প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বিস্তারে ছায়াযুদ্ধে লিপ্ত ইরান ও সৌদি আরব

সঞ্চিতা আক্তার ও আলী মোহাম্মদ ঢালী : মধ্যেপ্রাচ্যের দেশগুলোতে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে সৌদি আরব ও ইরারেন মধ্যে গত ৪ দশকের উত্তেজনা দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। ইরাক সিরিয়া ও ইয়েমেনের পর এখন লেবাননকে ঘিরে এই দুটো দেশের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিরোধ। শক্তি প্রদর্শনের লড়াইয়ে ইরান ও সৌদি আরব ইতোমধ্যে অবতীর্ণ থাকলেও তারা কি এখন সরাসরি যুদ্ধ সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছে। কি নিয়ে তাদের মধ্যে এত দ্বন্দ্ব-সংঘাত।  বিষয়টি বিশ্লেষণ করছেন বিবিসির সাংবাদিক পল এডামস।

প্রতিবেদনটি পরিবেশন করেছেন বিবিসি বাংলার সাংবাদিক  মিজানুর রহমান খাঁন। আমাদের সময় ডটকমের পাঠকদের জন্য প্রতিবেদনটি তুলে ধরা হল-

ইসলামের সবচেয়ে পবিত্র দুটো স্থান মক্কা এবং মদিনা সৌদি আরবে। কাজেই সৌদি আরব মনে করে তারা মুসলিম বিশ্বে অবিসংবাদিত নেতা। কিন্তু ১৯৮৯ সালে ইরানে এক ইসলামে বিপ্লবের মধ্যে দিয়ে ক্ষমতায় আসেন আয়াআতুল্লাহ খমেনি। এতে সৌদি আরব খুবই সংরক্ষিত হয়ে পড়ে। তারা দেখতে পায় তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী এক রাষ্ট্রের উত্থান ঘটছে।

বিবিসির পল এডামস বলছেন, সেই প্রতিদ্বন্দ্বীতা এখনও অব্যহত রয়েছে। আজকের দিনের মধ্যে প্রাচ্যর বিস্তৃত এলাকা জুড়ে তেহেরানের প্রভাব আরো অনেক দূর পযর্ন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। ইরাক, সিরিয়া, লেবানন , ইয়েমেন এসব দেশ যেভাবে ইরানের প্রভাব বলয়ে চলে গেছে বা যাচ্ছে তাতে সৌদিরা রীতিমত আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। এর সঙ্গে ইসলামের ভেতরে বহু পুরোনো সেই বিরোধ শিয়া-সুন্নিতো আছেই। সৌদি আরব সুন্নি আর ইরান শিয়া ইসলামের পৃষ্ঠপোষক।

ইয়েমেনে গত কয়েক বছর ধরে চলছে গৃহযুদ্ধ। সৌদি আরব লড়ছে এক পক্ষে অথাৎ সরকারকে সামরিকভাবে সহযোগিতা করছে। অন্যদিকে ইরান হুতি বিদ্রোহীদেরকে সমর্থন দিচ্ছে। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আসাদকে সমর্থন করছে ইরান। সেখানে তারা মিলিসিয়া এবং অস্ত্রসহ পাঠিয়েছেন। কিন্তু সৌদি আরব সমর্থন যুগিয়েছে, তাদের অস্ত্র, অর্থ ও প্রশিক্ষণ সবই দিচ্ছে।

ইরাকে সাদ্দাম হোসেনের পতনের পর সেখানেও ইরানের প্রভাব অনেক বেড়ে গেছে। সম্প্রতি সৌদি আরবও ইরাকে তাদের প্রভাব বাড়ানো সক্রিয় হয়েছে। এখন লেবাননকে ঘিরেও শুরু হয়েছে তীব্র বিরোধ। এই দেশটি এমনেতেই এক জটিল রাষ্ট্র। দেশটিতে শিয়া, সুন্নি এবং খ্রিস্টানদের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষমতার ভারসাম্য খুবই স্পর্শকাতর বিষয়। ইরান বহু বছর ধরে লেবাননের হিজবুল্লাহ দলকে সমর্থন করে আসছে। হিজবুল্লাহ লেবানন সরকারের অংশ। কিন্ত একই সঙ্গে তারা সিরিয়া, ইয়েমেন এবং ইরাকেও লড়াই করছে।

পল এ্যাডাসম বলছেন, যেভাবে ইরান ও হিজবুল্লাহর প্রভাব বাড়ছে তাতে সৌদিআরব রিতিমত আতংকিত। সৌদিআরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। মোটামুটি তিনিই দেশ পরিচালনা করেন। তিনি অভিযোগ করছেন, ইরান মুসলিম বিশ্বে একক আধিপত্ব বিস্তারের চেষ্টা করছে।

অনেকেরই বিশ্বাস সৌদি যুবরাজই আসলে লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরিকে পদত্যাগ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। সাদ হারিরিই রিয়াদ থেকে হঠাৎ পদত্যাগের কথা ঘোষণা করে সবাইকে চমকে দিয়েছেন।

সন্দেহ করা হচ্ছে, সৌদি আরবেই লেবাননের হিজবুল্লাহর সঙ্গে হাত বাড়িয়ে একটা যুদ্ধ বাধাঁতে চাইছে। তাদের উদ্দেশ্য হিজবুল্লাহকে দূর্বল করা এবং ইরানের প্রভাব খর্ব করা।

পল এ্যাডামস বলছেন, যদি যুদ্ধ বাধে তা হবে একটা বিরাট বিপর্যয়। কেউই আসলে মনে করে না এই দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ বাধার আশংকা রয়েছে। কিন্তু মনে রাখতে হবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ইরান, সৌদি আরব কার্যত এক প্রক্সি বা ছায়া যুদ্ধে ইতোমধ্যেই লিপ্ত রয়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ