প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

টুকুর সঙ্গে আলোচনায় সাইয়িদ, বিএনপির পাশে নীরব জামায়াত

ডেস্ক রিপোর্ট : ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগে কোন্দল, আঞ্চলিকতা ও জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসি—এসব ঘটনার কারণে পাবনা-১ (সাঁথিয়া ও বেড়ার আংশিক) আসনটির ব্যাপারে কৌতূহল রয়েছে। জাতীয় সংসদের ৬৮তম এ আসনে স্বাধীনতার পর থেকে নবম সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা মন্ত্রী হয়েছেন।

নির্বাচনী এলাকার মধ্যে সাঁথিয়া পৌরসভা ও ১১টি ইউনিয়নে ভোটার সংখ্যা দুই লাখ ৬৫ হাজার ৫৮২ জন এবং বেড়া পৌরসভা ও পাঁচটি ইউনিয়নে ভোটার সংখ্যা এক লাখ আট হাজার ৫৩৪ জন।

ভোটের দিক থেকে এ নির্বাচনী এলাকার বেড়া অংশটি সাঁথিয়ার তুলনায় এক-তৃতীয়াংশ হলেও বিগত সময়ে বেড়া এলাকারই উন্নয়ন হয়েছে বেশি। উন্নয়নসহ নানা বৈষম্যের কারণে দীর্ঘদিন ধরে সাঁথিয়া ও বেড়ার সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ভেতরে ভেতরে এক ধরনের দ্বন্দ্ব চলে আসছে। এবার তা প্রকাশ্যে রূপ নিতে যাচ্ছে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। সাঁথিয়ার প্রবেশদ্বার এবং সবচেয়ে বড় হাট সিঅ্যান্ডবি চতুর হাট বেড়ার অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় সাঁথিয়াবাসী নিজেদের বঞ্চিত ভাবে। এসব কারণে সাঁথিয়া উপজেলাকে একক নির্বাচনী এলাকা করার জন্য ওই এলাকার মানুষ মরিয়া হয়ে উঠেছে। এই নির্বাচনী এলাকায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে অভ্যন্তরীণ কোন্দল দীর্ঘদিনের। বিএনপি তাদের কোন্দল অনেকখানি কমিয়ে আনলেও আওয়ামী লীগে প্রায়ই ছোট-বড় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। আগামী সংসদ নির্বাচন ঘিরে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার টানিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন।

কেউ কেউ ফেসবুকের মাধ্যমেও নির্বাচন করার আগ্রহের কথা জানাচ্ছেন। সাধারণের মধ্যে আগামী নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা চলছে।

আওয়ামী লীগ : এ আসনটিতে আওয়ামী লীগে বরাবরই ছিল দলটির একসময়ের দাপুটে নেতা বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়িদের একক আধিপত্য। ওয়ান-ইলেভেনের (২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ক্ষমতা গ্রহণ) সময় আবু সাইয়িদ সংস্কারপন্থী হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন। সেই কারণে নবম সংসদ নির্বাচনে তিনি দলের মনোনয়ন পাননি। ওই সময় কপাল খুলে যায় শামসুল হক টুকুর। ওই নির্বাচনে পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক টুকু জামায়াতের তখনকার আমির মতিউর রহমান নিজামীকে পরাজিত করে বিজয়ী হন। তিনি আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি এবং পরে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হন। ২০১৪ সালে দশম সংসদ নির্বাচনে আবার দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পান। দলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে প্রার্থী হন আবু সাইয়িদ। তবে তিনি টুকুর কাছে পরাজিত হন। এর আগে এ আসন থেকে ১৯৭০ ও ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আবু সাইয়িদ বিজয়ী হয়েছিলেন।

আগামী নির্বাচনে শামসুল হক টুকু ও আবু সাইয়িদ দুজনই আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী। এ ছাড়া সাঁথিয়া উপজেলা পরিষদের তিনবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন ও বর্তমান সভাপতি আবদুল্লাহ আল মাহমুদ দেলোয়ার মনোনয়ন চাইতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে।

বর্তমান সংসদ সদস্য শামসুল হক টুকু জানান, তিনি তাঁর নির্বাচনী এলাকায় ব্রিজ-কালভার্ট, রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ-মাদরাসার ভবন নির্মাণসহ এলাকায় নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড করেছেন। আগামী নির্বাচনেও তিনি প্রার্থী হওয়ার ব্যাপারে আশা প্রকাশ করেন।

আবু সাইয়িদ জানান, তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৬৪ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের পর থেকেই তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। দুইবার সংসদ সদস্য হয়ে তিনি তাঁর নির্বাচনী এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ, রাস্তাঘাট নির্মাণসহ নানা উন্নয়ন কাজ করেছেন। এ ছাড়া স্থানীয় নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন করেছেন দাবি করে জানান, একাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ব্যাপারে তিনি আশাবাদী।

বিএনপি : সংসদের বাইরে থাকা বিএনপি থেকে যাঁরা মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন বলে আলোচনা হয়েছে, তাঁরা হলেন সাবেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী মেজর (অব.) মনজুর কাদের, বিএনপির সহযোগী সংগঠন তাঁতী দলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ও ব্যবসায়ী ইউনুস আলী, উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও বিএনপি সমর্থক বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কর্মজীবী দলের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা সালাহউদ্দিন খান। মনজুর কাদেরের নির্বাচনী এলাকা সিরাজগঞ্জের চৌহালী। তবে তিনি এ আসন থেকে একবার নির্বাচন করেছিলেন বলে আবার এখান থেকে প্রার্থী হতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে।

তবে এ আসনে বিএনপি না জামায়াত প্রার্থী মনোনয়ন পান তা দেখতে আরো সময় লাগবে।

তাঁতী দলের নেতা ইউনুস আলী বলেন, ‘এলাকার জনগণের সঙ্গে সব সময় যোগাযোগ রেখে রাজনীতি করি। এখানে একটি এতিমখানা ও হাজি কিসমত আলী ফ্রি ফ্রাইডে চিকিৎসা চালু করেছি। এ ছাড়া নিজ উদ্যোগে এলাকায় বিভিন্ন মসজিদ ও গরিব মানুষের মেয়ের বিয়েতে আর্থিক সহযোগিতা দিয়ে আসছি। মানুষের কল্যাণে কাজ করার বাসনায় আমি এ আসন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশা করছি। ’

জামায়াত : মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসি হওয়া জামায়াতের সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামী এ আসন থেকে ১৯৯১ ও ২০০১ সালে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। জামায়াতের লোকজন এখনো আসনটিকে দলটির ঘাঁটি মনে করে। দলের নেতৃত্ব প্রকাশ্যে কিছু না বললেও আগামী নির্বাচনে জোটের প্রার্থী হিসেবে নিজামীর ছেলে ব্যারিস্টার নাজিম মমিন অথবা বেড়া উপজেলা জামায়াতের আমির ডা. আব্দুল বাসেত খান মনোনয়ন চাইতে পারেন বলে জানা গেছে।

জাতীয় পার্টি : আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বাইরে এ আসনে জাতীয় পার্টির মনোনয়নপ্রত্যাশী দলটির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান সরদার শাহজাহান। তিনি জানান, ১৯৭৪ সালে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের যুগ্ম দপ্তর সম্পাদক ছিলেন তিনি। ১৯৭৫ সালের জানুয়ারি মাসে তিনি কারাবন্দি হন। তাঁকে ১২ বার কারাগারে পাঠানো হয়। একপর্যায়ে তিনি জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টিতে (জাগপা) যোগ দেন এবং দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক হন। রাজনৈতিক জীবনে এলাকার উন্নয়নে নানা কর্মকাণ্ড চালিয়েছেন জানিয়ে সরদার শাহজাহান বলেন, তিনি আগামী নির্বাচনে দল থেকে প্রার্থী হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। কালের কণ্ঠ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত