প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মিয়ানমার বছরের পর বছর পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলোর বিভিন্ন চাপ উপেক্ষা করেছে: জাতিসংঘের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি

নাসরিন বৃষ্টি: মিয়ানমারের রাখাইন সহিংসতা বন্ধ, সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের দেশে ফিরিয়ে নেওয়া এবং তাদের বর্মী নাগরিত্ব দেয়ার দাবিতে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে আজ এক প্রস্তাবের ওপরে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। ওআইসি দেশগুলোর ব্যানারে মিশর, সৌদি আরব এবং তুরস্ক এই প্রস্তাবের খসড়া প্রদান করেছে। আলোচনায় অগ্রগতি হলে এই নিয়ে ভোট হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে। জাতিসংঘের সাধারণ কাজের পরিধি নিয়ে বাংলাদেশের জাতিসংঘের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ কে আবদুল মোমেন বিবিসির সাক্ষাৎকারে কথা বলেছেন।

ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেন, জাতিসংঘের জেনারেল পরিষদের ৬টি কমিটি রয়েছে। সেই কমিটিতে সাধারণ আলোচনা করা হয় এবং খুব দরকারি আলোচনা হলে কমিটি থেকে বাইরে এসে জাতি সংঘের সাধারণ পরিষদের (ইউএনজি)  এসেম্বলিতে আলোচনা করা হয়। হিউমেন রাইটস গ্রুপ হলো থার্ড কমিটি, সেখানে ওআইসি দেশগুলোর মধ্যে সৌদি আরব এবং কিছু দেশের সাথে আলোচনা হবে, সমঝোতা হবে।

সমঝোতা হবে রেজুলেসনের ট্যাক্সের ওপর। তারপর এটা ইউএনজিতে আসে আবার অনেক সময় সরাসরি ইউএনজিতে নিয়ে আসি। ইউএনজিতে যদি প্রস্তাবটা পাস হয় তাহলে ইস্যুটি নিয়ে বিশ্ববাসী যে উদ্বিগ্ন, তার নিশানা পাওয়া গেল। তাহলে, এই ক্ষেত্রে মিয়ানমার চাইলে বিষয়টিকে উপেক্ষা করতে পারবে। তবে, বিলটি  যদি পাস হয় তাহলে জাতি সংঘের যতগুলো সংগঠন আছে সবগুলোর ওপরে রেজুলেসনের বক্তব্যটা প্রাধান্য পাবে। সেই জন্য আবার রেজুলেসনের মধ্যে থাকতে হবে।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের পরে বিষয়টিকে নিরাপত্তা পরিষদে নিয়ে যাওয়া কী সহজ হয়?

জবাবে তিনি বলেন, নিরাপত্তা পরিষদ যে কোনো প্রস্তাব গ্রহণ করতে পারে এবং বাতিলও করতে পারে। নিরাপত্তা পরিষদে কয়েকজন যে স্থায়ী সদস্য রয়েছে, তারা একজনও যদি আপত্তি দেন তাহলে রেজুলেসন পাস হবে না।

তবে, মিয়ানমারের রোহিঙ্গার ক্ষেত্রে মুসলমানদের  জন্য ভালো কিছু  হবে বলে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। নিরাপত্তা পরিষদে মিয়ানমারে প্রবল সমর্থক দেশ চীন রয়ে গেছে তারা যেকোনো সময় ভেটু দিয়ে দিতে পারে। তারা ভেটু দিলেও ওটা পাস হবে না।

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে বহুবার নিষেধাজ্ঞা হওয়া সত্ত্বেও তারা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চাপ মোকাবেলা করেছে, জাতিসংঘের সাধারণ এই তৎপরতায় তাদের কি কিছু যায় আসে ?

তিনি জবাবে বলেন, মিয়ানমার বছরের পর বছর পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলোর বিভিন্ন চাপ উপেক্ষা করেছে। সবচেয়ে বেশি সমর্থন দিয়েছে চীন এবং বাংলাদেশ ও তাদের সমর্থন দিয়েছে। কিন্তু সব দেশগুলো মিলে যদি একত্রে চাপ প্রয়োগ করে তাহলে তারা আর উপেক্ষা করতে পারবে না।

আনিস/

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ