প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রাজনীতিতে নতুন মোড়
সোহরাওয়ার্দীর উচ্ছ্বাস ছড়াতে তৃণমূল রোডশোতে খালেদা

মাইকেল : ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বার্তা নিয়ে তৃণমূলে ‘রোডশো’ করবেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শুরু করে পরপর তিনটি জনসম্পৃক্ত ‘সফল’ কর্মসূচিতে নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি বেগম জিয়া নিজেও উজ্জীবিত।

তৃণমূলের নেতা-কর্মীরাও চাঙ্গা। তাই তিনি সারা দেশে ‘রোডশো’ করার কথা ভাবছেন। এমনটি নিজেই ঘনিষ্ঠজনদের জানিয়েছেন বেগম জিয়া। দলীয় নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সূত্র জানায়, বেগম জিয়া সংশ্লিষ্টদের বলেছেন, নেতা-কর্মীসহ সর্বস্তরের সাধারণ মানুষের ভালোবাসায় তিনি সামনে নিজের বিপদাপদ নিয়ে ভাবছেন না। এমনকি নিজের মামলার ভবিষ্যৎ নিয়েও চিন্তিত নন। সাধারণ মানুষের ভালোবাসার কাছে এগুলো তুচ্ছ। তাই সাধারণ মানুষের কাছাকাছিই থাকতে চান সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। শারীরিক সুস্থতা আর অনুকূল পরিবেশ পেলে এই শীতে প্রাথমিকভাবে বিএনপি-প্রধান বিভাগীয় পর্যায়ে রোডশো করতে পারেন। এরপর পর্যায়ক্রমে জেলা শহরগুলোয় যাবেন তিনি। এমনকি আসন্ন ছয় সিটি করপোরেশনের দলীয় মেয়র প্রার্থীর পক্ষে ভোটও চাইতে যাবেন। গতকাল বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বিএনপি চেয়ারপরসনের পরপর তিনটি কর্মসূচিসহ সর্বোপরি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বেগম খালেদা জিয়ার বক্তব্যে মানুষ আশার আলো দেখছে। নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও উজ্জীবিত। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যাওয়ার ব্যাপারে বিএনপি ইতিবাচক। তবে এটা নির্ভর করবে সরকারের ওপর। তারা যদি ২০১৪ সালের মতো একটি নির্বাচন চায়, তাহলে তো হবে না। ইনক্লুসিভ নির্বাচন করাতে নির্বাচন কমিশনকে সব ধরনের সহযোগিতা করতে হবে। বিএনপির নীতিনির্ধারকরা মনে করেন, লন্ডন থেকে বেগম খালেদা জিয়া ফেরার পর পরপর তিনটি কর্মসূচিতে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে প্রমাণিত হয়েছে, বিএনপি দেশে এখন সবচেয়ে জনপ্রিয় দল। সর্বশেষ রবিবার ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দলের প্রধান বেগম খালেদা জিয়ার বক্তব্য শুধু নেতা-কর্মীদের উদ্দেশেই ছিল না, এটা ছিল দেশের সর্বস্তরের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার একটি বহিঃপ্রকাশ। এজন্যই শুধু নেতা-কর্মীরা নন, সারা দেশের মানুষই উজ্জীবিত। তারা বিএনপি-প্রধানের ওপর পূর্ণ আস্থা রেখেছেন। বেগম জিয়াও জনগণের আস্থা ও ভালোবাসার সঙ্গেই রয়েছেন। তাই বেগম জিয়ার বক্তব্য ছিল, দেশের মানুষের চাওয়া-পাওয়াকে ঘিরে। জনজীবনের সমস্যাগুলোও উঠে এসেছে তার বক্তব্যে। এসব সমস্যার মূল কারণ হলো একটি নির্বাচিত ও জবাবদিহিমূলক সরকারের অনুপস্থিতি। তাই সব দলের অংশগ্রহণে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট চেয়েছেন। এজন্য তিনি জাতীয় ঐক্যের প্রতিও গুরুত্বারোপ করেছেন। সরকারকে আবারও সংলাপের আহ্বান জানিয়েছেন। সূত্রে জানা যায়, সংলাপের পথ খোলা রেখেই বিএনপি সামনে শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশ করবে। সহিংস কোনো কর্মসূচিতে না যাওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে দলের নীতিনির্ধারকরদের। তৃণমূলের রোডশোগুলোয় নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়াও জনদাবি তুলে ধরবেন বেগম খালেদা জিয়াসহ সিনিয়র নেতারা। এ নিয়ে জনমত তৈরি করা হবে। একই সঙ্গে সরকারের নানা ব্যর্থতার দিকগুলোও তুলে ধরা হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি আদায়ে সর্বোচ্চ চেষ্টার পাশাপাশি ছাড় দেওয়ার ইচ্ছাও রয়েছে দলটির। তবে বিএনপি চায়, নির্বাচন নিয়ে সরকার বিএনপির সঙ্গে একটি সংলাপ-সমঝোতায় আসুক। সরকার যদি সংলাপের দিকে ইতিবাচকভাবে এগিয়ে আসে, তাহলে বিএনপিও সর্বোচ্চ ছাড় দেবে। নইলে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার যে ঘোষণা বেগম জিয়া দিয়েছেন, সেখানেই অনড় থাকবে বিএনপি। দলের স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য জানান, বিএনপিকে বাইরে রেখে আগামী সংসদ নির্বাচন কারও কাছেই গ্রহণযোগ্য হবে না। এই ভুল সরকারও করবে না। কারণ ৫ জানুয়ারির মতো এ দেশে আর কোনো নির্বাচন হবে না, এটা আওয়ামী লীগও মনে করে। তাই বিএনপিকে নির্বাচনে আনতে হলে সরকারকে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। সভা-সমাবেশ ছাড়াও নির্বাচনী প্রচারে সমান সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। আস্থার পরিবেশ পেলেই বিএনপি নির্বাচনে যাবে। সূত্রমতে, সরকার যদি নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে একটি সংলাপের ডাক দেয়, তাহলে বিএনপি সেখানে নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা তুলে ধরবে। আলোচনার টেবিলে আওয়ামী লীগের কাছ থেকে রূপরেখা চাওয়া হবে। উভয় দলের রূপরেখা নিয়ে সন্তোষজনক সমাধানের মধ্য দিয়ে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার ইস্যুর স্থায়ী সমাধান চায় বিএনপি। বিএনপি মহাসচিব বলেন, শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে যাবে না বিএনপি। তার অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন হওয়ার বিন্দুমাত্র সম্ভাবনা নেই। এ কারণেই তা স্পষ্ট করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন। তবে সরকারকে বিএনপি-প্রধান এও বলেছেন, আসুন আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক পন্থা বের করি। এজন্য সরকারকে সংলাপ করতে হবে। দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দল এখন বিএনপি। তাই সংলাপ করতে হবে বিএনপির সঙ্গেই। কথা বললেই একটি পথ বেরিয়ে আসবেই। বেগম জিয়া তৃণমূলে যাবেন কিনা, তা নির্ভর করবে সরকারের আচরণের ওপর। পরিবেশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বেগম জিয়া তৃণমূলে যাবেন, এটাই স্বাভাবিক।

সূত্রে জানা যায়, আসন্ন ছয় সিটি করপোরেশন নির্বাচনকেও বিনা চ্যালেঞ্জে ছেড়ে দেবে না বিএনপি। ছয় সিটিতে জয়ের ধারাবাহিকতা রক্ষায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বিএনপি মনে করে, সিটি নির্বাচনের জয়-পরাজয়ের প্রভাব পড়বে জাতীয় নির্বাচনে। তাই ধানের শীষের পক্ষে জোয়ার আনতে খোদ দলের প্রধান বেগম খালেদা জিয়া নিজেই মাঠে নামবেন। দলীয় প্রার্থীর পক্ষে সর্বস্তরের মানুষের ভোট চাইবেন। পর্যায়ক্রমে দলের কেন্দ্রীয় নেতারাও নির্বাচনী গণসংযোগে অংশ নেবেন। তবে সবকিছুই নির্ভর করবে পরিবর্তিত পরিস্থিতির ওপর। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, বিমানবন্দরে চেয়ারপারসনকে বিপুল সংবর্ধনা থেকে শুরু করে কক্সবাজারসহ ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপির জনসভায় লাখ লাখ লোকের সমাগমে প্রমাণিত হয়েছে, বিএনপি একটি জনপ্রিয় দল। এর একটি ইতিবাচক বার্তা তৃণমূলেও পৌঁছেছে। এ ধরনের কর্মসূচি পর্যায়ক্রমে চলবে। দলের ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান বলেন, পরপর তিনটি জনসম্পৃক্ত কর্মসূচির মাধ্যমে এটা বোঝা গেল, সাধারণ মানুষের সঙ্গে বেগম জিয়ার আস্থা ঠিকই আছে। জনগণের কাছাকাছি গিয়ে তিনি যে ভালোবাসা পেয়েছেন, এটা তিনি ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখবেন বলেই আমার বিশ্বাস। এ দেশে তিনবার প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন তিনি। তাই তিনি বলেছেন, এ দেশই তার ঠিকানা।

সূত্র : বিডি প্রতিদিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ