প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জাতীয় পরিচয়পত্র নিতে গিয়ে বিদেশি আটক

ডেস্ক রিপোর্ট: যুবকটির নাম জীবন মণ্ডল দাস। বয়স ৩০ বছর।

নারায়ণগঞ্জ থেকে গত ১৫ অক্টোবর তাঁর নামে পাসপোর্ট ইস্যু হয়েছে। তাতে ঠিকানা ঢাকার যাত্রাবাড়ী দক্ষিণ মাতুয়াইলের। কিন্তু গতকাল রবিবার ভোটার হতে ও জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করতে গিয়ে তিনি আটকে গেলেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জেরার মুখে জীবন মণ্ডল বাংলাদেশি নন, তিনি বিদেশি নাগরিক এমন সন্দেহ তীব্র হয়েছে। এ অবস্থায় তাঁকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, জীবন মণ্ডল ঢাকার মাতুয়াইল ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সনদ সংগ্রহ করেছেন। গত ১০ আগস্ট দেওয়া সনদে তিনি ওই এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা এবং বাবা সদানন্দ মণ্ডলের ওয়ারিশ হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রাশেদ আলী স্বাক্ষরিত সনদে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আক্তার হোসেনকে তদন্তকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। জীবন মণ্ডলের সংগ্রহে রয়েছে এ দেশের জন্ম নিবন্ধন সনদ।

সব কিছু থাকলেও জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করতে গিয়েই ঘটেছে বিপত্তি।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ভোটার হতে ও  জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করতে গতকাল নির্বাচন কমিশনে যান জীবন মণ্ডল। নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয় (এনআইডি) নিবন্ধন অনুবিভাগের কর্মকর্তাদের জেরায় তিনি বাংলাদেশের নাগরিক, তা জোর দিয়ে বলতে পারেননি। মোবাইল ফোনের নম্বর জানতে চাইলে তিনি দেন একটি ভারতীয় ফোন নম্বর (৮০৩৮৯১২৫৬১)। পেশা জানাতেও তিনি গড়িমসি করতে থাকেন। একবার বলেন কিছু করি না, আবার বলেন সমুদ্রে মাছ ধরি। তাঁর বাংলা উচ্চারণ বাংলাদেশের কোনো এলাকার সঙ্গে না মেলায় তীব্র হয় সন্দেহ। চুলচেরা বিশ্লেষন চলতে থাকে তার কাগজপত্র নিয়ে। নির্বাচন কমিশনের কাছে লেখা তার ভোটার অন্তর্ভুক্তি ও এনআইডির জন্য আবেদন পত্রে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদপ্তরের একজন ফিল্ড অফিসারের সুপারিশও পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে সন্দেহ দূর না হওয়ায়  জীবন মন্ডলকে গতকাল বিকলে শেরেবাংলা নগর থানায় সোপর্দ করা হয়।

এ বিষয়ে  এনআইডি উইং-এর পরিচালক যুগ্ম সচিব ( চলতি দায়িত্ব) আব্দুল বাতেন কালের কণ্ঠকে বলেন, এ ধরণের ঘটনা এই প্রথম। যুবকটি বিদেশি নাগরিক বলে আমাদের ধারনা। আমরা পুলিশকে বিষয়টি নিয়ে মামলা গ্রহণ করতে বলেছি।

যোগাযোগ করা হলে শেরেবাংলা নগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত ) সোহরাব হোসেন গতকাল রাতে বলেন, এনআইডি উইংয়ের অভিযোগটি তদন্ত করে মামলা গ্রহণের কার্যক্রম চলছে। যুবকটির বাংলাদেশী পাসপোর্ট ও জন্ম সনদ আছে। কিন্তু আমদের  প্রাথমিক ধারণা তার বাড়ি কলকাতার আলিপুরে।

এদিকে জীবন মন্ডলের পাসপোর্টে জরুরী যোগাযোগ হিসেবে তার স্ত্রী সঞ্চিতা মন্ডলের  নাম  উল্লেখ রয়েছে। সঞ্চিতা মন্ডলের ঠিকানাও যাত্রাবাড়ীর দক্ষিণ মাতুয়াইল। ওই নাম ঠিকানার সাথে বাংলালিংকের একটি মোবাইল নম্বর দেওয়া আছে। কিন্তু গতরাতে সে নম্বারে যোগাযোগ করলে কথা হয় ঢাকার খিলগাঁওয়ের বাসিন্দা হিসেবে পরিচয়দানকারী জহর লালের সাথে। তিনি দাবি করেন জীবন মন্ডল দাস তার ভাগ্নে এবং সে বাংলাদেশী। জহরলাল শেরেবাংলা নগর থানাতেই অবস্থান করছেন বলে জানান। কালের কণ্ঠ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ