক্ষক থাকতে হবে। আমাদের কর্তৃপক্ষের বড়ই অভাব। যদি আমরা বাধ্যতামূলক করি যে, কম্পিউটার শিখতে হবে। তাহলে আমাদের প্রশিক্ষক যে প্রয়োজন তা জানা দরকার। আমাদের দেশে ভগ্নাংশ পরিমাণ প্রশিক্ষক আছে মাত্র।

এজন্য বেশি ক্ষতি হয় গ্রামের স্কুলগুলোতে। কারণ, শহরে কম্পিউটার শেখানোর জন্য প্রচুর প্রশিক্ষক পাওয়া যায়। কিন্তু গ্রামে সেই পরিমাণে প্রশিক্ষক নেই। ঢাকা শহরের মতো জায়গায় শিক্ষক না থাকলেও বাইরে থেকে নিয়ে আসা যায়। তাই আমাদের শুধু শহরের দিকটা চিন্তা করলেই চলবে না। আমাদের দেখতে হবে শহরের সাথে সাথে গ্রামের ছাত্র-ছাত্রীরা শিখতে পারছে কি-না? এটা সরকারের চিন্তাভাবনা করা উচিত। না হলে আমাদের যে প্রকল্প সেটা সঠিকভাবে কার্যকর হবে না।

প্রশিক্ষক ব্যবস্থা করার পরে, তাদেরও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। কারণ, কম্পিউটার এমন এক জিনিস, যেটা এক বছর পরপরই আপডেট হয়। যেমন: মোবাইল ফোনের ক্ষেত্রে দেখা যায়, চার বছর আগের ফোনগুলো এখন আর চলে না। এখনকার স্মার্টফোনগুলো দেখেন, যদি ফোর জি চালু হয় এগুলো কিন্তু অচল হয়ে যাবে। তাই কম্পিউটার প্রশিক্ষকদেরও ক্রমাগত প্রশিক্ষণ দিতে হবে। সে ব্যবস্থাগুলো না নিলে আমাদের এই ভালো উদ্যোগগুলোর কোনো সুফল আসবে না। আর একটা ব্যাপার হচ্ছে, শুধু আমাদের সন্তানদের কম্পিউটার শেখালেই হবে না। এটার ভাল দিক, খারাপ দিকগুলোও দেখতে হবে।

বহু আগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটা উদ্যোগ নিয়েছিলেন, ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে কম টাকায় ল্যাপটপ দেওয়ার জন্য। দুঃখের বিষয় সামান্য কিছু দিয়ে আর দেওয়া হয়নি। সরকার যদি সত্যি সত্যি উদ্যোগী হয়, তাহলে বাজেট বাড়াতে হবে।

বাজেট না বাড়ালে এই খরচে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তাই সরকারের একটা টার্গেট থাকতে হবে যেন আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সমস্ত স্কুলে পর্যাপ্ত পরিমাণের কম্পিটার এবং প্রশিক্ষক ব্যবস্থা করা যায়। সাথে সাথে পরিবারগুলোকেও উদ্যোগ নিতে হবে। সন্তাদের আইটি শিক্ষার পিছনে টাকা ব্যয় করতে হবে। আবার বাবা-মায়েদের খেয়াল রাখতে হবে, সন্তানরা কি করছে না করছে এবং স্কুল বা কলেজে যেখানে কম্পিউটার শেখানো হবে, সেখানে ফেসবুকসহ নানা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলো ব্লক করে দিতে হবে। দিনের বেলা যেন তারা এই অ্যাপগুলো ব্যবহার না করতে পারে।

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি এটা করে থাকে। কারণ, এগুলো আমাদের সময় বিনষ্টকারী, পড়া-শোনার সময়টা নিয়ে নেয়। তাই এই অ্যাপগুলো ব্লক না করলে ছাত্র-ছাত্রীরা কিছু না শিখে বসে বসে গেইমস করবে, ফেসবুক চালাবে। সুতরাং এসব বন্ধ করে শুধু পড়াশোনার জন্য কম্পিউটার দিতে হবে।

পরিচিতি : শিক্ষাবিদ
মতামত গ্রহণ : গাজী খায়রুল আলম
সম্পাদনা : মোহাম্মদ আবদুল অদুদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ