প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মিয়ানমার সেনারা রোহিঙ্গা নারীদের গণধর্ষণ করেছে: জাতিসংঘ

আনিস রহমান: মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সদস্যরা রোহিঙ্গা নারীদের ব্যাপকহারে গণধর্ষণ করেছে। এমনও অভিযোগ রয়েছে রোহিঙ্গা নারীদের ক্যাম্পে আটকে রেখে উপর্যুপরী ধর্ষণ করেছে সেনারা। জাতিসংঘ মহাসচিবের সংঘাতে যৌন সহিংসতা বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি প্রমিলা প্যাটেন গতকাল রোববার বিকালে ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান।

আন্ডার সেক্রেটারি মর্যাদার জাতিসংঘ মহাসচিবের এই প্রতিনিধি বাংলাদেশ সফরে এসে প্রায় এক সপ্তাহ কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘুরে দেখেন। তিনি সেখানকার নারী ও শিশুদের অবস্থা সম্পর্কে সরেজমিন তথ্য সংগ্রহ করেন। নিউইয়র্কে ফিরে গিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে তিনি রিপোর্ট দেবেন। গতকাল সাংবাদিক সম্মেলনে তার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। এ সময়ে জাতিসংঘ তথ্য কেন্দ্রের ন্যাশনাল ইনফরমেশন অফিসার এম মনিরুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।

বিশেষ প্রতিনিধি প্রমিলা প্যাটেন বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থানরত নারীদের অবস্থা বড়ই করুণ ও মর্মান্তিক। গণধর্ষণ, হত্যা, নির্যাতন, শারীরিক ও মানসিক আঘাত, লুণ্ঠন সবই করে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। সেনারা এমনই নৃশংসতা দেখিয়েছে যে, নারীদের উপর দলে দলে নির্দেশ দিয়ে ধর্ষণ চালিয়েছে। দোষী সেনাদের জবাবদিহিতার আওতায় এনে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যবস্থা নিতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। ক্ষতিগ্রস্তদের এমন সান্ত্বনা দেওয়া দরকার যে তারা একা নন, বিশ্ব বিবেক তাদের সঙ্গে রয়েছে। বাংলাদেশ সরকারও যেন এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মহলের সমর্থন পায়। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে প্রাণের ভয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা নারীদের কাছ থেকে ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির কথা জেনেছি। এক নির্যাতিত নারী জানান, তাকে ৪৫ দিন সেনা ক্যাম্পে আটকে রেখে বার বার ধর্ষণ করা হয়েছে। নির্যাতিত নারীদের দেহে ক্ষত ও নির্যাতনের চিহ্ন দৃশ্যমান। তাদের দেহে ক্ষতচিহ্ন, আঘাতের দাগ, কামড়ের ছাপ রয়েছে যা নির্যাতনের সাক্ষ্য দেয়। নির্যাতন ও ধর্ষণের জন্য সরাসরি দায়ী, নির্দেশদাতা সবাইকে তদন্ত ও জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।

সূত্র: ইত্তেফাক

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত