প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সহায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে আমরা বিপুল ভোটে জয় লাভ করবো

অধ্যাপক মো. ইউনুস : দেশ নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সারাদেশ সফর করবেন। গতকাল তার সম্মেলন ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। অনেক কর্মসুচি দিয়েছেন তিনি। সেগুলো বাস্তবায়ন করবেন নেতা-কর্মীরা। সেদিন সকাল সাড়ে দশটার সময় গুলশান বাসভবন থেকে দেশনেত্রী রওনা হয়েছিলেন। সেখান থেকে শুরু করে পুরো রাস্তায় উনাকে ব্যারিকেড সৃষ্টি করা হয়েছে। আমরা কুমিল্লার নিমসার অবস্থান করছিলাম। আমাদের অনেক নেতা কর্মী ছিল কিন্তু পুলিশ সেখানে অবস্থান করতে দেয় নাই। উনি চারটার দিকে নিমসার পৌছান। ম্যাডাম সেখানে থামে নাই। না থামলেও মানুষ যে কত উজ্জীবিত হয়েছে, কত অনুপ্রাণিত হয়েছে, ম্যাডামের এই সফরকে কেন্দ্র করে, সেটা বলে বুঝানো যাবে না।
আক্রান্ত হয়েছেন নিজ এলাকায় যেখানে রয়েছে উনার বাবার বাড়ি। সেখানে উনি যদি মনে করেন প্রত্যেকটা আসনে দাড়াবেন শুধু ফেনী নয় , গোপালগঞ্জ যেখানে শেখ হাসিনার বাসা, উনি সেখান থেকে দাড়ালেও বিপুল ভোটে উনি নির্বাচিত হবেন। উনাকে ফেনীতে যাওয়ার পথে আক্রমন করেছে। ক্যামেরা ভাঙচুর করছে। গাড়ী ভাঙচুর করছে , লাঞ্ছিত করছে। তারপরেও উনি কিন্তু দমে নাই। সেভাবেই সেখানে গেছেন। ফেরার পথেও একইভাবে আওয়ামী লীগের দলীয় ক্যাডারদের দিয়ে বাস পুড়িয়ে দিয়ে আমাদের দলের নেতা কর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। ম্যাডামের সফরে বিএনপির লোকেরা এই সমস্ত অপকর্ম করবে না। করতে পারে না। একথা বলা অবান্তর। আমরা সবাই নিরাপত্তা চাই। এই সফরটা অত্যন্ত ফলপ্রসু হতো। উনি যে উদ্দেশ্যে গিয়েছেন সেটা সফল হয়েছে। বিশ্ববাসী জানছে। উনি একজন সাবেক প্রধান মন্ত্রী হয়ে যে সমস্ত রোহিঙ্গা বাচ্চাদের কোলে নিয়ে আদর করছে। এটা তো সবচেয়ে বড় পাওনা আমি মনে করি। উনি জনগনের স্বার্থে রাজনীতি করেন। দেশবাসীর জন্য রাজনীতি করেন। এটাই প্রমানিত হয়েছে এই সফরে। আগামীতেও একই ভাবে ম্যাডাম যখনই যেখানে যাবেন আমাদের দলীয় নেতা কর্মী আগে সেখানে পৌঁছাবে। প্রতিটি জেলায় কমিটি আছে। সাবেক এমপি যারা আছেন, যারা এই দলের হয়ে নির্বাচন করেছেন, তারা যে অবস্থানে আছেন, তাদেরকে দাওয়াত দেন। রাজনীতিতে এখন দেখছি কিছু কিছু ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতি। আরেকজন ব্যক্তি রাজনীতি করুক, মাঠে থাকুক তারা সেটা চায় না। যখন ক্ষমতায় ছিলাম সুখে দুখে মানুষের পাশে দাড়িয়েছি। এখনো দাড়াই। আমার রাজনীতি করা কেউ বন্ধ করতে পারবে না। কোনো ব্যারিকেড দিয়ে আমাকে বেঁধে রাখা যাবে না। আমরা চাই একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন। সহায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হোক, এটা আমাদের প্রত্যাশা। নির্বাচন কমিশন এব্যাপারে পদক্ষেপ নেবেন। আওয়ামী লীগ একটি ভালো দল। গায়ের জোরে ক্ষমতায় বসে আছে। বিভিন্ন রকমের আইন কানুন করতেছে। সংসদে তারাই আছে। আমরা বিশ্বাস করি, আগামী দিনে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ যদি ক্ষমতায় থাকে, জনগন তবুও বিএনপিকে ভোট দেবে । আমরা আবার ক্ষমতায় যাবো। জাতিসংঘ সহ প্রতিবেশি রাষ্ট্র সবাই চায় বাংলাদেশে একটি সুন্দর নির্বাচন হোক। আমাদের সহযোগিতা করার জন্য তারা কথা দিয়েছেন। আমরা বিশ্বাস করি, জাতিসংঘের সহযোগিতায় সহায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে আমরা বিপুল ভোটে জয় লাভ করবো।
আমরা নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করবো। আমরা রাজনীতি করছি অনেক আগে থেকেই। ৬২ সাল থেকে রাজনীতি করি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের ক্রীড়া সম্পাদক ছিলাম। শহীদুল্লাহ হল ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলাম। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। আমি গর্ব করে বলতে পারি, মুক্তিযুদ্ধের সময়ে আমি যে বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নিয়েছি, আমার যেটা করার আমি করেছি। অনেকে বলেন, বিএপিতে নাকি মুক্তিযোদ্ধা নেই । বিএনপিতে অনেক মুক্তিযোদ্ধা আছে।
পরিচিতি : সাবেক সংসদ সদস্য, বিএনপি
মতামত গ্রহণ: মোহাম্মদ আবদুল অদুদ
সম্পাদনা: আশিক রহমান

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ